
এম জুবায়ের মাহমুদ: এখনো মৌসুম শুরু না হলেও সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন সুন্দরবন থেকে মৌচাক কেটে একটি চক্র চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে মধু।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাছ ও কাঁকড়া ধরার পাশ নিয়ে অসাধু জেলে-বাওয়ালীরা সুন্দরবনে প্রবেশ করে অপরিপক্ক মৌচাকের মধু আহরণ করছে।
ফলে মৌসুম শুরুর আগেই শূন্য হতে চলেছে সাতক্ষীরা রেঞ্জের মৌচাক। এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রকৃত মৌয়ালরা।
সূত্র মতে, কেউ বনবিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে, কেউবা বনবিভাগের অসৎ কর্মকতাদের সাথে যোগসাজশে মৌচাক উজাড় করছে।
এসব মধু বিক্রির জন্য মানুষের বিশ্বাস যোগাতে অনলাইনে মৌচাকসহ বিজ্ঞাপন দিতে দেখা গেছে অনেককে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বুড়িগোয়ালিনীর মহসিনের হুলো এলাকার রাসেল একটি চক্র ও আসাদুল সুন্দরবন থেকে কাকড়া ধরে ফেরার পথে দুইটি মৌচাক কেটে নিয়ে আসে।
একইভাবে মুন্সিগঞ্জের হরিনগর বাজার সংলগ্ন এলাকার একাদশী রানী ও শ্রীদাস নামের দুইজন মাছ ধরে ফেরার পথে প্রায় চার কেজি মধু আহরণ করে নিয়ে আসে।
বনবিভাগ জানায়, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও সুন্দরবনের মধু আহরণে বনবিভাগের অনুমতি মিলবে আগামী ১ এপ্রিল।
স্থানীয় মৌয়ালরা জানান, মধু মৌসুমে একটা পরিপূর্ণ মৌচাকে ২০-২৫ কেজি মধু পাওয়া যায়। একেকটি চাক থেকে ৬/৭ বার মধু সংগ্রহ করা যায়। কিন্তু যারা চোরা মধু আহরণকারী তারা অপরিপক্ক চাকের মধু আহরণ করার কারণে মাত্র ৩শ থেকে ৫শ গ্রাম মধু আহরণ করতে পারে। ফলে বনবিভাগ থেকে বৈধ পাস নিয়ে সুন্দরবনে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ মধু পায় না মৌয়ালরা । এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন তারা।
এ ব্যাপারে বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, মাছ ও কাঁকড়া ধরার পাশ দেওয়া আছে। অসাধু চক্রের অপতৎপরতা ঠেকাতে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। আমাদের টহল অব্যাহত আছে।
মন্তব্য করুন