
ফরহাদ হোসেন, কয়রা (খুলনা): রোদে যেমন অসহনীয় গরম, তেমনি বৃষ্টিতে ভেসে যায় ঘর। এমনই একটি পলিথিনের খুঁপড়িতে জীবন কাটছে প্রতিবন্ধী মা-মেয়ের। বছরের পর বছর মানবেতর জীবনযাপন করলেও কোনো স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা হয়নি তাদের।
খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের চোরামুখা খেয়াঘাটের পাশে কপোতাক্ষ নদের কোল ঘেঁষে তাদের বসবাস।
এই অভাগী মায়ের নাম মোছিনা (৫৬) এবং তার মেয়ের নাম মিনারা (৩১)।
মা মোছিনা বেগম মানসিক প্রতিবন্ধী এবং মেয়ে মিনারা শারীরিক প্রতিবন্ধী। তাদের সংসারে নেই উপার্জনক্ষম কোনো মানুষ।
জানা গেছে, মিনারা যখন মায়ের গর্ভে, ঠিক তখনই অসহায়ত্বের সাগরে ভাসিয়ে মোছিনাকে ফেলে রেখে চলে যান তার স্বামী। সেই থেকে শুরু হয় মা ও মেয়ের বেঁচে সংগ্রাম। একটি কলস আর থালা-বাটিই যেন তাদের সম্বল।
প্রতিবেশীদের সহযোগিতা এবং মাঝে মধ্যে সরকারি ভাতার টাকায় কোনো মতে দিন কাটে তাদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, খুঁপড়ি ঘরের চারপাশে দেয়াল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে শতছিন্ন রঙিন কাপড় ও প্লাস্টিকের চটের বস্তা। ঘরটির চাল বলতে আছে কেবল কিছু পলিথিন, যা সামান্য বাতাসেই ওড়ার উপক্রম হয়। বর্ষার রাতে যখন আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে, তখন পানি পড়ে কাদা জমে যায় ঘরের ভেতর। বসার কিংবা ঘুমোনোর মতো ন্যূনতম জায়গাটুকুও অবশিষ্ট থাকে না। সারারাত ভিজেই পার করতে হয় তাদের। জানালা দরজাহীন এমন একটি খুঁপড়িতে ৩১ বছর বয়সী তরুণীকে নিয়ে দিন কাটছে মোছিনার।
মোছিনা বেগমের প্রতিবেশীরা বলেন, তার নামে একটি বিধবা ভাতার কার্ড থাকলেও বর্তমান নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সেই সামান্য টাকায় মা-মেয়ের তিন বেলার আহার তো দূরের কথা, কয়েকদিনের চাল-ডাল কেনাই অসম্ভব হয়ে পড়ে। তারা খুব কষ্টে আছে। বৃষ্টি হলে সারারাত জেগে থাকতে হয়। তাদের থাকার মতো একটা ঘর করে দিলে বাকি জীবনটা একটু শান্তিতে কাটাতে পারতো।
স্থানীয় বাসিন্দা আমির হামজা জানান, মোছিনা বেগমের থাকার মত কোন ভিটেবাড়ি নাই। প্রতিবন্ধী মা মেয়ে বাধ্য হয়ে বেঁড়িবাধের পাশে পলিথিনে মোড়ানো খুঁপড়িতে থাকে। বহুবার বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নজরে আনা হলেও এখনো স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা হয়নি। তাদের জন্য দ্রুত একটি নিরাপদ ঘর নির্মাণ করা প্রয়োজন। এজন্য সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি ।
দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওসমান গনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তাদের আবাসনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেব।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না, আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। হতদরিদ্র এই পরিবারটির পুনর্বাসনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন