বাংলাদেশ, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
২২ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

পাকিস্তানে এক দোকান থেকে ৩০ জনের অগ্নিদগ্ধ ম-র-দে-হ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত করাচি শহরের অন্যতম ব্যস্ত শপিং কমপ্লেক্স গুল প্লাজার একটি দোকান থেকে ৩০ জনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৫ জনের পরিচয় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

করাচির দক্ষিণ জোনের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক আসাদ রাজা গতকাল বুধবার এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, “গুল প্লাজার দ্বিতীয় তলায় দুবাই ক্রোকারিজ নামের একটি দোকান থেকে ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫ জনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। বাকিদের পরিচয় উদ্ধারে কাজ শুরু হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, এই ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধারের মাধ্যমে গুল প্লাজায় মোট মৃতের সংখ্যা ৬১ জনে পৌঁছালো। এখনও এখনও ৪০ জনের বেশি নিখোঁজ আছেন বলেও উল্লেখ করেছেনতিন।

গত ১৭ জানুয়ারি শনিবার আগুন লাগে করাচির অন্যতম বড় শপিং কমপ্লেক্স গুল প্লাজায়। প্লাজার বেসমেন্টে প্রথম আগুন লাগে এবং তারপর অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে পুরো শপিং কমপ্লেক্সে ছড়িয়ে পড়ে তা। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সূত্রপাত হয়েছে আগুনের। সেই আগুনের মাত্রা এত বেশি ছিল যে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ২৪ ঘণ্টা সময় লেগেছে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে।

১৯৮০ সালে তৈরি হওয়া এই ৫ তলা শপিং কমপ্লেক্সটির আয়তন একটি ফুটবল মাঠের চেয়েও বড় এবং ১ হাজার ২ শতাধিক দোকান আছে এখানে। আগুনে এসব দোকানের অধিকাংশই ভস্মীভূত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী, ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশসূত্রে জানা গেছে, এর আগে করাচিতে এত বড় আকারের অগ্নিকাণ্ড দেখা যায়নি।

তবে হতাহত এবং নিখোঁজের সংখ্যা এত বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে গুল প্লাজা কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।

করাচি ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে জানিয়েছেন, গুল প্লাজায় মোট ফটক বা গেইটের সংখ্যা ২৬টি, কিন্তু চলাচলের জন্য ২টি বাদে বাকি সবগুলো গেইট সবসময় বন্ধ থাকতো। আগুন লাগার সময়েও ফটকগুলো আর খোলা হয়নি। ফলে শত শত মানুষ শপিং কম্পেক্সটিতে আটকা পড়েছিলেন। এছাড়া মার্কেটের অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রগুলোও নষ্ট ছিল বলে জানা গেছে।

বুধাবরের ব্রিফিংয়ে উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক আসাদ রাজা বলেন, “প্রাথমিক আনুসন্ধানে আমরা জানতে পেরেছি যে আগুন থেকে বাঁচার জন্য দোকানটির শাটার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পড়ে এটিই তাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিহতদের মধ্যে দোকানের মালিক ও কর্মচারীরাও আছেন।”

করাচি পুলিশের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আরও জানান, গুল প্লাজা অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।

করাচির পুলিশপ্রধান এবং কমিশনার সৈয়দ হাসান নাকভি জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে সিন্ধ রাজ্য সরকার একটি কমিটি করেছে এবং সেই কমিটি ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করেছে।

সূত্র : এএফপি

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গাজী নজরুলকে নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার বিতর্ক

সাতক্ষীরা ল’ কলেজে প্রয়াত শিক্ষকদের স্মরণ সভা

সাতক্ষীরায় কোরেক্স মাদকসহ দুই পুলিশ কনস্টেবল গ্রেপ্তার

এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের সূচি ঘোষণা

হাম উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃ/ত্যু

কালিগঞ্জে মৎস্যজীবী দলের প্রস্তুতি সভা

নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের জন্য অনলাইনে কার্ড দেবে ইসি

২৭০ রানের ইনিংসে রেকর্ডবুক ভেঙে চুরমার করে দিলেন ঈশান

বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল জব্বার ভুঞার পদত্যাগ

১০

ফ্রিজে লুকানো ছিল মাথা, বিয়ের কয়েক মাসের মাথায় স্ত্রীকে হ/ত্যা

১১

একই দলে খেলবেন মেসি ও রোনালদো

১২

পাকিস্তান ক্রিকেটে আবারও ফিক্সিংয়ের কালো ছায়া, সন্দেহে দুই ক্রিকেটার!

১৩

উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রেম, ধর্ষণ, অতঃপর….

১৪

মেসির ছেলের নেতৃত্বে শিরোপা জিতল ইন্টার মায়ামি

১৫

ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃ*ত্যু, হাসপাতালে ১৩১৪

১৬

আবারও বাংলাদেশ-ভারত ট্রেন চালুর উদ্যোগ, বৈঠক আগামীকাল

১৭

৫৪ বছরের আক্ষেপ: পাইকগাছায় জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান

১৮

কয়রায় পুকুরে ডুবে ১৮ মাসের শিশুর মৃত্যু

১৯

ভুয়া তথ্যে ইমাম-পুরোহিতের সম্মানি নিলে যাবজ্জীবন, ফেরত দিতে হবে টাকা

২০
error: Content is protected !!