বাংলাদেশ, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
৭ মার্চ ২০২৬, ৫:১৯ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম

ডেস্ক রিপোর্ট: ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন রমনার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেদিন লাখো মানুষের সমাবেশে শেখ মুজিব বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ ওই ভাষণে বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রাম ও আন্দোলনের পটভূমি তুলে ধরা ও দেশবাসীর করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা ছিল বলে অনেকে মনে করেন।

৭ মার্চের ভাষণের পর বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষ ঘরে-ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। সেই প্রস্তুতির চূড়ান্ত রূপ পায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসজুড়েই দেশের নানা ঘটনাপ্রবাহ ইতিহাসে স্থান করে নেয়। ঘটনাবহুল এ মাস বাংলাদেশের জন্ম এবং বাঙালির আত্মত্যাগের এক অবিস্মরণীয় মাস।

এ মাসের শুরু থেকে প্রায় প্রতিটি দিন ঐতিহাসিক ঘটনায় উজ্জ্বল।
৭ মার্চের ভাষণ সাধারণভাবে জনপ্রিয় হলেও ২০২০ সালের আগ পর্যন্ত দিনটিকে কোনো দিবস হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ থেকে ৭ মার্চকে জাতীয় দিবস ঘোষণা করে এক মাসের মধ্যে গেজেট জারির নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মুজিববর্ষ উপলক্ষে সব জেলা ও উপজেলায় ‘বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল’ স্থাপনের নির্দেশও দেওয়া হয়।

২০১৭ সালে এ নিয়ে আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছিল। সে বছরই ইউনেসকো ৭ মার্চের ভাষণকে ‘ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে দিনটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করে পরিপত্র জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদ‌যাপন বা পালনসংক্রান্ত পরিপত্রে ৭ মার্চকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে তখন প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এই ভাষণকে ২০১৭ সালে ইউনেসকো ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় ২০২১ সাল থেকে সরকারিভাবে ব্যাপক আয়োজনে দিবসটি পালন করা শুরু হয়। তবে গত বছর এবং এবারো ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দিবসটি সামনে এসেছে। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পতিত স্বৈরাচারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। এখনো তিনি সেখানেই আছেন। দেশে মানবাধিকার বিরোধী অপরাধের দায়ে তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বেশির ভাগ পলাতক, অনেকে আছেন কারাগারে।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর ওই বছরের ১৭ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকার ৭ মার্চসহ আটটি জাতীয় দিবস উদযাপন বা পালন না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিক-শিল্পীদের বিরুদ্ধে অভিযোগে উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি

প্রতি টনে ১০ ডলার কমে বাংলাদেশের কাছে ইউরিয়া সার বেচতে চায় রাশিয়া

জাপানে ভূমিকম্পে ধসে পড়েছে শপিংমল, বহু হতাহতের শঙ্কা

৯ বছরের ছোট ক্রিকেটারের সঙ্গে প্রেম করছেন ম্রুণাল?

কালিগঞ্জ উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটির সভা

কালিগঞ্জে সঞ্জীব সরকার হত্যা: ধরাছোয়ার বাইরে মূল আসামিরা

জুলাই পদযাত্রায় হামলা, সারজিস-পাটওয়ারী আহত

সাতক্ষীরায় ভারী বর্ষণ ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিজিবি’র ত্রাণ বিতরণ

জাতীয় যুবনীতি হালনাগাদে মতামত দেওয়ার সুযোগ পেল তরুণরা

কোন অভিনেতার সঙ্গে রোমান্স করতে ‘সমস্যা’, জানালেন জয়া

১০

আহসান রাজীবকে সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের অভিনন্দন

১১

অতীতের কোনো সিদ্ধান্ত বদলাতে চাই না, ভুল থেকেই শিখেছি: সাকিব

১২

আলিম চেয়ারম্যানের আল্টিমেটামে নড়ে চড়ে বসেছে শৈলকুর বিলের মৎস্য ঘের মালিকরা

১৩

দ. আফ্রিকায় আগুনে ৬ বাংলাদেশি নিহত

১৪

শ্যামনগরে মাদকসহ যুবলীগ নেতা আব্দুল্লাহ আটক

১৫

জরুরি সতর্কবার্তা দিল পুলিশ

১৬

কয়রায় জলবায়ু সংকটে কিশোরীদের সুরক্ষায় আমাল ফাউন্ডেশনের ব্যতিক্রম কর্মসূচি

১৭

উপকূলের পরিবেশ পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ রোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

১৮

শ্যামনগরে নিরাপদ পানীয় জল সংরক্ষণ ও প্লাস্টিক দূষণ হ্রাসে মেটে বিতরণ

১৯

এনটিআরসিএ’র মৌখিক পরীক্ষা দ্রুত নেওয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

২০
error: Content is protected !!