
ডেস্ক রিপোর্ট: ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে র্যালি, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং প্রতীকী ম্যারাথনসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।
১৪শ’ ছাত্র-জনতার প্রাণের বিনিময়ে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকী ও গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) দিনভর এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
‘ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে’
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে সিলেটে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
ভোর ৬টা ১ মিনিটে নগরের রিকাবীবাজার কবি নজরুল অডিটরিয়াম সংলগ্ন জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে দিনের শুরুতে আহত জুলাইযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
পরে সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে পৃথকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সিসিক প্রশাসক।
এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
অনেক শহীদের রক্তের বিনিময়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। তাই এ দেশে ফ্যাসিবাদের আর কোনো স্থান নেই। ভবিষ্যতে কেউ ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা করলে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে।
সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে। এ আন্দোলনের পথে এম. ইলিয়াস আলীসহ অনেক নেতা-কর্মী গুম হয়েছেন, অসংখ্য মানুষ শহীদ ও আহত হয়েছেন। কিন্তু গণতন্ত্রকামী মানুষ কখনো আন্দোলন থেকে পিছিয়ে যাননি। শেষ পর্যন্ত জনগণের বিজয়ই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এরপর একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. জিল্লুর রহমান, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক, সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুল আলমসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
পরে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
ফেনীতে ‘৩৬ জুলাই বিজয়ের দৌড়’
জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের বিজয়কে স্মরণীয় করে রাখতে ফেনীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘৩৬ জুলাই বিজয়ের দৌড়’। তরুণদের সংগঠন ‘বিজয় মঞ্চ’-এর উদ্যোগে সকালে এই মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে শহরের মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচ থেকে বিজয়ের দৌড় শুরু হয়। নিবন্ধিত দৌড়বিদরা ট্রাংক রোড ও ফেনী সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ হয়ে ইউ-টার্ন নিয়ে পুনরায় মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে এসে দৌড় শেষ করেন।
আয়োজকরা জানান, পূর্বনির্ধারিত অনলাইন ও অফলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে ‘৩৬ জুলাই’ আইডি কার্ড সংগ্রহকারী অংশগ্রহণকারীদের পাশাপাশি স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, যুবসমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশ নেন। সকালের আলো ফোটার আগেই রানিং গেটআপে ট্র্যাকে নেমে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
দৌড় শুরুর আগে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
বিজয় মঞ্চের প্রতিনিধিরা জানান, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের চেতনা ও তরুণদের মধ্যে ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রতীকী ‘৩৬ জুলাই’ নামে এই আয়োজন করা হয়েছে। সুস্থ ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন তরুণ সমাজ দেখেছিল, তা ধরে রাখাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
দৌড় শেষে অংশগ্রহণকারী দৌড়বিদদের মধ্যে স্মারক মেডেল ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। আয়োজক সংস্থার ওসমান গনি রাসেল জানান, যুবসমাজকে সুস্থ জীবনধারা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে প্রতি বছরই এ ধরনের সামাজিক ও ক্রীড়া উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ডা. মো. তারিকুল ইসলাম। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। বক্তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হতে হবে।
আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
গোপালগঞ্জে নানা কর্মসূচিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালন
স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকী ও ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে গোপালগঞ্জে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জ ক্রিকেট স্টেডিয়াম সংলগ্ন নির্মিতব্য জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
প্রথমে গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে. এম. বাবর, জেলা প্রশাসনের পক্ষে জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুল্লাহ, জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন, বিভিন্ন অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
পরে বেলা ১১টায় সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জুলাই শহীদ পরিবার এবং জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মিলনায়তন বা উন্মুক্ত স্থানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক সরবরাহকৃত চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এদিন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জুলাই আন্দোলনের ওপর বস্তুনিষ্ঠ ও নৈর্ব্যক্তিক দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়। জোহরের পর জেলার সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।
এদিন জেলার সকল সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, ডে-কেয়ার ও শিশু বিকাশ কেন্দ্রে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।
জেলার সকল সরকারি ও বেসরকারি বিনোদন কেন্দ্রে শিশুদের জন্য সকাল-সন্ধ্যা উন্মুক্ত রাখা এবং বিনা টিকিটে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপসমূহে জাতীয় পতাকাসহ বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন নিশান দিয়ে সজ্জিত করা হয়।
গোপালগঞ্জ শিশু একাডেমি দিনটি পালন উপলক্ষে রচনা, আবৃত্তি এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
এ উপলক্ষে জেলা বিএনপি ও জেলা জামায়াত শহরে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করে। র্যালি দুটি ঢাক-ঢোল পিটিয়ে আনন্দ-উল্লাসের সঙ্গে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যালি ও আলোচনা সভা
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সকাল ১০টায় শহরের ওয়াপদাগেট এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে র্যালি বের হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন। র্যালিটি চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়।
পরে দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আতিকুর রহমান।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লোকমান হোসেন, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম।
জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের স্মৃতিকথা সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। পরবর্তী সময়ে এসব তথ্যের ভিত্তিতে একটি বই প্রকাশ করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।’
জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম বলেন, ‘২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো দ্বিতীয় স্বাধীনতা নয়। এটি ছিল সরকার পতনের আন্দোলন। দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলতে কিছু নেই। যারা এ কথা বলবে, তারা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাকে স্বীকার করে না। আমরা যেকোনো মূল্যে তাদের প্রতিহত করব।’
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনকে আমাদেরকে সব সময় ধারণ করতে হবে। কারণ এই আন্দোলনে সবাই অংশগ্রহণ করেছে। আর এই আন্দোলনের মাধ্যমে একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদায় হয়েছে। এই আন্দোলনের পূর্ব বাংলাদেশের মানুষের বিভিন্ন সংগ্রামের ইতিহাস রয়েছে। ওই ইতিহাসের সাথে ২৪ এর আন্দোলনে এর ইতিহাস ও যোগ হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ছাত্র-জনতার এই ত্যাগকে আমরা দেশকে এগিয়ে নেয়ার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদ মুক্ত এই দেশকে ধরে রাখতে হবে। কারণ এই দেশে যেন আর কখনো কেউ আধিপত্য বিস্তার না করতে পারে।’
আলোচনা সভায় জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের আন্দোলনের সময়কার অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিকথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইলে জেলা প্রশাসনের শ্রদ্ধাঞ্জলি ও আলোচনা সভা
ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন করা হয়েছে।
বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের ডিস্ট্রিক্ট গেটসংলগ্ন জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে রাষ্ট্রের পক্ষে প্রথমে শ্রদ্ধা জানান জেলা প্রশাসক শরীফা হক। পরে পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এ সময় শহীদ মারুফের মা মর্জিনা বেগম, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ফাতেমা রহমান বীথি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আল আমিন, সদস্য সচিব আবু আহমেদ শেরশাহসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই অভ্যুত্থান বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জুলাই আন্দোলনে হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানানো হয়।
পাবনায় জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে সারা দেশের মতো পাবনাতেও পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বুধবার সকালে জেলা সদরের জেলা পরিষদ চত্বরের সামনে নির্মিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।
এ সময় জুলাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম বিশ্বাস।
এ ছাড়া জেলা বিএনপির নেতাকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য, জেলার সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
পরে সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মন্তব্য করুন