বাংলাদেশ, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
১০ কার্তিক ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
১৮ জুলাই ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

কয়রায় ধসে পড়ল কলেজ ভবনের ছাদ

ফরহাদ হোসেন, কয়রা (খুলনা): খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নে কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী গাজী আব্দুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ভবনের ছাদ শুক্রবার (১৭ জুলাই) ধসে পড়েছে। তবে, সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

জানা গেছে, দীর্ঘ ৮ বছর ধরে পরিত্যক্ত ঘোষিত জরাজীর্ণ এই ভবনেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছিল নবম, দশম ও একাদশ শ্রেণীর পাঠদান। টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ছাদ ধসে পড়ার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মূল দোতলা ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত কঙ্কালসার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্টের অধীনে ১৯৯৫ সালে ভবনের প্রথম তলা এবং ২০০১ সালে দ্বিতীয় তলার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। কিন্তু আইলা, ইয়াস ও রিমালের মতো একের পর এক প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়ে বাঁধ ভেঙে বারবার লোনা পানিতে দীর্ঘ সময় ডুবে থাকার কারণে ভবনটি দ্রুত কার্যক্ষমতা হারায়। বর্তমানে ভবনটির দরজা, জানালা ও দেয়ালের অস্তিত্ব বলতে কিছুই নেই। চারদিকের পিলার ও ছাদ ফেটে রড বেরিয়ে এসেছে। এর আগেও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় একটি ছোট টিনশেড ঘরে গাদাগাদি করে ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যে আমাদের বা শিক্ষার্থীদের কারোরই পাঠদানে মন বসে না। টিনশেডের অল্প জায়গায় এত শিক্ষার্থী নিয়ে আমরা ক্লাস করাতে চরম হিমশিম খাচ্ছি।

স্থানীয় বাসিন্দা দ্বীন মোহাম্মদ জানান, এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান একসময় অত্যন্ত ভালো ছিল। কিন্তু ভবনের এই বেহাল দশার কারণে অভিভাবকরা আতঙ্কে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে বিদ্যালয়টি এখন ছাত্রশূন্য হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ঝুঁকি এড়াতে ও নতুন ভবনের দাবিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার আবেদন করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে জানান শিক্ষকরা।

প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইফুল হায়দার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষার উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই ভবন দ্রুত সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ করা জরুরি। আমরা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিত জানানো হলেও এখনো কোনো সুফল মেলেনি।

কয়রা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল কালাম আজাদ ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, এখানে নতুন ভবন আশু প্রয়োজন। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে নতুন একটি ভবন বরাদ্দের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, গাজী আব্দুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা আমাদের অগ্রাধিকার। আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি। আশা করছি খুব দ্রুতই এখানে নতুন স্কুল ভবন ও সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১ নভেম্বর সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ শুরু, দিতে হবে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি

১

গোলাপি আভায় জয়া আহসান

২

মুখ ঢেকে তর্ক, লাল কার্ড দেখলেন নেইমার

৩

বড়দলে জাসাসের আনন্দ মিছিল

৪

ফিচার || ছুটির গল্পে মুখর ক্যাম্পাস, ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য

৫

দ্য এডিটরস-এ সংবাদ প্রকাশ: পুলিশি তৎপরতায় বাড়ি ফিরলেন দীপালী রানী

৬

আইনজীবী সমিতির চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র বিতরণ

৭

জলবায়ু পরিবর্তন ও কার্বনের ‘ছয় রঙ’: সংকট ও উত্তরণের পথ || ‎তারিক ইসলাম

৮

শেখ নুরুল হকের মৃত্যুতে সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের শোক

৯

সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য এবং নেত্রকোনায় সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন

১০

পানখালী জেলে কল্যাণ সমিতির নির্বাচন: সভাপতি বাশার, সম্পাদক আজিজুল হক

১১

রোটারী ক্লাব অব সাতক্ষীরার ৩৩তম অভিষেক

১২

আলিপুরে জামায়াতের নির্বাচনী কর্মী সমাবেশ

১৩

বাবার সাথে || আলেয়া মান্নান

১৪

আশাশুনিতে পৈতৃক জমিতে প্রাচীর নির্মাণে বাধা!

১৫

আশাশুনিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃ-ত্যু

১৬

জেলেখালি ভাই ভাই সংঘের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে স্বেচ্ছাসেবীদের মিলনমেলা

১৭

প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব সাতক্ষীরার কমিটি গঠন: মুনিরউদ্দীন সভাপতি, সামাদ সম্পাদক পুনর্নির্বাচিত

১৮

মৌতলা ইউপির ৯নং ওয়ার্ডে মা-ছেলেসহ সম্ভাব্য ১০ প্রার্থী মাঠে

১৯

হাম উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যু

২০