
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঋতু বদলের আর কোনো ধরা বাধা নিয়ম নেই। তাই আবহাওয়ার গতি-প্রকৃতি বোঝা দিনকে দিন মুশকিল হয়ে পড়ছে। প্রযুক্তির দুনিয়ায় আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানার পদ্ধতি উন্নত হলেও রয়েছে অনেক সীমাবদ্ধতা। মাঠের কৃষক বা চাষিদের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানানোর ভাষা এখনও জটিল ও নাগালের বাইরে। তিন দশক আগের ফরমেটের পূর্বাভাস প্রণালীতে পরিবর্তন আনার দাবি বহুদিন ধরে জানিয়ে আসছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুর্যোগকালীন পূর্বাভাসের সঙ্গে বাস্তব চিত্র মেলে না বলেই সাধারণ মানুষের মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনীহা দেখা যায়। কৃষক দ্বিধায় থাকেন—ফসল ঘরে তুলবেন কিনা। সাগরের জেলেরা অনিশ্চয়তা জেনেও গভীর সমুদ্রে চলে যান মাছ ধরতে। এই অনিশ্চয়তার মাশুল দিতে হয়েছে বহুবার।
২০০৯ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’র ক্ষয়ক্ষতি সঠিকভাবে পূর্বানুমান করা যায়নি। ফলে উপকূলের হাজারো জীবন, ঘরবাড়ি, চাষের জমি ও জীবিকা ধ্বংস হয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, শুধু আইলাতেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা, বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ। এরপরও দুর্যোগ-পূর্ব সতর্কবার্তার ভাষা, গতি ও মাধ্যম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালে পৌঁছায়নি।
সময় যত গড়াচ্ছে, গ্রিনল্যান্ডের কোটি কোটি টন বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। তলিয়ে যাবার তালিকায় বাংলাদেশ যত উপরের দিকে অবস্থান করছে, তত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কাঁচঘেরা রুমে সেমিনার সিম্পোজিয়াম বাড়ছে।
যেখানে মাঠের কৃষক, সাগরের জেলে বা সুন্দরবনের বনজীবীদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে।
দিবস বা দুর্যোগকালীন তোড়জোড়ে গৎবাঁধা আয়োজন থেকে বেরিয়ে এসে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে না পারলে ১৯৮৯ সাল থেকে জাতিসংঘের ঘোষণায় পালিত হয়ে আসা দুর্যোগ প্রশমন দিবস অনেকটাই জলবায়ু ফান্ডে পার্ক ও ফুটওভার ব্রিজ তৈরির মতো বিস্ময়কর বা অর্থহীন মনে হবে।
লেখক: প্রতিষ্ঠাতা, আইসিডি
asikuzzaman174@gmail.com
(মতামত লেখকের নিজস্ব)
মন্তব্য করুন