
ডেস্ক রিপোর্ট: সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকন এক মামলায় এক আইনজীবীর ওপর পাঁচ লাখ টাকা খরচা (কস্ট) আরোপের বিষয়টি উপস্থাপনের একপর্যায়ে এজলাস ছেড়েছেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার পর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এক নম্বর এজলাসে এ ঘটনা ঘটে।
পরে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের বলেন, সকালে আপিল বিভাগের এক নম্বর আইটেমে একটি মামলায় মহিলা আইনজীবীর ওপর কস্ট (খরচা) দেওয়া হয়েছে। পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা।
১৩ নম্বর মামলা (আইটেম) শেষ হওয়ার পর আমি প্রধান বিচারপতিকে বিনয়ের সঙ্গে বললাম, আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর আপিল বিভাগে মামলা খুব একটা হচ্ছে না। আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে।
একজন জুনিয়র আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা কস্ট দেওয়া অনেক বেশি হয়ে গেছে। তাকে মাফ করে দেন।
তখন তিনি বললেন, আমি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে? আমি তখন বললাম, ইনকাম ওই সেন্সে কমে গেছে… আমি বোঝাতে চেয়েছি, আগে আপিল বিভাগে ১১ জন বিচারপতি ছিলেন। তিনটি বেঞ্চ ছিল। এখন একটি বেঞ্চ। একটি মামলা স্টে হলে সেখানে শুনানি করতে পারছি না। এমনকি চেম্বার জজে স্টে করছে, এটা হিয়ারিং করতে এক বছর লাগে।
মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, সেখানে কেন কোনো মেনশন করা যায় না? কেন এই মামলাটা উপরে ছিল (কজলিস্টে), নিচে গেলে কেন মেনশন করা যায় না? যেহেতু একটি বেঞ্চ, মানুষ দীর্ঘদিন থেকে ন্যায়বিচার পাচ্ছে না, মামলা শুনানি করতে পারছে না। মামলা হলে আইনজীবীদের ইনকাম হবে। কম হোক, বেশি হোক। আমি খুব বিনয়ের সঙ্গে বললাম। আমি চিন্তা করিনি যে উনি এত রিঅ্যাক্ট করবেন। ওনারা তো রাগ-অভিমানের ঊর্ধ্বে বিচার করার কথা। আর আইনজীবীদের প্রতিনিধি হিসেবে আমার অবলিগেশন আছে। ওনার কাছে আইনজীবীদের পক্ষে আবেদন করার।
মাহবুব উদ্দিন খোকনের বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এজলাস ছেড়ে চলে যান। এরপর আর আদালত বসেননি বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সূত্র।
মন্তব্য করুন