
ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরার তালায় মেয়েকে কুপ্রস্তাব দেওয়া ও এর প্রতিবাদ করায় মারধরের শিকার হয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো সুরহা না পাওয়ার মধ্যেই কলেজছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তালা থানা পুলিশের চরম গাফিলতি ও নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ধুলান্ডা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে কলেজ ছাত্রী নীলা খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহউদ্ধার করা হয়।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কলেজে যাতায়াতের পথে নিলা খাতুনকে কুপ্রস্তাব ও উত্ত্যক্ত করে আসছিল প্রতিবেশী রকি শেখ (২৪), শোয়েব মালী (১৮) ও ইমন শেখ (২২)। এ বিষয়ে নিলার বাবা লিটন শেখ উত্ত্যক্তকারীদের অভিভাবককে কয়েকবার বিষয়টি জানিয়ে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। পরে গত ১ অক্টোবর উল্লিখিতরা লিটন শেখের বাড়িতে গিয়ে নিলাকে বাড়ি থেকে বের হতে নিষেধ করে এবং নিলার নামে বাইরে অপপ্রচার করতে থাকে। এ ঘটনা প্রতিবাদ জানালে প্রতিবেশী আমজেত শেখের মেয়ে আকলিমা খাতুনের সঙ্গে নিলার তর্কাতর্কি হয়। পরবর্তীতে গত ২ অক্টোবর (শুক্রবার) দুপুরে নিজ কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার পথে নিলার বাবা লিটন শেখকে ধরে নিয়ে গিয়ে বাড়ির উঠানের বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে বেধড়ক মারধর করে আমজেদ শেখ, রকি, শোয়েব, ইমন, ইমরান ও আকলিমা। খবর পেয়ে বাবাকে বাঁচাতে নিলা ও তার মা দেলোয়ারা বেগম এগিয়ে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়।
ঘটনার দিনই (২ অক্টোবর) তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিকীর কাছে লিখিত এজাহার জমা দেন আহত লিটন শেখ। কিন্তু অভিযোগ পাওয়ার পরও পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় বখাটেরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং প্রতিনিয়ত নিলা ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে।
এরই মধ্যে সোমবার সন্ধ্যায় নিজ ঘর থেকে নিলার ঘরে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়।
নিলার মামা সাদ্দাম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় দেখা যায় নিলার পা মাটিতে স্পর্শ করেছিল এবং গলায় ফাঁস লাগার মতো স্বাভাবিক কোনো দাগ ছিল না। এছাড়া নিলার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও ঘরে পাওয়া যায়নি, সেখানে কল দিলে রিং হলেও কেউ রিসিভ করছে না। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। থানা পুলিশ সময়মতো পদক্ষেপ নিলে আজ আমার ভাগ্নিকে জীবন দিতে হতো না।
অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তালা থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিকীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে তালা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আক্তারুল ইসলাম ওসির নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ খোঁজখবর নিচ্ছিল। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার রাতেই প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মানবাধিকার কর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, নিরাপত্তা ও বিচারের আশায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। মৃত্যুর পর আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা নেওয়া হলো, অথচ এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এতে স্পষ্ট বোঝা যায় তালা থানা পুলিশ দায়িত্বে চরম অবহেলা করেছে। এই অবহেলার সঠিক তদন্তপূর্বক দোষী পুলিশ কর্মকর্তা ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো প্রাণ এভাবে ঝরে না যায়।
মন্তব্য করুন