বাংলাদেশ, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
২২ আশ্বিন ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
৭ অক্টোবর ২০২৬, ৭:২৮ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

অণুর ‘আয়না-ছবি’ রহস্য সমাধান, রসায়নে নোবেল দুই বিজ্ঞানীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২০২৬ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সের হেনরি বি. কাগান ও জাপানের কেনসো সোয়াই। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অরৈখিক প্রভাব এবং অসমমিত জৈব সংশ্লেষণে স্ব-অনুঘটন বা অটোক্যাটালাইসিস আবিষ্কারের জন্য তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে বিজয়ী হিসেবে তাদের নাম ঘোষণা করে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস।

হেনরি কাগান ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি প্যারিস-সুদে কাজ করেন। কেনসো সোয়াই জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্সের সঙ্গে যুক্ত।

অণুর ‘আয়না-ছবি’ কেন গুরুত্বপূর্ণ
কিছু অণু দেখতে পরস্পরের আয়না-ছবির মতো। অর্থাৎ একই অণুর দুটি রূপ থাকতে পারে। এগুলোকে রাসায়নিকভাবে একে অপরের ‘মিরর ইমেজ’ বা আয়না-রূপ বলা হয়।

মানবদেহে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিডের ক্ষেত্রেও এমন দুটি রূপ রয়েছে। তবে আমাদের কোষের প্রোটিনে মূলত এই দুটি রূপের একটিই পাওয়া যায়। অন্য রূপটি প্রকৃতিতে খুবই বিরল।

রাসায়নবিদদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন ছিল, জীবজগতে কীভাবে অণুর এই একমুখী বা একই ধরনের গঠন তৈরি হলো।

একসঙ্গে দুটি রূপ তৈরি হতো
রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে এমন অণু তৈরির চেষ্টা করলে সাধারণত দুটি আয়না-রূপই তৈরি হতো। দুটির পরিমাণও প্রায় সমান থাকত। কিন্তু জীবদেহের সঙ্গে কাজ করবে এমন অণু তৈরির ক্ষেত্রে বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে ওষুধ তৈরিতে অণুর একটি নির্দিষ্ট আয়না-রূপ কাঙ্ক্ষিত প্রভাব দিতে পারে। অন্য রূপটি একইভাবে কাজ নাও করতে পারে।

তাই রাসায়নবিদদের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য ছিল এমন রাসায়নিক বিক্রিয়া তৈরি করা, যেখানে শুধু একটি নির্দিষ্ট আয়না-রূপ তৈরি হবে।

কাগানের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার
এই রহস্য সমাধানের পথে প্রথম বড় অগ্রগতি আসে হেনরি কাগানের হাত ধরে। ১৯৮৬ সালে তিনি রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের একটি নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।

এর মাধ্যমে আগের ধারণার তুলনায় একটি আয়না-রূপকে অনেক বেশি পরিমাণে তৈরি করা সম্ভব হয়। এটি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অসমমিতি তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ছিল।

তবে তখনও কেবল একটি আয়না-রূপ তৈরির লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি।

সোয়াইয়ের সাফল্য
এরপর গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে কেনসো সোয়াইয়ের গবেষণায়। ১৯৯৫ সালে তিনি এমন একটি রাসায়নিক বিক্রিয়ার নকশা তুলে ধরেন, যার মাধ্যমে একই ধরনের আয়না-রূপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

এরপর ২০০৩ সালে তিনি বড় সাফল্য অর্জন করেন। তিনি এমন একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া দেখান, যেখানে সম্ভাব্য দুটি আয়না-রূপের মধ্যে শুধু একটিই তৈরি হয়।

জীবন নিজে ছাড়া এর আগে কোনো রাসায়নিক ব্যবস্থায় এমন ঘটনা দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে নোবেল কমিটি।

ওষুধ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
এই আবিষ্কারের ব্যবহার শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ নয়। ওষুধ তৈরিতে নির্দিষ্ট গঠনের অণু তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একই রাসায়নিক উপাদানের দুটি আয়না-রূপ মানবদেহে ভিন্নভাবে কাজ করতে পারে।

তাই কাঙ্ক্ষিত আয়না-রূপ নির্ভুলভাবে তৈরি করার প্রযুক্তি ওষুধশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ। নোবেল কমিটির মতে, কাগান ও সোয়াইয়ের আবিষ্কার এমন রাসায়নিক বিক্রিয়া তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, যা দিয়ে ওষুধ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অণু তৈরি করা যায়।

সূত্র: নোবেল প্রাইজ

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নেই জৌলুস, হারাচ্ছে ঐতিহ্য; পেশা বদলাচ্ছেন বাদ্যযন্ত্রের কারিগররা

১

অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে রোটারী ক্লাবের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

২

সাতক্ষীরা ৯৩’র উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

৩

অ্যাড. নিরোদ কুমার মজুমদারের স্মরণসভা

৪

হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু

৫

জামিন মেলেনি এমপি গাজী নজরুলের

৬

অণুর ‘আয়না-ছবি’ রহস্য সমাধান, রসায়নে নোবেল দুই বিজ্ঞানীর

৭

আয় কমলেও সেপ্টেম্বরে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

৮

একদিনে ডেঙ্গুতে ৮ জন, হাম ও উপসর্গে ৬ জনের মৃত্যু

৯

তালা সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী নির্ধারণ করলো বিএনপি

১০

দেবহাটায় শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে প্রস্তুতি সভা

১১

শ্যামনগরে বস‌ছে ২৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌর প্যানেল, নবায়ন‌যোগ্য বিদ্যুতে নতুন সম্ভাবনা

১২

প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন জবির ১৬ শিক্ষার্থী

১৩

সাতক্ষীরায় তায়কোয়ানডোয় স্বর্ণ ও রৌপ্য পদকজয়ীদের সংবর্ধনা

১৪

সাতক্ষীরা কমিউনিটির নির্বাহী সদস্যদের মাঝে আইডি কার্ড বিতরণ

১৫

কমেছে বৈশ্বিক সহায়তা, সংকটে ২ হাজার ২০০ এনজিও

১৬

তর্কে হেরে গিয়ে জীবনে জেতার আনন্দ || তারিক ইসলাম

১৭

‘রূপে আছে নেশা, চোখে ছলনা’

১৮

পাকিস্তানে ক্ষমতার নতুন লড়াই, প্রদেশ ভাঙার উদ্যোগ সেনাপ্রধানের

১৯

হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৩৯৩

২০