
শ্যামনগর প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও অধিকার নিয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ নেন ১২০ জন শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সুন্দরবন বালিকা বিদ্যালয়ের হলরুমে সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থা (সামস্) এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এতে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের ৫০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষক পরীক্ষা কমিটির দায়িত্ব পালন করেন। পরে মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া নয়জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সুন্দরবন বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জি এম মিজানুর রহমান। আরো উপস্থিত ছিলেন সহকারী শিক্ষক রণজিৎ কুমার বর্মন, ভবেশিন্দুর বৈদ্য ও খোকন বৈদ্য, সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক কৃষ্ণপদ মুন্ডা, কমিউনিটি কো-অর্ডিনেটর অলক কুমার পাল, কমিউনিটি অর্গানাইজার মনিকা সরকার ও হৈমন্তী রানী, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন গ্রিন ক্লাইমেট অ্যাকশন টিমের সভাপতি অসিত কুমার মুন্ডা এবং মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন গ্রিন ক্লাইমেট ইয়ুথ ক্লাবের সভাপতি মোহনা রানী।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংস্থার কমিউনিটি অর্গানাইজার মোমিনুর রহমান।
বক্তারা বলেন, পরিবেশকে সুন্দর ও বাসযোগ্য রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জাতি, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের পার্থক্য থাকলেও বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার সমান। মুন্ডা, ঋষি, জেলে কিংবা কাহার- পরিচয় যা-ই হোক, প্রত্যেকের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, কোনো মানুষকে বৈষম্যের চোখে দেখা উচিত নয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির মাধ্যমে সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা, সুন্দরবনসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণে নতুন প্রজন্মকে সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তাঁরা।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন, নেটজ বাংলাদেশ এবং বারসিকের সহায়তায় সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থা কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করছে। পরিবেশ সংরক্ষণে তরুণ ও যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করা এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও অধিকার নিয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোই এ আয়োজনের লক্ষ্য।

মন্তব্য করুন