
ডেস্ক রিপোর্ট: বিশ্ব বাঘ দিবস আজ (২৯ জুলাই)। বাঘের প্রাকৃতিক আবাস রক্ষা করা এবং বাঘ সংরক্ষণের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতি বছরের ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস পালন করা হয়।
২০১০ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত বাঘ অভিবর্তনে এ দিবসটির সূচনা হয়। বাঘ দিবস আসলেই মানুষের সুন্দরবনের বাঘ সম্পর্কে জানার আগ্রহ বেড়ে যায়।
২০২৪ সালের সর্বশেষ বাঘ জরিপে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১২৫টি পাওয়া গেছে, যা ২০১৮ সালের তুলনায় ৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং ২০১৫ সালের তুলনায় ১৭ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়েছে। এই জরিপে প্রতি ১শ বর্গ কিলোমিটারে বাঘের ঘনত্ব ২ দশমিক ৬৪ পাওয়া গেছে।
জরিপটি ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত পরিচালিত হয়, যেখানে ৬০৫টি গ্রিডে এক হাজার ২১০টি ক্যামেরা বসিয়ে ৩১৮ দিন ধরে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এই ক্যামেরাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাঘের ছবি এবং ১০ সেকেন্ডের ভিডিওধারণ করেছে, যা থেকে প্রায় ১০ লক্ষাধিক ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে সাত হাজার ২৯৭টি বাঘের ছবি পাওয়া গেছে।
বাঘ সংরক্ষণে নানা উদ্যোগের মধ্যে গত আড়াই দশকে ২১টি বাঘের স্বাভাবিক মৃত্যু হলেও পাচারকারীদের হাতে মারা পড়েছে ২৬টি।
বন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত আড়াই দশকে সব মিলিয়ে মারা যাওয়া বাঘের সংখ্যা ৬২। ২০২৪ সালে সর্বশেষ বাঘ জরিপে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১২৫, যা আগের জরিপের চেয়ে ১১টি বেশি।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ডিএফও নির্মল কুমার রায় জানান, সম্প্রতি সময়ে সুন্দরবনে পর্যটকরা বাঘ দেখতে পাচ্ছেন। এছাড়া আমাদের বিভিন্ন অফিসের ক্যামেরাতে ভিন্ন ভিন্ন বাঘের ছবি মিলছে। এটা খুবই ভালো লক্ষণ। এতে বোঝা যায়, বাঘ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া বনে এখন বাঘের পর্যাপ্ত খাবার রয়েছে। বাঘ নিজেকে নিরাপদ মনে করার কারণে তার বিচরণ বাড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন