
ডেস্ক রিপোর্ট: সন্ত্রাসী স্টাইলে সাতক্ষীরা ডে নাইট কলেজের অধ্যক্ষকে পিটিয়ে বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের পর উল্টো অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শহরের মুনজিতপুর গ্রামের মৃত এস এম অজিহার রহমানের ছেলে এস এম শরিফুজ্জামান এই অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার ভাই একেএম সফিকুজ্জামানের সদরের ঝিকটি রাজাপুর এলাকায় ৯ বিঘা সম্পত্তিতে একটি প্রজেক্ট রয়েছে। এর মধ্যে ৮ বিঘা আমার ভাইয়ের দখলে আছে। সেখানে দুইতলা বিশিষ্ট একটি ভবন রয়েছে। পাশাপাশি আরো ৩ বিঘা সম্পত্তির বায়না করা হয়েছে। বায়নাকৃত উক্ত সম্পত্তি হস্তান্তর করার জন্য জমির মালিক দখল দিতে চাইলেও দখল দিতে পারছে না। পার্শ্ববর্তী সাবেক ইউপি সদস্য খালেদা আক্তার এবং তার স্বামী উক্ত সম্পত্তির কিছু অংশ অবৈধভাবে ভোগ দখল করে আসছিলেন। এটা নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বসাবসি হয়েছে। সদর থানাতে শালিস হলেও কোন সমাধান হয়নি। উল্টো খালেদার পরসম্পদ লোভী স্বামী বাবুর আলীসহ অন্যরা বিভিন্ন সময়ে আমার ভাইকে খুন জখমসহ বিভিন্ন হুমকি প্রদর্শন করতে থাকে। এমনকি তারা সেখান থেকে উচ্ছেদ করবে মর্মে হুমকি ধামকি অব্যাহত রাখে। এর জের ধরে গত ০১ এপ্রিল বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে প্রজেক্টের শ্রমিকদের কাজ তদারকি করার সময় হঠাৎ মৃত আনারুল ইসলামের ছেলে মাহফুজুল ইসলাম, মৃত সুলতান সরদারের ছেলে বাবুর আলী, আব্দুল জলিল, বাবুর আলীর জামাতা জিয়ারুল ইসলাম, ছেলে ইসমাইলসহ কয়েকজন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু প্রজেক্টে প্রবেশ করে আমার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তখন আমার ভাই জীবনের ভয়ে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলে তারা চাইনিজ কুড়াল, দা, হাতুড়ি, চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে দরজা ভেঙে আমার ভাইকে বের করে সাপের মত পিটিয়ে অচেতন অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রাখে। এসময় তারা লক্ষ লক্ষ টাকার গ্লাস ভেঙে গুড়িয়ে দেয়, ঘরের ফার্নিচার ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এছাড়া সেখানে থাকা নগদ টাকা পায়সা সহ প্রায় ১৫ লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণাঙ্কার লুট করে। পরে সেখানে থাকা তিন লক্ষ টাকা মূল্যের এফজেড মোটর বাইকও ভেড়ে গুড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে আমি শরিফুজ্জামান সেখানে পৌঁছানোর সাথে সাথে আমার মাথায়ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে। পরবর্তীতে পুলিশের সহযোগিতায় আমরা সদর হাসপাতাল ভর্তি হই।
কিন্তু বাবুর আলী নিজেদের অপরাধ ঢাকতে তার স্ত্রীর সাথে অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ তুলে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তার স্ত্রী ৫০ বছর বয়সী একজন নারী। তারা তাকে ধর্ষণের অভিযোগে মিথ্যা মামলা দেওয়ার অপচেষ্টাও চালাচ্ছেন। অথচ আমার ভাই একজন শিক্ষক। শহরের প্রতিষ্ঠিত কলেজের অধ্যক্ষ। শুধুমাত্র নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে নিজের স্ত্রীর চরিত্রে এমন কালিমা লাগিয়ে স্বার্থ হাসিলে চেষ্টা করছেন মামলাবাজ বাবুর আলী এবং তার সহযোগী মাহফুজুল ইসলাম। অন্যদিকে আমার ভাইকে মারপিটের পর সামাজিকভাবেও হেয় করা হয়েছে। বাবর আলী ও তার জামাই জিয়ারুল দুইজন মোট ০৫ বিঘা ১৩ শতক জমি ক্রয় করে বর্তমানে তারা ১১ বিঘা জমি দখল করে খাচ্ছে। বর্তমানে আমার ভাই সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। তার বাম হাত দ্বিখন্ডিত হয়ে গেছে, পায়ের রগ কাটায় দুইটা সেলাই দেয়া আছে, সমস্ত শরীরে বিভিন্ন স্থানে গুরুতর যখন অবস্থায় আছে।
তিনি এঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করেছেন তিনি।
মন্তব্য করুন