বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
২১ জুলাই ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

বেঁচে থাকার জন্য পলিথিনের খুঁপড়িই শেষ ভরসা প্রতিবন্ধী মা-মেয়ের

ফরহাদ হোসেন, কয়রা (খুলনা): রোদে যেমন অসহনীয় গরম, তেমনি বৃষ্টিতে ভেসে যায় ঘর। এমনই একটি পলিথিনের খুঁপড়িতে জীবন কাটছে প্রতিবন্ধী মা-মেয়ের। বছরের পর বছর মানবেতর জীবনযাপন করলেও কোনো স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা হয়নি তাদের।

খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের চোরামুখা খেয়াঘাটের পাশে কপোতাক্ষ নদের কোল ঘেঁষে তাদের বসবাস।

এই অভাগী মায়ের নাম মোছিনা (৫৬) এবং তার মেয়ের নাম মিনারা (৩১)।

মা মোছিনা বেগম মানসিক প্রতিবন্ধী এবং মেয়ে মিনারা শারীরিক প্রতিবন্ধী। তাদের সংসারে নেই উপার্জনক্ষম কোনো মানুষ।

জানা গেছে, মিনারা যখন মায়ের গর্ভে, ঠিক তখনই অসহায়ত্বের সাগরে ভাসিয়ে মোছিনাকে ফেলে রেখে চলে যান তার স্বামী। সেই থেকে শুরু হয় মা ও মেয়ের বেঁচে সংগ্রাম। একটি কলস আর থালা-বাটিই যেন তাদের সম্বল।

প্রতিবেশীদের সহযোগিতা এবং মাঝে মধ্যে সরকারি ভাতার টাকায় কোনো মতে দিন কাটে তাদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, খুঁপড়ি ঘরের চারপাশে দেয়াল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে শতছিন্ন রঙিন কাপড় ও প্লাস্টিকের চটের বস্তা। ঘরটির চাল বলতে আছে কেবল কিছু পলিথিন, যা সামান্য বাতাসেই ওড়ার উপক্রম হয়। বর্ষার রাতে যখন আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে, তখন পানি পড়ে কাদা জমে যায় ঘরের ভেতর। বসার কিংবা ঘুমোনোর মতো ন্যূনতম জায়গাটুকুও অবশিষ্ট থাকে না। সারারাত ভিজেই পার করতে হয় তাদের। জানালা দরজাহীন এমন একটি খুঁপড়িতে ৩১ বছর বয়সী তরুণীকে নিয়ে দিন কাটছে মোছিনার।

মোছিনা বেগমের প্রতিবেশীরা বলেন, তার নামে একটি বিধবা ভাতার কার্ড থাকলেও বর্তমান নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সেই সামান্য টাকায় মা-মেয়ের তিন বেলার আহার তো দূরের কথা, কয়েকদিনের চাল-ডাল কেনাই অসম্ভব হয়ে পড়ে। তারা খুব কষ্টে আছে। বৃষ্টি হলে সারারাত জেগে থাকতে হয়। তাদের থাকার মতো একটা ঘর করে দিলে বাকি জীবনটা একটু শান্তিতে কাটাতে পারতো।

স্থানীয় বাসিন্দা আমির হামজা জানান, মোছিনা বেগমের থাকার মত কোন ভিটেবাড়ি নাই। প্রতিবন্ধী মা মেয়ে বাধ্য হয়ে বেঁড়িবাধের পাশে পলিথিনে মোড়ানো খুঁপড়িতে থাকে। বহুবার বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নজরে আনা হলেও এখনো স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা হয়নি। তাদের জন্য দ্রুত একটি নিরাপদ ঘর নির্মাণ করা প্রয়োজন। এজন্য সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি ।

​দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওসমান গনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তাদের আবাসনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেব।

​কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না, আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। হতদরিদ্র এই পরিবারটির পুনর্বাসনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জুলাইয়ে ‌‘শ্রেষ্ঠ ওসি’ নির্বাচিত হলেন কালিগঞ্জ থানার শহিদুল ইসলাম

কালিগঞ্জে আহছানিয়া ঘোজাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন

মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা আটক

রাত ১টার মধ্যে যেসব অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে প্রচণ্ড ঝড়

কয়রায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উদযাপন

‘সবকিছু মনে রাখা হবে’, শিক্ষার্থী বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ অরিজিৎ সিং

‘কালই জমি দখল নেব, কত ক্ষমতা আছে ঠেকাস’

এনসিপির এক নেতাকে শোকজ, অন্যজনকে অব্যাহতি

নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ দাবিতে বাসভবনের সামনে কংগ্রেস

তালা বাজার বণিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন

১০

সব মামলায় জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি

১১

শ্যামনগর উপজেলা ক্লাইমেট এ্যাকশন ফোরামের ত্রৈমাসিক সভা

১২

বেঁচে থাকার জন্য পলিথিনের খুঁপড়িই শেষ ভরসা প্রতিবন্ধী মা-মেয়ের

১৩

নলতায় উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে অতিরিক্ত ডিআইজি জয়নুদ্দীন

১৪

সাতক্ষীরায় রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উৎসব

১৫

সরুলিয়ার ছোট কাশিপুরে অভিভাবক সভা

১৬

পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট না হলে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনতে পারেন প্রধানমন্ত্রী

১৭

এমপি গাজী নজরুলের ঘটনায় যা বলছে জামায়াত

১৮

গাজী নজরুলের আরেকটি ভিডিও ভাইরাল

১৯

জামায়াত এমপির ‘দ্বিতীয় বিয়ে’র ৭ দিন পরও স্ত্রীর বায়োডাটায় লেখা ‌‘আনম্যারিড’

২০
error: Content is protected !!