
এম জুবায়ের মাহমুদ: শ্যামনগরের আটুলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বিড়ালাক্ষী গ্রামে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ীরা।
অভিযোগ, স্থানীয় আব্দুল বারী মোল্লা এবং তার ছেলে সুজন মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।
স্থানীয়রা জানান, বারী মোল্লার বড় ছেলে মিয়ারাজ মোল্লা বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন। তিনি সাধারণ মানুষকে জামায়াত-বিএনপি সমর্থক বলে চিহ্নিত করে অর্থ আদায় করতেন। সেই সাথে একক আধিপত্যে নিয়ন্ত্রণ করতেন গোটা আটুলিয়ার মাদক ব্যবসার।
সরকার পতনের পর মিয়ারাজ মোল্লা পালিয়ে গেলে তার রেখে যাওয়া ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন তার পিতা বারী মোল্লা ও ছোট ভাই সুজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা এখন মাদক ব্যবসার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। মাদকের আস্তানায় পরিণত হয়েছে তাদের বাড়ি ।
অনুসন্ধানে দেখাযায়, বারী মোল্লা ও তার ছেলে সরাসরি বাড়ি থেকে গাঁজা ইয়াবার চালান বিভিন্ন জায়গায় পাঠান। তাদের হয়ে কাজ করছে স্থানীয় তৈবুর, কামরুলসহ অন্তত ১৪-১৫ জন ব্যবসায়ী, যারা আটুলিয়া, পদ্মপুকুর, কাশিমাড়ির পাশাপাশি আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর, শ্রীউলা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ করেন। তারা
গড়ে তুলেছে মাদক সরবরহের এক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক।
এই নেটওয়ার্কের হয়ে মাদক পৌঁছে দেয় ভাড়ায় চালানো মোটরসাইকেল চালক আবু সাঈদ ওরফে ( হিটলার) নিশান হোসেনসহ কয়েকজন।
ফোন করে অর্ডার করলেই চালকরা মোটরসাইকেল যোগে তাদের চাহিদা মতো মাদক পৌঁছে দিচ্ছে খুচরা ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের কাছে।
এছাড়া, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বারী মোল্লা এলাকার কিছু কিশোর ও যুবককে বিনামূল্যে মাদক দিয়ে গ্যাং তৈরি করেছেন। এ গ্যাংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পায়।
স্থানীয় আবু নাঈম জানান, বিড়ালাক্ষী গ্রাম সবসময় শান্তিপূর্ণ ছিল। কিন্তু বারী মোল্লার পরিবারের মাদক ব্যবসার কারণে প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অচেনা লোকজনের আনাগোনা লেগেই থাকে। ফলে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অভিভাবকেরা জানান, মেয়েদের স্কুল-কলেজে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছেন তারা। কেউ প্রতিবাদ করলে মাদক সিন্ডিকেটের গ্যাং তাদের হুমকি দেয়।
জানা গেছে, মিয়ারাজ পলাতক থাকলেও তার নির্দেশনায় সীমান্তবর্তী কৈখালী, নুরনগর থেকে মাদক নিয়ে আসা হয় আটুলিয়ায়।
এ বিষয়ে আব্দুল বারী মোল্লা বলেন, আমি এ ধরনের কাজের সাথে জড়িত না। তার ছেলে সুজন মোল্লা বলেন, আমি সাতক্ষীরা থেকে এনে নিজে খাইতাম, পরে বিক্রি করতাম। সপ্তাহ খানেক হলো আর করি না।
এ বিষয়ে আটুলিয়ার বিট অফিসার বিপ্লব হোসেন বলেন মদকের বিরুদ্ধে আমরা সব সময় জিরো টলারেন্স। বিষয়টি দেখছি।
স্থানীয়রা মাদক সিন্ডিকট নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন