
ডেস্ক রিপোর্ট : সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের করার কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হওয়ায় জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে মাগুরা, তালতলা, কৈখালী, গোপিনাথপুর, বিনেরপোতা, খেজুরডাঙ্গা, রাজনগর, মথুরাপুর, দেবনগর, নলকুড়া গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে তালতলা ঈদগাহ মোড় থেকে কৈখালী মাদ্রাসা পর্যন্ত, মাগুরা আইসক্রিম ফেক্টরী থেকে দাসপাড়া, মাগুরা কর্মকার পাড়ার পাকা রাস্তাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে। ভেসে গেছে এসব এলাকার ফসলের ক্ষেত, পুুকুর, জলাশয়, টিউবওয়েল ও টয়লেট। পানি উঠেছে বসতবাড়িতে।
একই সাথে মাগুরা-গোপিনাথপুর ও বিনেরপোতা এলাকায় সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের দুই ধারে মৎস্য ঘের করার কারণে মহাসড়কেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া বিনেরপোতা বিসিক শিল্পনগরীর মোড় থেকে বাইপাস সড়কের লাবসা মোড় পর্যন্ত দুই ধারে অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের করার কারণে বাইপাস সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিস উঠে যাচ্ছে এবং ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
মাগুরা-কৈখালী শৈলকুর বিলে কাটিয়া আমতলার মৃত খন্দকার হায়দার আলীর ছেলে ছানি খন্দকার, তালতলা গ্রামের মৃত ইজ্জত আলীর ছেলে ইয়ার আলী, লাবসা ইউনিয়নের কৈখালী গ্রামের আলী হোসেন মেম্বর, আলী হোসেন মেম্বরের ছেলে জুয়েল ও জুলু, মাগুরা গ্রামের মৃত মোহর আলীর ছেলে রাজু, মৃত আব্দুল ওহাবের ছেলে কামরুজ্জামান, তালতলার তৈয়ব আলী, জিয়াদ আলী, থানাঘাটার কামাল হোসেন, কৈখালীর ইকবাল হোসেন, রতফা, ইমান আলী, মহরম আলী, খেজুরডাঙ্গার সাজু অন্যান্যদের মাত্র ১৫-১৬টি ঘেরের কারণে বৃষ্টির পানি আটকে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম আসার আগেই মৎস্য ঘের ব্যবসায়ীরা স্কেভেটর ব্যবহার করে ঘেরের বেড়ি বাঁধ উঁচু করেন। এ কারণে একটু বৃষ্টি হলেই গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এক সময় শৈলকুর বিলের গেটের খাল দিয়ে মাগুরা ও কৈখালী গ্রামের পানি বেতনা নদী দিয়ে নিষ্কাশিত হতো। লাবসা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কুলুটিয়ার খাল ও গোপিনাথপুর খাল দিয়ে গ্রামের পানি বেতনা নদীর মাধ্যমে অপসারিত হতো। কিন্তু গত ৭/৮ বছর কিছু অসাধু মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী অপরিকল্পিতভাবে ঘের করার কারণে মাগুরা, তালতলা, কৈখালী, গোপিনাথপুর, বিনেরপোতা, খেজুরডাঙ্গা, দেবনগর, মথুরাপুর, রাজনগর, এগারানিসহ লাবসা ইউনিয়নের হাজার হাজার পরিবার স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে দুঃর্বিসহ জীবনযাপন করছে।
মাগুরা গ্রামের মৃত আব্দুল ওহাব আলীর ছেলে মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান বলেন, শৈলকুর বিলের ১৫/১৬টি ঘেরের বেড়িবাঁধ কেটে দিলে মাগুরা ও কৈখালী গ্রামের প্রায় ৪ হাজার মানুষ জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে।
মাগুরা গ্রামের সমাজ সেবক আবিদার রহমান জানান, শৈলকুর বিলে সর্ব প্রথম কাটিয়া আমতলা এলাকার ঠিকাদার মরহুম খন্দকার আলী হায়দার মৎস্য ঘের তৈরি করেন। তিনি মারা যাওয়ার পর থেকে তার বড় ছেলে ছানি খন্দকার ওই ঘের পরিচালনা করছেন। তার পর থেকে শৈলকুর বিলে তালতলা গ্রামের মৃত ইজ্জত আলীর ছেলে ইয়ার আলী, লাবসা ইউনিয়নের কৈখালী গ্রামের আলী হোসেন মেম্বর, আলী হোসেন মম্বেরের ছেলে জুয়েল ও জুলু, মাগুরা গ্রামের মৃত. মোহর আলীর ছেলে রাজু, মৃত আব্দুল ওহাবের ছেলে কামরুজ্জামান, তালতলার তৈয়ব আলী, জিয়াদ আলী, থানাঘাটার কামাল হোসেন, কৈখালীর ইকবাল হোসেন, রতফা, ইমান আলী, মহরম আলী, খেজুরডাঙ্গার সাজু অপরিকল্পিত ভাবে মৎস্য ঘের করেছে। অপরিকল্পিতভাবে ঘের করার কারণে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
মাগুরা গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক সালমা খাতুন জানান, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না করে অপরিকল্পিতভাবে মৎস্য ঘের করার কারণে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ৪ থেকে ৫ মাস আমাদের ঘরের মধ্যে পানি জমে স্থায়ী জলাবদ্ধার সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতার কারণে পানিবাহিত ঘা-পাচড়া, চুলকানিসহ পানিবাহিত রোগ হচ্ছে। এছাড়া স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, বিষাক্ত পোকা-মাকড় ও সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। এক কথায় পানিবন্দি অবস্থায় শিশুদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জীবন কাটাতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, নারীদের সব সময় ঘর-বাড়িতে থাকতে হয়। এ অবস্থায় নারী ও শিশুরা বেশি অসহায় হয়ে পড়েছে। এ অব্স্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্ত বলেন, শৈলকুর বিলের পানি সরানো জন্য আমি স্থানীয় লাবসা ইউপি চেয়ারম্যানকে পদক্ষেপ নেওয়া নির্দেশ দিয়েছি, উনি মৎস্য ঘের মালিক ও গ্রামবাসীকে নিয়ে আলোচনা করে পানি সরানোর ব্যবস্থা করবেন।
মন্তব্য করুন