
শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরের ৬৯ নম্বর বংশীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে দোকান তুলে দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের (খুদু) বিরুদ্ধে। এ কারণে বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ হওয়া নতুন ভবন নির্মাণ বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তাই বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) উপজেলার বংশীপুর বাজারে স্থাপনাটি দ্রুত সরিয়ে বিদ্যালয়ের জায়গা উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন করে বিদ্যালয়টির শিশু শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) সদস্যদের আয়োজনে প্রধান শিক্ষক মদনমোহন মিস্ত্রির সভাপতিত্বে কর্মসূচিটি পালিত হয়।
মানববন্ধনে শিক্ষকেরা বলেন, বিদ্যালয়ের ভবনটি টিনশেড হওয়ায় বর্ষায় জরাজীর্ণ চাল দিয়ে পানি পড়ে, আবার গরমে প্রচণ্ড তাপে শিশুদের পড়াশোনা করা কষ্টকর হয়ে ওঠে। তাই নতুন ভবনের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। ভবন বরাদ্দও হয়েছে। নির্মাণের লক্ষ্যে স্কুলের শৌচাগার ভেঙে ফেলা হয়েছে। কিন্তু সীমানার ভেতরে দোকানঘর তুলে শফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে জায়গা দখল করে রেখেছেন। ফলে ভবনের জন্য জায়গা সংকুলান না হওয়ার আশঙ্কায় বরাদ্দ বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শিক্ষকেরা স্থাপনাটি উচ্ছেদের দাবি জানান।
বড়দের সঙ্গে মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছে শিশুরাও। তাদের চোখেমুখে নতুন শ্রেণিকক্ষের প্রত্যাশা। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রুকাইয়া ইয়াসমিন জানায়, বর্ষায় শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে, গরমে পড়াশোনা করতে কষ্ট হয়। তাই তারা নতুন ভবন চায়। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তারের চাওয়া, স্কুলের জায়গায় দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা হোক, যাতে তারা স্বস্তিতে পড়াশোনা করতে পারে।
অভিভাবক বন্যা আক্তার বলেন, আমরা চাই স্কুলের নতুন ভবন হোক। কিন্তু এই অবৈধ স্থাপনার জন্য তা সম্ভব হচ্ছে না। স্থাপনা উচ্ছেদ করে যত দ্রুত সম্ভব ভবনের কাজ শুরু করা হোক।
বিদ্যালয়টির এসএমসির অভিভাবক সদস্য মেহেদী হাসান বলেন, দোকানটি সরানোর জন্য তাঁরা অনেক দিন ধরে চেষ্টা করছেন, কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। স্কুলের অবকাঠামোগত অবস্থা খুবই খারাপ, শিশুদের জন্য এটি কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
প্রধান শিক্ষক মদনমোহন মিস্ত্রি অভিযোগ করেন, অনেক আগে স্কুলের সীমানার ভেতরে জবরদখল করে স্থাপনাটি করা হয়েছিল। এখন এই দোকানের কারণে নতুন বরাদ্দ পাওয়া ভবনের নির্মাণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, ভবন নির্মাণ বন্ধ হলে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হবে। তাঁর দাবি, দখলকারী ব্যক্তি হঠাৎ একটি কাগজ বের করে জমিটি তাঁর বলে দাবি করছেন। ওই কাগজের সত্যতা কতটুকু, তা তাঁরা জানেন না।
এসএমসির সভাপতি ফাতিমাতুজ জোহরা শম্পা বলেন, জার্মানির অর্থায়নে একটি প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয়ের জন্য ভবন বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু স্থাপনাটির কারণে নির্মাণকাজ শুরু করা যাচ্ছে না। এতে প্রকল্পটি বাতিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত স্থাপনাটি অপসারণের দাবি জানান।
এদিকে বিদ্যালয়ের জায়গা দখলের বিষয়ে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি ৩১ বছর ধরে ওই জায়গায় দোকান করে ভোগদখলে আছেন। ২০০৭ সালে জেলা পরিষদ থেকে জায়গার কাগজ নিজের নামে করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, এটা স্কুলের জায়গা হলে ছেড়ে দেব।

মন্তব্য করুন