বাংলাদেশ, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
২০ কার্তিক ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
৭ মার্চ ২০২৬, ৫:১৯ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম

ডেস্ক রিপোর্ট: ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন রমনার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেদিন লাখো মানুষের সমাবেশে শেখ মুজিব বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ ওই ভাষণে বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রাম ও আন্দোলনের পটভূমি তুলে ধরা ও দেশবাসীর করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা ছিল বলে অনেকে মনে করেন।

৭ মার্চের ভাষণের পর বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষ ঘরে-ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। সেই প্রস্তুতির চূড়ান্ত রূপ পায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসজুড়েই দেশের নানা ঘটনাপ্রবাহ ইতিহাসে স্থান করে নেয়। ঘটনাবহুল এ মাস বাংলাদেশের জন্ম এবং বাঙালির আত্মত্যাগের এক অবিস্মরণীয় মাস।

এ মাসের শুরু থেকে প্রায় প্রতিটি দিন ঐতিহাসিক ঘটনায় উজ্জ্বল।
৭ মার্চের ভাষণ সাধারণভাবে জনপ্রিয় হলেও ২০২০ সালের আগ পর্যন্ত দিনটিকে কোনো দিবস হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ থেকে ৭ মার্চকে জাতীয় দিবস ঘোষণা করে এক মাসের মধ্যে গেজেট জারির নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মুজিববর্ষ উপলক্ষে সব জেলা ও উপজেলায় ‘বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল’ স্থাপনের নির্দেশও দেওয়া হয়।

২০১৭ সালে এ নিয়ে আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছিল। সে বছরই ইউনেসকো ৭ মার্চের ভাষণকে ‘ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে দিনটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করে পরিপত্র জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদ‌যাপন বা পালনসংক্রান্ত পরিপত্রে ৭ মার্চকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে তখন প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এই ভাষণকে ২০১৭ সালে ইউনেসকো ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় ২০২১ সাল থেকে সরকারিভাবে ব্যাপক আয়োজনে দিবসটি পালন করা শুরু হয়। তবে গত বছর এবং এবারো ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দিবসটি সামনে এসেছে। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পতিত স্বৈরাচারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। এখনো তিনি সেখানেই আছেন। দেশে মানবাধিকার বিরোধী অপরাধের দায়ে তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বেশির ভাগ পলাতক, অনেকে আছেন কারাগারে।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর ওই বছরের ১৭ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকার ৭ মার্চসহ আটটি জাতীয় দিবস উদযাপন বা পালন না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজ্ঞান মেলায় নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্পে চ্যাম্পিয়ন ‘দোয়েল স্কুল’

১

এসআরবির নতুন ডিজি ফারুক, শিল্প পুলিশসহ গুরুত্বপূর্ণ বড় পদে রদবদল

২

আক্রমণের শংকা, জাতীয় চার নেতাকে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রদর্শনী স্থগিত

৩

নেতানিয়াহুকে সরিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের অঙ্গীকার বিরোধীদের

৪

আইনি অধিকারের মধ্যে কাউকে হত্যা করার অধিকারও আছে পুলিশের: ডা. জাহেদ

৫

দেবহাটায় জামায়াতের কর্মী ও সুধী সমাবেশ

৬

কালিগঞ্জে বাস টার্মিনাল পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন

৭

অবৈধ সম্পর্ক আড়াল করতে কেশবপুরে জোড়া খুন, গ্রেপ্তার ২

৮

আশাশুনিতে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্পাদকসহ গ্রেপ্তার ৪

৯

বিজিবি-বিএসএফ রিজিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক: সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সহযোগিতার অঙ্গীকার

১০

বনদস্যু সাত্তার বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা ৫ জেলে উদ্ধার

১১

ভোমরা স্থলবন্দর: সম্ভাবনা থমকে আছে যেখানে || গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

১২

কালিগঞ্জে ১শ বোতল উইনকেরেক্সসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

১৩

সাতক্ষীরায় কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ

১৪

ভোমরা ইমিগ্রেশনে আটক ভারতীয় নাগরিকের মলদ্বার থেকে দেড় কোটি টাকার স্বর্ণের পেস্ট উদ্ধার

১৫

মুন্ডা ও মাহতো জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কয়রায় অ্যাডভোকেসি

১৬

ঐতিহাসিক জেল হত্যা দিবস আজ

১৭

শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিলের চিন্তা সরকারের

১৮

ইউক্রেনে ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে রাশিয়ার বোমা হামলা, নিহত ২৬

১৯

গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে আগুন দিয়ে অবরোধ

২০