
উপকূলীয় প্রতিনিধি: দ্য এডিটরস-এ সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশি তৎপরতায় অবশেষে বাড়ি ফিরেছেন ছেলেকে না পেয়ে ভাটা সর্দার কর্তৃক তুলে নিয়ে যাওয়া সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালি গ্রামের দীপালী রানী।
শনিবার তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
দীপালী রানী ওই গ্রামের পঞ্চানন মণ্ডলের স্ত্রী। তাঁর ছেলে জগদীশ মণ্ডল ইটভাটার শ্রমিক।
পরিবারের সদস্য একাদশী মণ্ডলের দাবি, শ্রীফলকাটি গ্রামের জিয়াদ আলীর ছেলে আমজাদ হোসেন জগদীশকে বরিশালের একটি ইটভাটায় কাজের জন্য অগ্রিম টাকা (দাদন) দিয়েছিলেন। তবে জগদীশ কাজে না যাওয়ায় আমজাদ তাঁদের বাড়িতে গিয়ে তাঁর খোঁজ করেন।
দিপালী রানী বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মোবাইল করে তাকে লুৎফর রহমানের দোকানের সামনে নেওয়া হয়। পরে জগদীশের সঙ্গে কথা বলার কথা বলে তাঁকে মোটরসাইকেলে তুলে শ্রীফলকাটি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে শ্রমিক বোঝাই বাসে তুলে বরিশালের হিজলখালির কামালপুর এলাকার একটি ইটভাটায় নেওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার পর থানায় যোগাযোগ করেন বলে জানান একাদশী মণ্ডল।
তাঁর অভিযোগ, প্রথমে তাঁদের অভিযোগ গ্রহণ না করে জগদীশের অগ্রিম টাকা নেওয়ার বিষয়ে কৈফিয়ত চাওয়া হয়। পরে শনিবার ভোরে শ্যামনগর থানায় গিয়ে তাঁরা দীপালীকে দেখতে পান। এ সময় উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন তাঁকে বিষয়টি নিয়ে বেশি দূর না এগোনোর পরামর্শ দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
দীপালী রানী জানান, তাঁকে এক কাপড়ে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হয়। আমজাদ তাঁকে শাড়ি, সায়া ও ব্লাউজ কিনে দেন, আর বলেন আপনি আমার ধর্মের মা। আমি আপনাকে উঠিয়ে নিয়ে এসেছি এ কথা কাউকে বলবেন না। আমাকে বাচাইয়েন। তবে তিনি সেগুলো ব্যবহার করেননি। তাঁর প্রশ্ন, ছেলে কোনো অপরাধ করলে তার দায় কেন মাকে নিতে হবে? এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
জেলেখালি গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইনগতভাবে তার সমাধান করা উচিত। ছেলের পরিবর্তে মাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে আমজাদ হোসেন বলেন, তিনি দীপালী মণ্ডলকে জোর করে নিয়ে যাননি। পরে বিষয়টি জানতে পারলাম, আমি নাকি জোর করে উঠিয়ে নিয়ে এসেছি। সেজন্য পুলিশের কথামতো দীপালীকে পুলিশের কাছে উঠিয়ে দিয়েছি।
শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা জানার পরে ভিকটিমকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে দিয়ে দিয়েছি।

মন্তব্য করুন