বাংলাদেশ, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

৫৪ বছরের আক্ষেপ: পাইকগাছায় জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: দেয়ালজুড়ে ফাটল, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। কোথাও বেরিয়ে এসেছে রড। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। এমনই জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রতিদিন পাঠদান করা হচ্ছে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের কড়ুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। যেখানে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

জানা গেছে, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ১৯৮৫ সালের ১ জানুয়ারি এমপিওভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি। শিক্ষার্থী ও শিক্ষা কার্যক্রম বাড়লেও পাঠদান চলছে পুরোনো ভবনেই।

সোমবার সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল ধরেছে। দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে অনেক জায়গায় রড বেরিয়ে গেছে। বর্ষাকালে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষ ভেসে যায়। এতে পাঠদান যেমন ব্যাহত হয়, তেমনি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাবেরা খাতুন জানায়, অন্য স্কুলের সুন্দর ও নিরাপদ ভবন দেখে আমাদেরও সুন্দর শ্রেণিকক্ষে বসে ক্লাস করতে ইচ্ছে করে। আমাদের এখানে বৃষ্টির দিনে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। তখন ক্লাসে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে যায়।

শিক্ষার্থী সুমি আক্তার বলে, পুরোনো এই ভবনে ক্লাস করার সময় ভয় লাগে। কখন কী হয়, সেই চিন্তায় থাকি। আমরা চাই, আমাদের স্কুলটিও নিরাপদ ও সুন্দর হোক।

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরাও। তাঁদের অভিযোগ, ভবনটির বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সাময়িক সংস্কার করে সমস্যার সমাধান হবে না। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের জন্য দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুস্তাক আহম্মেদ বলেন, প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান করানো অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। ভবনের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শুধু চুনকাম বা জোড়াতালি দিয়ে এর সমাধান সম্ভব নয়। নতুন ভবন নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।

তিনি জানান, বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১২ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও সাতটি পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষকসংকটের পাশাপাশি ভবনের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এলাকাবাসী বলছেন, দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে এলাকার শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়ানো প্রতিষ্ঠানটির এমন দুরবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ভবনের ঝুঁকি নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সাতক্ষীরা জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা

১

জনতা, অগ্রণী ও বেসিক ব্যাংকে নতুন এমডি

২

৭ নভেম্বর উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

৩

হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু

৪

ব্যালন ডি’অর জিতলে কত টাকা পান ফুটবলাররা?

৫

কয়রা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি

৬

একযোগে ৮৫ সাব-রেজিস্ট্রার বদলি

৭

বাংলাদেশে উন্নয়নে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

৮

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল এশিয়ার দুই দেশ

৯

দেবহাটায় এলএফও সদস্যদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ

১০

সুন্দরবনের পথে পথে জীবনের নানা গল্প || সুলতান শাহাজান

১১

মানবেতর জীবন কাটছে বৃদ্ধ সাকাত-আনোয়ারা দম্পতির

১২

ভারতীয় গোয়েন্দার সাথে গোলাম পরওয়ারের গোপন বৈঠক, দাবি রাশেদ খাঁনের

১৩

সাতক্ষীরায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড

১৪

ক্রস যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি এলাও করে, সেটাই করবো: আইজিপি

১৫

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবে রূপ নিয়েছে গভীর নিম্নচাপটি

১৬

চার দিনের সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

১৭

সাতক্ষীরায় নগর দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন: বস্তিবাসীকে পরিকল্পিত আবাসনের আওতায় আনার দাবি

১৮

শ্যামনগরে নিখোঁজের ৪ দিন পর ধানক্ষেত থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

১৯

১ নভেম্বর সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ শুরু, দিতে হবে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি

২০