বাংলাদেশ, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
১ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

খাল কেটে নালা বানানোর প্রকল্প যেন না হয় | তানজির কচি

বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছে। সরকার ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করতে চায়। নিঃসন্দেহে এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে, গতানুগতিক ধারায় খাল খনন করা হলে খননের অর্থ খালেই যাবে। কারণ বিগত বেশ কিছু বছরযাবত খননকৃত খালগুলো কোনো কাজেই আসেনি। না সেসব খাল বর্ষা মৌসুমের পানি নিষ্কাশনে কাজে লেগেছে, না শুষ্ক মৌসুমে সেচের কাজে লেগেছে। বরং এটা বলা যায় যে, সেগুলো ছিল খাল কেটে নালা বানানোর প্রকল্প। এটা নিয়ে নাগরিক সমাজকে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে, কিন্তু কোনো কাজে আসেনি।

খননকৃত খালগুলোর মূল সমস্যা নাব্যতা সংকটে ভরাট হয়ে যাওয়া। খালগুলোর বুক (তলদেশ) ছিল বিলের চেয়ে উঁচু। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন তো দূরে থাক, উল্টো খালের পানিতে বিল তো একাকার হয়ই, জনপদও ডুবে যায়।

এ প্রেক্ষিতে নাগরিক সমাজের মূল দাবি, খাল খনন করতে হবে ঝুড়ি-কোদালে। খননকৃত মাটি ফেলতে হবে খাল বা নদীর মূল সীমানার বাইরে। খনন হতে হবে শুষ্ক মৌসুমে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই। খননের মাটি ও খাল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দিতে হবে স্থানীয় সরকারকে। খাল থাকবে সকলের জন্য উন্মুক্ত। ফেরাতে হবে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ।

বিগত সময়ে দেখেছি- দুই বছরের খাল খনন প্রকল্প শেষ করতে পাঁচ বছর লেগেছে। খননকৃত খাল পরিণত হয়েছে নালায়। ছয় বছরের মাথায় গিয়ে দেখা গেছে, খাল আবারও ভরাট হয়ে গেছে। যেসব সুফল পাওয়ায় আশায় খাল খনন করা হয়েছে, তার কোনোটিই পাওয়া যায়নি। পুরো বরাদ্দের অর্থই পানিতে গেছে।

খাল খননের এই চিরচেনা দৃশ্য আর দেখতে চাই না। এজন্য খনন প্রক্রিয়ায় কৌশলগত পরিবর্তন আবশ্যক।

যদিও ইতোমধ্যে বেশ কিছু ইতিবাচক খবর পাওয়া গেছে। যেমন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বরাতে গণমাধ্যমে সংবাদ এসেছে, খাল শুধু খননযন্ত্র বা স্কেভেটর দিয়ে নয়, স্থানীয় মানুষের মাধ্যমে খননের সিদ্ধান্তও আছে, যাতে কর্মসংস্থান বাড়ে। একই সাথে খনন করা খালের দুই পাশে ফল গাছ রোপণ এবং খনন করা মাটি যাতে আবার খালে না পড়ে, তা নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। খবরটি শুধু ইতিবাচকই নয়, স্বস্তিদায়কও বটে।

চলমান খনন কর্মসূচিতে খালের গভীরতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে হবে। অর্থাৎ বিলের চেয়ে খালের বুক উঁচু- এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। বর্তমানে খননের ক্ষেত্রে যেটা করা হচ্ছে- তা বেশ হাস্যকর। ধরুন- একটি খাল ৬ ফিট গভীর। উপরের অংশে প্রস্থ ২০ ফিট। প্রাক্কলন অনুযায়ী, খননের পর খালটি ১৫ ফিট গভীর হওয়ার কথা। আর উপরের অংশের প্রস্থ ৩০ ফিট। সাম্প্রতিক বছরগুলো দেখা গেছে, স্কেভেটর দিয়ে খাল খননের পর প্রাক্কলন অনুযায়ী ১৫ ফিট গভীর ও উপরের অংশের প্রস্থ ৩০ ফিট হয়েছে। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে গভীরতা বাড়েনি এক ইঞ্চিও। কারণ খালের দুই পাশের মাটি কেটে বিদ্যমান পাড়ের উপরে ফেলে পাহাড়ের মতো ঢিবি বানানো হয়েছে। এবং পূর্বের গভীরতা থেকে পাহাড়ের ঢিবির উপরের অংশ পর্যন্ত মেপে গভীরতা দেখানো হয়েছে। এটাই বাস্তবতা। এতে খাল তার পূর্বের আকৃতি হারিয়ে যেমন নালা আকৃতিতে রূপান্তর হয়, তেমনি খাল খননের পরও তা বর্ষা মৌসুমের বিলের পানি নিষ্কাশনের ক্ষমতা ফিরে পায় না। জলাধার হিসেবেও বাড়ে না পানির ধারণ ক্ষমতা।

এক্ষেত্রে খাল খনন কর্মসূচির আংশিক নয়, পুরোটা ঝুড়ি কোদালে শ্রমিকদের দ্বারা করাতে হবে। আগে খাল বিশাল ছিল, এখন ছোট- এমন চিন্তা না করে খননকৃত মাটি ফেলাতে হবে খালের মূল সীমানার বাইরে। খালের মূল সীমানার মধ্যে কোনোভাবেই যেন বেড়িবাঁধ দেওয়া না হয়। এর মাধ্যমে খালের আকৃতি পূর্বের অবস্থায় ফেরানো সম্ভব।

খাল খননের মাটি বিক্রি নিয়েও প্রান্তিক পর্যায়ে নানা ঘটনা চোখে পড়ে। তাই খননের মাটি ব্যবস্থাপনায়ও কঠোর হতে হবে। প্রথমত, খননের মাটি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দিতে হবে স্থানীয় সরকারকে। দ্বিতীয়ত, খাল খননের মাটি দিয়ে পতিত নিচুঁ জমি ভরাট, প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি স্থাপনা বিশেষ করে সারাদেশের বিনা, বারি, ব্রির গবেষণা প্লটসহ অন্যান্য চত্বর ভরাট করতে হবে। এতে এসব কাজে আলাদা বরাদ্দের প্রয়োজন হবে না। সরকারের অর্থ সাশ্রয় হবে। তাই খাল খননের আগেই পানি উন্নয়ন বোর্ড, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও মৎস্য অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয় হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু দেখা যায়, বাস্তবে দেখা পানি উন্নয়ন বোর্ড খাল কেটে নালা বানায়, যা সুফলের পরিবর্তে বিপর্যয় ডেকে আনে। এজন্য সরকারকে খাল খনন কর্মসূচিতে বাস্তবতার নিরিখে তদারকির উদ্যোগ নিতে হবে।

লেখক: পরিবেশ কর্মী

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বরিশাল আদালত চত্বরে ককটেল সদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণ

বৃহস্পতিবারের মধ্যেই পদত্যাগ করছেন মির্জা ফখরুল

শ্যামনগরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

সাভারে জেএমবির আস্তানা!

নিঃস্বার্থ সমাজসেবায় উপকূল রাঙাচ্ছেন কামরুজ্জামান

৫ আগস্ট সাতক্ষীরা কারাগার ভে‌ঙে পালানো ২ আসামি গ্রেপ্তার

হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে নাগরিক উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সংবর্ধনা

বইয়ের বিকল্প কেবল বই || ‎তারিক ইসলাম

শেষ হলো ১০ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা

সাতক্ষীরা সেতুবন্ধন গড়ি নেটওয়ার্কের ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা বিষয়ক রিফ্রেসার্স প্রশিক্ষণ

১০

শ্যামনগরে অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ, আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট

১১

পাইকগাছায় নজিরবিহীন লোডশেডিং, ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ মিলছে ৩–৪ ঘণ্টা

১২

থাইল্যান্ডে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত খায়রুল বাসার

১৩

সাতক্ষীরায় দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতার ১ম পর্বে ৮টি দলের জয়

১৪

তালার উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা, এক বছরের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা চালুর ঘোষণা হাবিবের

১৫

আশাশুনিতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে অগ্রগতি সাধনে ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা

১৬

গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ: ইসি সচিব

১৭

ভোমরা স্থলবন্দরের যানজট নিরসনকল্পে যৌথ আলোচনা

১৮

বন্ধ ৩ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চালু করতে চুক্তি, বিনিয়োগ ৬১৯ কোটি টাকা

১৯

সুন্দরবনে ১শ’ হরিণের শিকারের ফাঁদ উদ্ধার

২০
error: Content is protected !!