বাংলাদেশ, শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ | সময়:
shimulsheikh862@gmail.com
২৭ জুন ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

ডেস্ক রিপোর্ট: খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষি উৎপাদন সচল রাখা, জীবিকা সুরক্ষা এবং বৈশ্বিক সার ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা) জরুরি সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।

শুক্রবার (২৬ জুন) দুটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় এই অর্থায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে বিশ্বব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসমে বলেন, এই সহায়তার মাধ্যমে ধান উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা, মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থান রক্ষা এবং জরুরি সেবা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করা হবে।

অনুমোদিত অর্থের মধ্যে ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি প্রজেক্ট’-এর আওতায় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা) দেওয়া হবে।
এই অর্থ দিয়ে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আমন মৌসুম এবং ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বোরো মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার আমদানিতে সহায়তা করা হবে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি আমদানিনির্ভর।
এই প্রকল্পের আওতায় ৬ লাখ টন গুরুত্বপূর্ণ সার আমদানির অর্থায়ন করা হবে, যার অর্ধেকই ইউরিয়া। এর ফলে প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে ক্ষুদ্র কৃষকদের ধান উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সহায়তা মিলবে।

প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার এবং বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ সুলেমান কৌলিবালি বলেন, দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে আমন ও বোরো মৌসুম থেকে। এ ছাড়া দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে সারের সরবরাহ ব্যাহত হলে তা শুধু খাদ্য নিরাপত্তাই নয়, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য পরিস্থিতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

অন্যদিকে ‘কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় ৭১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৮ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা) দেওয়া হবে। এই অর্থ দ্রুত ছাড় করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নগদ সহায়তা ও জীবিকা পুনরুদ্ধার কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে।

এ ছাড়া খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের মতো জরুরি সেবা সচল রাখতে জ্বালানি খাতেও এই অর্থ ব্যয় করা হবে। প্রকল্পটির অর্থ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ছাড় করা হবে।

বিশ্বব্যাংকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ লেসলি জিন ইউ করদেরো বলেন, বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে এই সহায়তা দ্রুত অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ তৈরি করবে। এর ফলে মানুষ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং কর্মসংস্থানকে অর্থনৈতিক ধাক্কা থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মোংলায় যুব রেড ক্রিসেন্টের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন

বাংলাদেশে ৬ লাখ চাকরি ঝুঁকিতে, বাড়তে পারে দারিদ্র্য: বিশ্বব্যাংক

নেপালে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, অল্পের জন্য বেঁচে ঢাকায় অপু বিশ্বাস

কয়রায় প্লাস্টিক-পলিথিন দূষণ রোধে শিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা

মৌচাক সাহিত্য পরিষদের কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক

সংসদ ভবনের সামনে ব্যাগ ধরে টান, রিকশা থেকে পড়ে শিক্ষিকার মৃত্যু

সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার সাতক্ষীরা, কিন্তু পর্যটনের দরজা কোথায়? || মো. মামুন হাসান

নেপালে প্রাণহানি বেড়ে ৬১৬, নিখোঁজ আড়াই হাজার

জিএম নূর ইসলাম- দৃঢ়চেতা এক সফল মানুষ || আবুল কাসেম

সাতক্ষীরায় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের সম্মেলন: সুমন সভাপতি, নয়ন সম্পাদক

১০

গাছে গাছে পেরেক ঠুকে প্রচারপত্র, দেখবে কে?

১১

দৃষ্টিপাত সম্পাদকের মৃত্যুতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের শোক

১২

২০৩০-এ বিশ্বের ৩২তম অর্থনীতি হবে বাংলাদেশ: আইএমএফ

১৩

নেপালে নিহত বেড়ে ৫৪৭, এখনো ৫১৭ বিদেশি নিখোঁজ

১৪

বীর উত্তম সি.আর দত্ত ও রঞ্জন কর্মকারের স্মরণসভা

১৫

জানুয়ারিতে বাংলাদেশে আসতে পারে ভারত

১৬

দৃষ্টিপাত সম্পাদক জিএম নুর ইসলামের মৃত্যুতে জাতীয় পার্টির শোক

১৭

বেতনা তীরে ০৭০৯’র বৃক্ষরোপণ, নদী ও পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার

১৮

হাম উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু, নতুন রোগী ১১৭০

১৯

দেবহাটায় যাত্রীবাহী বাসের সাথে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, মৎস্য ব্যবসায়ী নিহত

২০
error: Content is protected !!