
শ্যামনগর প্রতিনিধি: সুন্দরবনে বনদস্যুদের আত্মসমর্পণের নামে ‘নাটক’ বন্ধ করে তাঁদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন বনজীবী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।
একই সঙ্গে জেলে-বাওয়ালীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় বন্ধ এবং দস্যুদের স্থানীয় সহযোগীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবিও তুলেছেন তাঁরা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা এলাকায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করার এই দাবি জানান তারা।
নাগরিক সমাজ, জেলে-বাওয়ালী ও সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকাবাসীর ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে কয়েক হাজার বনজীবী ও স্থানীয় মানুষ অংশ নেন।
প্রথমে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ‘নদী বাঁচাও, বন বাঁচাও’, ‘বনদস্যুদের রুখে দাও’, ‘জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে’, ‘সুন্দরবন থেকে জলদস্যুদের হটাও’, ‘সুন্দরবন বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ ও ‘বনজীবীদের জীবনের নিরাপত্তা চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দেন। মিছিল শেষে এলাকার একটি ইবতেদায়ী মাদ্রাসার মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ও বনজীবী ফোরামের সভাপতি সালাউদ্দিন লিটন, আসন্ন নির্বাচনের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাস্টার আব্দুর রহিম, কামরুল ইসলাম বাবলু, ইয়াসিন আরাফাত, ফরিদা পারভীন ও পারুল আক্তার, সমাজকর্মী আশিকুর রহমান এবং জেলেদের পক্ষে ইকবাল হোসেন মন্টু, কবিরুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, মাস্টার আবু তালেব প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে-বাওয়ালীরা জীবিকার তাগিদে বনে গিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধ ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। আত্মসমর্পণের নামে লোকদেখানো কার্যক্রম বন্ধ করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, শুধু দস্যুদের তৎপরতা বন্ধ করলেই হবে না, স্থানীয়ভাবে যাঁরা তাঁদের সহযোগিতা করছেন, তাঁদেরও চিহ্নিত করতে হবে। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করে জেলে-বাওয়ালীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
বন বিভাগের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে বক্তারা অভিযোগ করেন, ড্রোন ব্যবহার করে বনে যাওয়া জেলেদের শনাক্ত করা গেলেও বনদস্যুদের ধরা যাচ্ছে না। বনজ সম্পদ আহরণের জন্য নিয়মিত রাজস্ব দেওয়ার পরও বনজীবীরা নিরাপত্তা পাচ্ছেন না বলে তাঁরা জানান।
সমাবেশ থেকে দাবিগুলো বাস্তবায়িত না হলে গণ-অনশন কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন বক্তারা। তাঁরা দ্রুত সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করে জেলে-বাওয়ালীদের নিরাপদে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মন্তব্য করুন