
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: জাতীয় পর্যায়ে সেরা গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে খুলনা জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছেন কয়রার মঠবাড়ি সেরাজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সেরাজুল ইসলাম সবুজ।
তাঁর এ অর্জনে আনন্দিত বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ কয়রার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
গত ৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে সেরা গুণী শিক্ষক হিসেবে সেরাজুল ইসলাম সবুজের হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত সেরাজুল ইসলাম সবুজ শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদানেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা, শৃঙ্খলা ও মানবিকতা শেখানো এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
তাঁর আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও শিক্ষার্থীবান্ধব আচরণ তাঁকে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে।
নিজের এ অর্জনের পেছনে বাবার স্বপ্ন ও আদর্শকে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন সেরাজুল ইসলাম সবুজ।
তিনি বলেন, আমার বাবা নিজেও একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তাঁর ইচ্ছে ছিল, আমি পড়াশোনা শেষ করে যেন শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হই। বাবার সেই স্বপ্ন আমি পূরণ করতে পেরেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ তিনি বেঁচে নেই। বাবা যদি আজ বেঁচে থাকতেন, তাহলে আমার এই অর্জনে তিনিই সবচেয়ে বেশি আনন্দিত ও গর্বিত হতেন।
আবেগঘন কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, বাবার আদর্শ ও শিক্ষকতার প্রতি তাঁর ভালোবাসাকে বুকে ধারণ করেই আমি এই পেশায় এসেছি। একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই আমার প্রধান লক্ষ্য।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাখন লাল মন্ডল বলেন, সেরাজুল ইসলাম সবুজ অত্যন্ত ভালো একজন শিক্ষক। তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে যেমন শাসন করেন, তেমনি প্রয়োজনের সময় আন্তরিকভাবে ভালোবাসা ও সহযোগিতাও করেন। শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা সত্যিই প্রশংসনীয়।
কয়রার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে জাতীয় পর্যায়ে সেরা গুণী শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া সেরাজুল ইসলাম সবুজের এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয় এটি কয়রার শিক্ষা অঙ্গনেরও এক গর্বের অধ্যায়। তাঁর হাত ধরে উপকূলের শিক্ষাঙ্গনে আরও নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
মন্তব্য করুন