
এমএ মামুন, দেবহাটা: দেয়ালে ফাটল, ছাদ ছিদ্র, খসে পড়ছে পলেস্তারা। বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে, মেঝে হয়ে ওঠে পিচ্ছিল। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই চলছে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার খেজুরবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান। এতে শ্রেণী কার্যক্রমের সময় আতঙ্কে থাকে শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় ২৬০ জন শিক্ষার্থী ও নয়জন শিক্ষক রয়েছেন। বিদ্যালয়ের তিনটি ভবনের মধ্যে দুটি জরাজীর্ণ। বিশেষ করে ১৯৭৪ সালে নির্মিত টিনশেড ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ করে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, শ্রেণীকক্ষে বসে পাঠ নেওয়ার সময় দেয়ালের ফাটল ও ছাদ থেকে পানি পড়া দেখে তাদের ভয় হয়। বৃষ্টির সময় মেঝে পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় চলাচলেও সমস্যা হয়। তাদের দাবি, দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সরিয়ে নিরাপদ শ্রেণীকক্ষের ব্যবস্থা করা হোক।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোহাব্বতুন্নেসা জানান, ক্লাস চলাকালে একদিন হঠাৎ একটি ফ্যান খুলে পড়ে যায়। সৌভাগ্যক্রমে এতে কেউ হতাহত হয়নি। ভবনের দেয়ালে পেরেক ঠুকলেও পলেস্তারা খসে পড়ে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জরাজীর্ণ ভবন অপসারণ করে নতুন ভবন নির্মাণ করা জরুরি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সালেহ মুছা বলেন, তিনটি ভবনের মধ্যে দুটি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে টিনশেড ভবনটি দ্রুত অপসারণ করা প্রয়োজন। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের দুটি কক্ষে প্রাক্-প্রাথমিকের ৩১ জন এবং তৃতীয় শ্রেণীর ৫৩ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। গত তিন বছর ধরে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম জানান, ভবন সংকটের পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমে থাকায় পাঠদান ও স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়।
তিনি মনে করেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি কার্যকর পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, জেলায় ১ হাজার ৯৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ২৫০টি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে ৩৬ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোর নতুন ভবন নির্মাণের জন্য অগ্রাধিকার তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পিইডিপি-৫ প্রকল্পের আওতায় পর্যায়ক্রমে ভবন নির্মাণের আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জরুরি সংস্কার ও বিকল্প পাঠদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
এ অবস্থায় খেজুরবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও এলাকাবাসী।
তাঁদের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের মাঠের পানি নিষ্কাশন সমস্যারও স্থায়ী সমাধান করা হোক।

মন্তব্য করুন