
কালিগঞ্জ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বুশরা গ্রুপের প্রায় ১০ হাজার আমানতকারীর পাওনা অর্থ ফেরত দিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠানটির কালিগঞ্জ শাখা অফিস সিলগালা করে সম্পত্তি বিক্রি বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী আমানতকারীরা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১২টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহার মাধ্যমে এই আবেদন করা হয়।
আবেদনে বুশরা গ্রুপের চেয়ারম্যান শেখ শরিফুল ইসলাম এবং নির্বাহী পরিচালক ইকবাল কবির পলাশকে বিবাদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, বুশরা গ্রুপের বুশরা কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড এবং বুশরা ইসলামী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের অধীনে আমানতকারীরা দীর্ঘদিন ধরে অর্থ জমা রেখে আসছেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রচলিত নিয়ম ও শর্তের প্রতি আস্থা রেখে তারা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ আমানত হিসেবে রাখেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রয়োজনের সময় আমানত উত্তোলনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে অনেক আমানতকারী তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না। কেউ এক বছর, কেউ দুই বছর কিংবা তারও বেশি সময় আগে মূল আমানতের টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করলেও টাকা পরিশোধ করা হয়নি।
আমানতকারীদের মধ্যে হাসানুজ্জামান, মোঃ আব্দুল মান্নান, এস এম রেদওয়ানুল ফেরদাউস রনি, মমতাজ বেগমসহ কয়েকশ’ গ্রাহকের অভিযোগ, টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য যোগাযোগ করতে গেলে তাদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রতার শিকার হতে হচ্ছে। এতে অনেক আমানতকারী ও তাদের পরিবার চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বুশরা গ্রুপের কালিগঞ্জ শাখা অফিসের সম্পত্তি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। আমানতকারীদের আশঙ্কা, সম্পত্তি বিক্রি হয়ে গেলে ভবিষ্যতে তাদের পাওনা অর্থ আদায় আরও জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। এ কারণে আমানতকারীরা জেলা প্রশাসকের কাছে বিষয়টি দ্রুত প্রশাসনিক নজরদারির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে বুশরা গ্রুপের আমানতকারীদের পাওনা অর্থ ফেরত প্রদানের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিষয়টির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কালিগঞ্জ শাখা অফিসের সম্পত্তি বিক্রি, হস্তান্তর বা অন্য কোনোভাবে যাতে সম্পত্তি নিয়ে লেনদেন করা না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
আবেদনের সঙ্গে কালিগঞ্জ শাখা অফিসের সম্পত্তির বিবরণও সংযুক্ত করা হয়েছে। সেখানে দলিল নম্বর ১৯৯৬/২০২০, মৌজা বাজারগ্রাম, সি.এস খতিয়ান ০৫, এস.এ খতিয়ান ১১ এবং দাগ নম্বর ৩৪০/৩৪২ উল্লেখ করা হয়েছে। জমির পরিমাণ প্রায় ০.২৯৭২ একর বলে আবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
একই সাথে তারা সাতক্ষীরা-৩ আসনের এম পি রবিউল বাশারের কাছে অভিযোগ করেছেন। এসময় এম পি রবিউল বাশার বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
মন্তব্য করুন