
ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুর (ডি. বি) মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলা লোকসংস্কৃতির উজ্জ্বল নক্ষত্র, পরম সাধক ও মানবতাবাদী কবি ফকির লালন সাঁইজির তিরোধান দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আসমাতারা জাহান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এমাদুল ইসলাম। সহকারী শিক্ষক এস এম শহীদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সহকারী প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) অরুন কুমার মন্ডল, সহকারী শিক্ষক দেবব্রত ঘোষ, শামীমা আক্তার, আজহারুল ইসলাম, মৃণাল কুমার বিশ্বাস, খালেদা খাতুন, গীতা রানী সাহা, কনক কুমার ঘোষ, হারুন অর রশিদ এবং শিক্ষার্থী আয়ুশী মল্লিক, ঝিলিক সরকার প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, লালন সাঁইজি কেবল একজন গীতিকার বা সুরকার ছিলেন না; তিনি ছিলেন এক দূরদর্শী সমাজসংস্কারক, মহান দার্শনিক ও অসাম্প্রদায়িকতার প্রতীক। এমন এক সময়ে তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন, যখন সমাজ কুসংস্কার, জাতিভেদ এবং বর্ণবাদের অন্ধকারে আচ্ছন্ন ছিল। সেই অন্ধকারের বিরুদ্ধে লালন সাঁইজি কোনো অস্ত্র তুলে নেননি, বরং হাতে তুলে নিয়েছিলেন একতারা আর সুর তুলেছিলেন পরম সত্য ও মানবতার গানে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, লালনের দর্শন ছিল অত্যন্ত গভীরভাবে প্রোথিত, অথচ তা পরিবেশিত হতো বাংলার সাধারণ মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি সুর ও সহজ ভাষায়। তাঁর কাছে মানুষের চেয়ে বড় বা পরম কিছু ছিল না। তিনি ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে কেবল ‘মানুষ’ পরিচয়ে দেখতে চেয়েছেন। তাঁর আত্মসন্ধান ও পরমাত্মার অনুসন্ধানের মূল কেন্দ্রবিন্দুই ছিল মানবদেহ ও মানবমন।
বক্তারা আরও বলেন, আজকের এই আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর যুগে, যখন পৃথিবীজুড়ে হিংসা, হানাহানি এবং বিভেদের প্রাচীর উঁচু হচ্ছে, তখন লালন সাঁইজির বাণী আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। একটি বৈষম্যহীন, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সম্প্রীতির সমাজ গড়তে লালনের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবতাবাদী দর্শনকে হৃদয়ে ধারণ করা অপরিহার্য। লালন সাঁইজির ভাবধারা কেবল গানে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের চিন্তায় ও দৈনন্দিন জীবনে ধারণ করে সব ভেদাভেদ ভুলে এক সুন্দর সমাজ ও বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা।

মন্তব্য করুন