
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছাকাছি তিনটি বস্তি ক্যাম্পে বসবাসরত প্রায় ৭০০ পরিবারকে উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। তবে বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের জন্য ছয় সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পুনর্বাসন কার্যক্রম তদারকির জন্য সাবেক জেলা বিচারক মন মোহন শর্মার নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ছয় মাস পুনর্বাসন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
আদালত দিল্লি আরবান শেল্টার ইমপ্রুভমেন্ট বোর্ডকে (DUSIB) বাসিন্দাদের ঘরবাড়ির মালামাল নির্ধারিত পুনর্বাসনস্থল সাভদা ঘেভরায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বস্তির বাসিন্দাদের প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে সাভদা ঘেভরায় পুনর্বাসন করা হবে। তবে বাসিন্দারা এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছেন। তাদের দাবি, বর্তমান এলাকায় তারা বিভিন্ন শ্রমজীবী পেশায় নিয়োজিত। দূরে চলে গেলে তাদের জীবিকা ব্যাহত হবে। এছাড়া সাভদা ঘেভরায় স্কুলসহ প্রয়োজনীয় মৌলিক সুবিধার ঘাটতি রয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমান বস্তিগুলো সামরিক স্থাপনার সংলগ্ন হওয়ায় সেখানে অননুমোদিত স্থাপনা জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। প্রতিরক্ষা অবকাঠামো শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছে সরকার। গত বছরের অক্টোবর থেকে বাসিন্দাদের উচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সরকার আদালতকে জানিয়েছে, পুনর্বাসিত পরিবারগুলোর জন্য এক বছরের একটি বিনামূল্যের মেট্রো কার্ড দেওয়া হবে, যা সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারের একজন সদস্যকে এক বছরের জন্য বিনামূল্যে বাসযাত্রার সুবিধা দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ৭, লোক কল্যাণ মার্গ থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে এই বস্তিগুলো অবস্থিত। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিকল্প আবাসনের যোগ্যতা যাচাইয়ে যৌথ জরিপ পরিচালনা করা হয়। পরে সাভদা ঘেভরার DUSIB কলোনিতে তাদের পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন