
বিলাল হোসেন: ভাটার কাজে যাওয়ার শর্তে ছেলে জগদীশ দাদন (অগ্রিম অর্থ) নিয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তাকে না পাওয়ায় তার দীপালি রানীকে তুলে নিয়ে গেছেন ভাটা সর্দার সাতক্ষীরার শ্যামনগরের ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের শ্রীফলকাটি গ্রামের আমজাদ হোসেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালি গ্রামের বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, শ্রীফলকাটি গ্রামের ভাটা সর্দার আমজাদ হোসেনের কাছ থেকে ভাটায় যাওয়ার কথা বলে দাদন নেন দীপালি রানীর ছেলে জগদীশ। বৃহস্পতিবার ছিল ভাটার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার নির্ধারিত দিন। কিন্তু বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠানে যাওয়ার পর থেকে খোঁজ মিলছে না জগদীশের। তাই তার মা দীপালি রানীকে উঠিয়ে জোরপূর্বক ভাটায় নিয়ে যাচ্ছেন আমজাদ হোসেন।
দীপালি রানীর ভাই ভোলা নাথ বলেন, পূজার আগে ভাটায় যাওয়ার শর্তে জগদীশকে দাদন দেয় ভাটা সর্দার আমজাদ হোসেন। দুর্গাপুজোর বিজয়া দশমীতে আমার ভাগ্নে প্রতিমা বিসর্জন দেখতে গিয়ে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। আজ ছিল ভাটায় যাওয়ার দিন। জগদীশ যেতে না পারায় আমার বোনকে সন্ধ্যা সাতটার দিকে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে যায় ভাটা সর্দার আমজাদ। এসময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে অভিযোগ জানালেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
এদিকে শ্যামনগর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, থানায় এসে সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানার জন্য ভাটা সর্দার আমজাদ হোসেন বলেন, মা ও ছেলে দুইজনই আমার কাছ থেকে ভাটায় যাবে বলে টাকা নিয়েছে। মা রান্না করবে এবং ছেলে জোগাড়ি দেবে। ছেলে জগদীশ ভাটায় যাবে না বলে পালিয়ে গেছে। ওর মাও টাকা নিছে, তাই মাকে নিয়ে যাচ্ছি। এটা কোন সমস্যা না। কাজ না করতে পারলে বাড়ি ফিরিয়ে আনবো।
মন্তব্য করুন