
হাবিবুর রহমান সোহাগ: বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) আধুনিক গানের ‘উচ্চ’ শ্রেণীর সংগীতশিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন সাতক্ষীরার বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী আবু আফ্ফান রোজবাবু।
দীর্ঘদিনের সংগীতচর্চা, মেধা ও শিল্পীসত্তার স্বীকৃতি হিসেবে বিটিভির গ্রেডেশন/পুনর্মূল্যায়ন নীতিমালা অনুযায়ী তাকে ‘ক’ শ্রেণী থেকে ‘উচ্চ’ শ্রেণীতে উন্নীত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের কন্ট্রোল/প্রোগ্রাম ম্যানেজার (সংগীত) ও গ্রেডেশন/পুনর্মূল্যায়ন কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ মনিরুল হাসান স্বাক্ষরিত পত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যমান গ্রেডেশন/পুনর্মূল্যায়ন নীতিমালা অনুযায়ী বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে আধুনিক গানের সংগীতশিল্পী আবু আফ্ফান রোজবাবুকে ‘ক’ শ্রেণী থেকে ‘উচ্চ’ শ্রেণীতে উন্নীত করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুরের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আবু আফ্ফান রোজবাবু। তিনি মরহুম শেখ হামিদুর রহমান ও ছকিনা রহমানের সন্তান। এক ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগ থেকে শিল্পীজীবনে পথচলা শুরু হয় তার।
আবু আফ্ফান রোজবাবু বাংলাদেশ বেতারের স্পেশাল গ্রেডের সংগীতশিল্পী ও মিউজিক প্রডিউসার। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের উচ্চ শ্রেণীর সংগীতশিল্পী, উপস্থাপক ও অভিনেতা হিসেবে কাজ করছেন।
বিটিভির উল্লেখযোগ্য প্যাকেজ নাটক ‘বিনিময়ে তুমি’-তে নায়ক চরিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। ওই নাটকে তার বিপরীতে অভিনয় করেন তানিয়া রহমান। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির তালিকাভুক্ত সংগীতশিল্পী।
দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মঞ্চে সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সাতক্ষীরা তথা বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরছেন এই গুণী শিল্পী।
১৯৯৯ সালে মাদার তেরেসা মঞ্চ পদক, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পদক অর্জন করেছেন এই গুণী শিল্পী । এছাড়া ২০১২ সালে সমগ্র বাংলাদেশের মধ্যে গণসংগীতে দ্বিতীয় স্থান অর্জনের গৌরবও রয়েছে তার।
আবু আফ্ফান রোজবাবুর ২১টি একক ও যৌথ আধুনিক গানের অ্যালবাম রয়েছে। ২০২৬ সালে তিনি আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক গুণীজন সম্মাননায় ভূষিত হন।
বর্তমানে দেশের পাশাপাশি দেশের বাইরের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলেও লাইভ অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করছেন তিনি।
‘উচ্চ’ শ্রেণীর এই স্বীকৃতি প্রসঙ্গে আবু আফ্ফান রোজবাবু বলেন, আমাকে ‘উচ্চ’ শ্রেণীর শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে সাতক্ষীরাবাসীর দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করছি।
মন্তব্য করুন