
ডেস্ক রিপোর্ট: আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথামার্থে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. ইউনূসের এমন ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী রোডম্যাপও ঘোষণা করেছে ইসি। তবে, জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অনৈক্য, নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তে আসতে না পারা এবং দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে আদৌ নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হবে কি না তা নিয়ে এখনো তৃণমূল মানুষের সংশয় কাটেনি। এরই মধ্যে সম্প্রতি শেষ হয়েছে ডাকসু ও জাকসু নির্বাচন। এই নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
অনেকেই মনে করছেন ডাকসু ও জাসকু নির্বাচন দেশের বড় বড় দলগুলোর জন্য সতর্ক বার্তা। এতে কোনো কোনো দল চিন্তিত হয়ে পড়লেও বেশ উজ্জীবিত হয়েছে জামায়াত-শিবির।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাতক্ষীরা শহরের একজন ব্যবসায়ী বলেন, ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনের ফলাফল এমন হবে এটা আমার কল্পনার বাইরে ছিল। যা কোনো কোনো দলের জন্য সতর্ক সংকেতও বটে। আগামী নির্বাচনে এর কিছু না কিছু প্রভাব তো পড়বেই। এটা যাদের জন্য সতর্ক সংকত তারা যদি বিষয়টি অনুধাবন করতে পারে, তাহলে তাদের জন্য ভালো। বিপরীতে ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে যারা জিতেছে তাদের মনোবল বাড়লো। তারা আরও সুসংগঠিত হবে এগিয়ে যাবে। তবে, নির্বাচন যথা সময়ে হবে কি তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
সাতক্ষীরার একজন সাংস্কৃতিক কর্মী নাম প্রকাশ না করেই বলেন, যারা সরাসরি রাজনীতিতে জড়িত তারা বলবে ডাকসু ও জাকসুর ফলাফল জাতীয় নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু সাধারণ মানুষ তো প্রভাবিত হচ্ছেই।
তিনি আরও বলেন, ডাকসু ও জাকসুতে যারা জিতেছে, তারাও গ্রামাঞ্চলের সাধারণ ঘরের ছেলে। তারাও বাড়িতে ফিরে তাদের পরিবারকে যুক্ত করবে। ইতোমধ্যে যুক্ত হয়েছে। এমনটি ৯০’র নির্বাচনের সময় দেখা গিয়েছিল।
আবার পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবিতে জামায়াতের আন্দোলনের ঘোষণাকে কেউ কেউ রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে অধিকাংশ পদে শিবিরের যে জয়, তা কাজে লাগিয়ে জামায়াত নিজেদের পক্ষে জনসমর্থনের জানান দিচ্ছে। যা সরকারকে চাপে রাখতে তাদের রাজনৈতিক কৌশলও বটে।
এ প্রসঙ্গে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, ডাকসু ও জাকসুর ফলাফল দেশবাসী মূল্যায়ন করবে। রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা দেখছি- এটা পরিবর্তনের একটা লক্ষণ। এর বাস্তব মূল্যায়নটা করবে দেশের জনগণ।
এ প্রসঙ্গে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু বলেন, ডাকসু বা জাকসু নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না। ক্যাম্পাস ছোট একটা ক্ষেত্র আর দেশে কোটি কোটি ভোটার। ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে তৃণমূলের মানুষ ওতোটা ভাবছে না।
মন্তব্য করুন