

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা অসহায় ও গৃহহীন ৯৪টি পরিবার পেল জলবায়ু সহিষ্ণু ঘর। এতে নিরাপদ ও স্থায়ী আশ্রয়ের পাশাপাশি নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে পরিবারগুলো।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মঠবাড়ী গ্রামে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সহযোগিতায় জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন বাস্তবায়িত আরএইচএল প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ঘরগুলো অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে হস্তান্তর করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাস।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের পরিচালক (মাইক্রোফাইন্যন্স) মোঃ আজিজুল হক, সহকারী প্রকল্প পরিচালক মোজাম্মেল হক, সাতক্ষীরা জোনাল ম্যানেজার আজাদুল রহমান, প্রকল্প সমন্বয়কারী মোঃ ইউসুফ আলী, ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার মোঃ তরিকুল ইসলাম, ইউপি সদস্য নুর ইসলাম খোকা, মাসুম বিল্লাহ মিন্টু প্রমুখ।
ইউপি সদস্য নূর ইসলাম খোকা বলেন, উপকূলের দুর্যোগপ্রবণ এলাকা কয়রার মানুষ বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ধরনের জলবায়ু সহিষ্ণু ঘর নির্মাণের উদ্যোগ সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগ।
ঘর পেয়ে ষাটোর্ধ্ব ইউসুফ আলী বিশ্বাস আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেন, ঝড়ে আমার ঘর ভেঙে গিয়েছিল। অনেক কষ্ট করে স্ত্রী পরিবার নিয়ে বসবাস করতাম। এখন আমার মাথার উপর ছাঁদ আছে। বাঁধ ভেঙে পানি আসলে আগে ঘর ছেড়ে উঁচু যায়গায় যেতাম, কিন্তু এখন থেকে নিজের ঘরেই থাকতে পারবো।
জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোঃ আজিজুল হক বলেন, কয়রার অসহায় দরিদ্র মানুষ যাদের ঘর ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে গিয়েছিল তাদের থেকে বাছাই করে ৯৪টি পরিবারকে এই ঘর প্রদান করা হয়েছে।
জলবায়ু সহিষ্ণু প্রতিটি ঘর ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস মোকাবেলার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। যেখানে উঁচু প্লাটফর্ম, শক্ত কনক্রিটের ভিত্তি, কনক্রিটের ছাঁদ ও সুরক্ষিত জানালা দরজা, একটি করে টয়লেট ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও ৩৭৫টি পরিবারকে ছাগল পালনের জন্য ঘর নির্মাণ, ৩৪৬ পরিবারকে কাঁকড়া চাষের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা, ৩৫০ পরিবারকে সবজি চাসের উপকরণ বিতরণ, দরিদ্র নারীদের বিনামূল্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুলী বিশ্বাস বলেন, জলবায়ু সহিষ্ণু এ ঘর গুলো শুধুই মানুষের বসতঘর নয়, এটা উপকূলের মানুষের জন্য সম্মানের প্রতীক।
মন্তব্য করুন