
ডেস্ক রিপোর্ট: ঢাকে কাঠি পড়ার পর মায়ের নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল পূজার আনুষ্ঠানিকতা। মহাসপ্তমীর ভোর থেকেই সাতক্ষীরার ৬১২টি পূজা মণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের আগমন ঘটতে থাকে। ষষ্ঠীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের পর থেকেই ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি আর শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত রূপসী মণ্ডপগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখ পড়ার মতো। বিশেষ করে আশাশুনির বুড়িয়ার আকর্ষণীয় প্রতিমা দর্শনে ভক্তদের মধ্যে প্রবল আগ্রহ দেখা গেছে।
সাতক্ষীরার কাটিয়া সরকারপাড়া শ্রী শ্রী সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরে মহাসপ্তমীর প্রাতে ভক্তদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। মন্দির প্রাঙ্গণে উপস্থিত মাধব দত্ত মহাসপ্তমীর বিশেষ মাহাত্ম্য তুলে ধরে বলেন, আজকের এই তিথি ভক্তদের মাঝে এক নতুন ভক্তি ও চেতনার সঞ্চার করে।
মণ্ডপটির পূজার আনুষ্ঠানিকতা পরিচালনাকারী পুরোহিত হরিদাস ব্যানার্জি সবাইকে শান্তিতে ও শৃঙ্খলায় বসবাসের আহ্বান জানিয়ে বলেন, পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের ধৈর্য ও সহনশীলতার পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মণ্ডপে আগত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাগরিকা সাহা নারীর নিরাপত্তা, জানমালের সুরক্ষা ও বিশ্বশান্তি কামনা করেন। একই সাথে সার্বিক নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়ে স্থানীয় দর্শনার্থী উৎপল সাহা বলেন, পূজার শুরু থেকে যে সুন্দর শৃঙ্খলা গড়ে উঠেছে, তা যেন শেষ পর্যন্ত অটুট থাকে।
শিক্ষিকা মানসী মজুমদার বিরাজমান অস্থিরতা দূর হওয়ার আকুতি জানিয়ে বলেন, সর্বত্র যে অস্থিরতা চলছে, তা দূর হয়ে মানুষের মধ্যে স্থিরতা আসুক। প্রভুর প্রতি ভক্তের ভালোবাসার পাশাপাশি ভক্তদের জন্য জ্ঞানচর্চার সুযোগ তৈরি হোক।
অন্যদিকে, শিক্ষক উত্তম মণ্ডল শিক্ষা ও জ্ঞান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, জীবন আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। শান্তির সমাজ বিনির্মাণে সকলকে একত্রিত হয়ে মায়ের আশীর্বাদ ও করুণা প্রার্থনা করতে হবে।
পূজা উপলক্ষে বিভিন্ন মণ্ডপে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নানা লোকজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যা উৎসবের আবহকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলেছে।
মন্তব্য করুন