বাংলাদেশ, শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
২৮ আগস্ট ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

বেতনা তীরে ০৭০৯’র বৃক্ষরোপণ, নদী ও পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার

সকালের নরম আলো তখন নদীর জলে এসে পড়েছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শাল্য মাছখোলা এলাকায় বেতনার তীরে একে একে জড়ো হন কয়েকজন বন্ধু। কারও হাতে অর্জুনের চারা, কারও হাতে জাম, কাঠবাদাম কিংবা জারুল। তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিশুরাও। লক্ষ্য একটাই- নদীর তীর রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা।

শুক্রবার সকালে সাতক্ষীরা সদরের শাল্য মাছখোলা এলাকায় বেতনা নদীর তীরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে এস.এস.সি ২০০৭ ও এইচ.এস.সি ২০০৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে পালিত এই কর্মসূচিতে নদীর তীরজুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়।

শাল্য সেতুর পাশ থেকে চেয়ারম্যানের বলফিল্ড পর্যন্ত রোপণ করা হয় অর্জুন, জাম, কাঠবাদাম, কদবেল, জারুল, কৃষ্ণচূড়া ও কদমফুলের চারা।

নদীর তীরকে সবুজ বেষ্টনীতে পরিণত করার পাশাপাশি এসব গাছ ভবিষ্যতে ছায়া, সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে- এমন প্রত্যাশা আয়োজকদের।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলেন, নদী শুধু পানির প্রবাহ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এলাকার মানুষের জীবন, জীবিকা ও পরিবেশ। নদীর তীর দখল, ভাঙন ও পরিবেশের নানা সংকটের পাশাপাশি নির্বিচারে গাছ কাটার কারণে প্রকৃতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই নদীর তীরে বেশি বেশি গাছ লাগানো এবং সেগুলোর পরিচর্যা করা প্রয়োজন।

কর্মসূচিতে সফিউল আলম, এস এম আশরাফুল ইসলাম, রাহুল ব্যানার্জী, আব্দুল হালিম ও আজিজুর রহমানসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে উৎসাহ নিয়ে অংশ নেয় স্থানীয় কোমলমতি শিশুরাও।

বৃক্ষরোপণের সময় শিশুদের হাতে যখন একেকটি চারা তুলে দেওয়া হচ্ছিল, তখন সেখানে তৈরি হয় অন্য রকম এক পরিবেশ। ছোট ছোট হাতে মাটিতে গর্ত করে চারা বসানো, তারপর মাটি চাপা দেওয়া- সবকিছুতেই ছিল আনন্দ ও আগ্রহ।

আয়োজকেরা মনে করেন, শিশুদের এমন পরিবেশবান্ধব কাজে যুক্ত করার মধ্য দিয়ে প্রকৃতির প্রতি তাদের দায়িত্ববোধও তৈরি হবে।

এসএসসি ২০০৭ ও এইচএসসি ২০০৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা স্বাগত জানিয়েছেন।

তাঁদের প্রত্যাশা, বেতনা তীরের এই সবুজায়ন কর্মসূচি শুধু একটি দিনের বৃক্ষরোপণে সীমাবদ্ধ থাকবে না; নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে একদিন এসব চারা বড় গাছে পরিণত হবে। তখন বেতনার তীর হয়ে উঠবে আরও সবুজ, শীতল ও প্রাণবন্ত।

আয়োজকদের ভাষায়, আজকের লাগানো একটি চারা হয়তো আগামী দিনের একটি বড় গাছ। সেই গাছের ছায়ায় দাঁড়াবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। তাই পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়- নদীর তীরের মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের প্রত্যেকের। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই বেতনার তীরে ০৭০৯-এর এই বৃক্ষরোপণ।

লেখা: এস এম আশরাফুল ইসলাম, সদস্য, ০৭০৯ ব্যাচ

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গাছে গাছে পেরেক ঠুকে প্রচারপত্র, দেখবে কে?

দৃষ্টিপাত সম্পাদকের মৃত্যুতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের শোক

২০৩০-এ বিশ্বের ৩২তম অর্থনীতি হবে বাংলাদেশ: আইএমএফ

নেপালে নিহত বেড়ে ৫৪৭, এখনো ৫১৭ বিদেশি নিখোঁজ

বীর উত্তম সি.আর দত্ত ও রঞ্জন কর্মকারের স্মরণসভা

জানুয়ারিতে বাংলাদেশে আসতে পারে ভারত

দৃষ্টিপাত সম্পাদক জিএম নুর ইসলামের মৃত্যুতে জাতীয় পার্টির শোক

বেতনা তীরে ০৭০৯’র বৃক্ষরোপণ, নদী ও পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার

হাম উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু, নতুন রোগী ১১৭০

দেবহাটায় যাত্রীবাহী বাসের সাথে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, মৎস্য ব্যবসায়ী নিহত

১০

সাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

১১

শার্শা সীমান্তে বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগজিন উদ্ধার

১২

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে ডুবে ৫ শিশুর মৃত্যু

১৩

গণমানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন দৈনিক দৃষ্টিপাত সম্পাদক নুর ইসলাম

১৪

সাতক্ষীরার দায়িত্ব পেলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান

১৫

এখন জামিন চাই না, বাসায় যাওয়ার তাড়া নেই: ট্রাইব্যুনালে দীপু মনি

১৬

সেপ্টেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল: সিইসি

১৭

সালিশে পুলিশের উপস্থিতিতে হত্যার হুমকির অভিযোগ

১৮

কালিগঞ্জে গবাদিপশুর রোগ প্রতিরোধ ও খামারিদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে উঠান বৈঠক

১৯

কালিগঞ্জে সার ব্যবস্থাপনা আইন লঙ্ঘনে জরিমানা

২০
error: Content is protected !!