

উপকূলীয় প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও কৃষিতে আত্মনির্ভরশীলতা বাড়াতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে যুব কৃষক ও কৃষাণীদের অংশগ্রহণে এগ্রোইকোলজি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারে বারসিকের আয়োজনে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২০ জন যুব কৃষক ও কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ দেন কৃষক হাবিবুর রহমান। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন গ্রিন কোয়ালিশনের সভাপতি এম. জিল্লুর রহমান।
প্রশিক্ষণে এগ্রোইকোলজির ধারণা, পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, উপকারী পোকামাকড় ও পাখি সংরক্ষণ, কম্পোস্ট ও কেঁচো সার তৈরি এবং দেশীয় বীজ সংরক্ষণের বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।
পাশাপাশি একফসলি চাষের পরিবর্তে মিশ্র ও বহুফসলি চাষ, বাড়ির ছায়াযুক্ত স্থানে আদা-হলুদ উৎপাদন এবং রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন, প্রকৃতির নিজস্ব নিয়ম অনুসরণ করে চাষাবাদ এবং খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থার টেকসই রূপান্তরই এগ্রোইকোলজির মূল লক্ষ্য। এটি শুধু পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে না, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার এবং কৃষকের আত্মনির্ভরশীলতা প্রতিষ্ঠায়ও গুরুত্বপূর্ণ। অপরিকল্পিতভাবে রাসায়নিক সার ও অতিরিক্ত ইউরিয়া ব্যবহারের ফলে মাটির স্বাস্থ্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চা বাড়াতে হবে।
কর্মশালায় যুবদের কৃষিতে নেতৃত্ব দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং গ্রামীণ কৃষিব্যবস্থাকে টেকসই করতে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বিশেষ করে যুবনারীদের কৃষি উৎপাদন, পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিতকরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। স্থানীয় জ্ঞান ও আধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সমন্বয়ে কম খরচে কৃষি উৎপাদন এবং প্রাকৃতিক উপায়ে বালাই ব্যবস্থাপনার চর্চা সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা নিজস্ব বীজ সংরক্ষণ, স্থানীয় বীজ ব্যাংক গড়ে তোলা এবং এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারগুলোকে যুবদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের কার্যকর কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা করেন।
এর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চা সম্প্রসারণ এবং কৃষিতে বাজার ও রাসায়নিক উপকরণনির্ভরতা কমানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন গ্রিন কোয়ালিশনের সভাপতি ডা. যোগেশ মণ্ডল, ধুমঘাট এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক অল্পনা রানী, বারসিকের মনিকা পাইক ও স.ম. ওসমান গনী।

মন্তব্য করুন