
ডেস্ক রিপোর্ট: বাড়ির আঙিনা থেকে ছাদ, কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা দেখছেন স্বেচ্ছাসেবকেরা। সাতক্ষীরায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংসে বাড়ি বাড়ি সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ (ভিবিডি) সাতক্ষীরা।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর, কামালনগর, মুনজিতপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বাড়ি বাড়ি যান তারা। বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে বাড়ির আশপাশে পানি জমে আছে কি না, ফুলের টব, বালতি, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, টায়ার কিংবা অন্য কোনো জায়গায় এডিস মশার প্রজননের সুযোগ আছে কি না, তা দেখার বিষয়ে সচেতন করা হয়।
স্বেচ্ছাসেবকেরা বাসিন্দাদের বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের বড় একটি কাজ শুরু করতে হবে নিজের বাড়ি থেকেই। বৃষ্টির পর কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত ফেলে দিতে হবে। যেসব পাত্রে পানি রাখা হয়, সেগুলো ঢেকে রাখতে হবে। ছাদ, বারান্দা, বাড়ির আঙিনা ও আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
শুধু নিজের বাড়ি পরিষ্কার রাখলেই হবে না, আশপাশের জায়গাগুলোর দিকেও নজর দিতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানানো, নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা এবং পরিত্যক্ত পাত্র বা আবর্জনা যেখানে-সেখানে না ফেলার বিষয়েও সচেতন করা হচ্ছে।
ভিবিডি সাতক্ষীরার সভাপতি এস এম সাজেদুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মানুষের সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক পরিবার যদি নিজেদের বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেয় এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করে, তাহলে সংক্রমণ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ (ভিবিডি) সাতক্ষীরার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু কোনো একটি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের দায়িত্ব নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। বৃষ্টির পর বাড়ির আশপাশে পানি জমেছে কি না, নিয়মিত দেখতে হবে এবং জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কারও জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা বা ডেঙ্গুর অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগে থেকেই এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ খুলনা ডিভিশন বোর্ডের কমিউনিকেশন সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিল, সাতক্ষীরা ডিস্ট্রিক্টের হিউম্যান রিসোর্স অফিসার তানজিল আলম, ট্রেজারার নাজমুল হাসান, সদর উপজেলা কমিটির করিমুন্নেসা শান্তা, কমিটি মেম্বার গোলাম হোসেন, তানভীর আঞ্জুম খান, সামির চৌধুরী, শিশু সদস্য ফালাকসহ সংগঠনের অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকেরা।
মন্তব্য করুন