
ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরা শহরের নিউমার্কেট থেকে বাঁকাল ব্রিজ অভিমুখে সড়কের দু’পাশে নির্মাণাধীন ড্রেনের উচ্চতা কমিয়ে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনগুলোর প্রবেশপথ স্বাভাবিক রাখার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী। শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মালিক এ বিষয়ে জরুরি প্রতিকার চেয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদন দিয়েছেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ মহাসড়ক উন্নয়ন ও চার লেনে উন্নীতকরণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সড়কের উভয় পাশে পানি ও বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য ৭ থেকে ৮ ফুট গভীর এবং ৩ থেকে ৪ ফুট উঁচু ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
স্থানীয় ভবন মালিকদের অভিযোগ, পরিকল্পিত উচ্চতায় ড্রেন নির্মাণ করা হলে সড়কের দুই পাশে থাকা ব্যক্তি মালিকানাধীন আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনগুলোর গ্রাউন্ড ফ্লোরের সামনে ড্রেনের উচ্চতা ভবনের মেঝের চেয়ে প্রায় ৩ থেকে ৪ ফুট উঁচু হয়ে যাবে। এতে ভবনগুলোর স্বাভাবিক প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে, একই সাথে পানি বেরোনোর পথও বন্ধ হয়ে যাবে। এতে আবাসিক ভবনের বাসিন্দাদের পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্রেতা, কর্মচারী ও মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হবে।
এ বিষয়ে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার রওনাকুল ইসলাম বলেন, ড্রেন নির্মাণের ক্ষেত্রে ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনগুলোর ব্যবহার উপযোগিতা, নিরাপদ আসা-যাওয়ার পথ এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে না। তার দাবি, ভবন মালিক ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ড্রেন নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ড্রেন নির্মাণ করা হোক।
একই সঙ্গে ভবনগুলোর গ্রাউন্ড ফ্লোরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ড্রেনের উচ্চতা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় স্থানে নিরাপদ প্রবেশপথ বা ক্রসিং নির্মাণের মাধ্যমে ভবনগুলোর চলাচলের পথ সচল রাখার দাবি জানান তিনি।
এবিষয়ে মোবাইল প্লাস এর সত্ত্বাধিকারী মীর তাজুল ইসলাম বলেন, এভাবে ড্রেন নির্মাণ হলে শত শত ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিষয়টি তারা লিখিতভাবে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার, সড়ক ভবন খুলনার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
এবিষয়ে সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজ বলেন, সাতক্ষীরা শহরের নিউ মার্কেট থেকে বাঁকাল ব্রিজ পর্যন্ত দ্রুত চার লেনের কাজ শুরু হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে নিউ মার্কেট থেকে বাঁকাল ব্রিজ পর্যন্ত দুই পাশের ড্রেনটি কিছুটা উঁচু করে নির্মাণ করা হচ্ছে। কেন না রাস্তা নির্মাণ শুরু হলেই বিদ্যমান অবস্থা থেকে রাস্তাটি আরো দেড় ফুট উঁচু হবে। রাস্তার দুইপাশের ড্রেনের মধ্যে চার লেনের রাস্তা হবে। যে কারণে ড্রেনের ওপরের স্লাব দিয়ে মানুষের হাটার জন্য ফুটপাত হিসেবে ব্যবহার করা হবে। বর্তমান বাস্তবতায় ড্রেন উঁচু করার কোনো বিকল্প নেই।
ড্রেন স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ ফুট উঁচু করায় পাশের কিছু বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিচু হয়ে যাবে এবং তাদের পথ বন্ধ হয়ে যাবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছু মানুষের সমস্যাতো হবেই, সেটি মেনে নিতে হবে। প্রয়োজনে তারা ড্রেন থেকে স্লোব করে ব্যবহার করবে বলে পরামর্শ দেন তিনি।
মন্তব্য করুন