বাংলাদেশ, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩ | সময়:
admin
৫ নভেম্বর ২০২৩, ১:০২ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

বিরল ‌‘পেমফিগাস ভালগারিস’ রোগে আক্রান্ত শরীফার বাঁচার আকুতি!

মেহেদী হাসান শিমুল: সাতক্ষীরায় বিরল পেমফিগাস ভালগারিস রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিনানিপাত করছেন ৪০ বছরের শরিফা খাতুন। অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি। শরিফা খাতুন সাতক্ষীরা পৌরসভার তালতলা এলাকার ভাজা বিক্রেতা তারিকুল ইসলামের স্ত্রী।

সরেজমিনে অসুস্থ শরিফা খাতুনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পচে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অর্থাভাবে চিকিৎসা না পাওয়ায় ক্রমশ মৃত্যু মুখে ধাবিত হচ্ছেন তিনি। তারপরেও দুই চোখে বাঁচার করুন আকুতি তার।

এ ব্যাপারে তারিকুল ইসলামের মেয়ে তানিয়া সুলতানা কান্না বিজড়িত কণ্ঠে বলেন, একজন মানুষের শরীরের কোনো অংশে একটু ঘা-পাঁচড়া হলে কেমন হয়? সেখানে আমার মায়েরতো পুরো দেহতে ঘা-পাঁচড়াসহ পচন ধরেছে। তবুও আমার মাকে বাঁচাতে চাই। দয়া করে তাকে বাঁচাতে সাহায্য করুন।

অনেকটা আক্ষেপ নিয়ে তানিয়া সুলতানা বলেন, মাকে সুস্থ করতে নিরলস সেবা শুশ্রুসা করেও এ বছর সাতক্ষীরা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ ফাইভ পেয়ে এসএসসি উত্তীর্ণ হয়েছি। তবে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ফরম পূরণের টাকা দেওয়ার সামর্থ ছিল না আমাদের। একপর্যায়ে আমার বাবার দোকানের শেষ সম্বল গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করে ফরম ফিলাপ করে পরীক্ষা দিয়েছিলাম। বর্তমানে আমি অন্য একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলেও অর্থাভাবে সেখানে যাওয়া হয় না। বই কেনার সামর্থও নেই। বাসায় ঠিক মতো রান্নাবান্নাও হয় না। এখন মায়ের চিকিৎসার পাশাপাশি আমাদের ২ ভাইবোনের লেখাপড়ার খরচ বহন করা অসম্ভব। এজন্য নিজের স্বপ্নকে অধরা রেখে মায়ের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি।

এসময় মায়ের চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রীসহ সমাজের বিত্তবান মানুষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

এ ব্যাপারে শরিফা খাতুনের স্বামী তারিকুল ইসলাম বলেন, ২০২১ সালে তার স্ত্রী শরিফা খাতুনের দেহে একধরনের লাল দাগ দেখা যায়। পরে সেখানে ঘা হয়ে পচন ধরে। ভিটেবাড়ি বিক্রি করে সাতক্ষীরা, খুলনা ও ঢাকার বিভিন্ন নামকরা হাসপাতালে শরিফা খাতুনের চিকিৎসা করা হলেও দিনে দিনে তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ইতোমধ্যে সারাজীবনের অর্জিত অর্থের পাশাপাশি দুইটি এনজিও থেকে এক লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে শরিফার চিকিৎসা করেছি। তবে তাকে সুস্থ করতে পারিনি। বরং দিনে দিনে শরীরে পচনের পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অনেকটা আক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, হায়াত-মউতের মালিক আল্লাহ্। আমি চাই যে ক’দিন সে বেঁচে থাকবে, অন্তত উপযুক্ত চিকিৎসাটা যেন তাকে দিতে পারি। আমার সব থাকলেও বর্তমানে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। ইতোমধ্যে একমাত্র অনার্স পড়ুয়া ছেলের লেখাপড়া অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

বিরল রোগে আক্রান্ত স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে দুই ছেলেমেয়ের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেলেও তিনি তার স্ত্রীকে বাঁচাতে আকুতি জানিয়েছেন।

এদিকে, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিরল এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সারা দেশে ১২ থেকে ১৪ জন। উপযুক্ত চিকিৎসা নিতে হলে ৮-১০ লাখ টাকা দরকার।

কিন্তু সহায় সম্বলহীন পরিবারের পক্ষে এতো অর্থ জোগাড় করা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

স্ত্রী শরিফা খাতুনকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীসহ সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্য কামনা করেছেন তারিকুল ইসলাম। এজন্য তার সাথে ০১৭১৯৫৬৬০৬৯ নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রতিমা বিসর্জন দেখতে গিয়ে অতিরিক্ত মদ পান, ৪ দিন পর কিশোরের মৃত্যু

১

বসতভিটা নিয়ে বিরোধের জেরে শ্যামনগরে সংঘর্ষ, মা-ছেলেসহ আহত ৩

২

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব: মঙ্গলবার রাত থেকে পশ্চিমবঙ্গে দুর্যোগ

৩

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের যে ব্যাখ্যা দিলো পুলিশ সদর দপ্তর

৪

ডি-থ্রি ট্রফির নিলাম: একনজরে ছয় দলের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড

৫

আশাশুনিতে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একজন গ্রেফতার

৬

সাতক্ষীরা জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভা

৭

জনতা, অগ্রণী ও বেসিক ব্যাংকে নতুন এমডি

৮

৭ নভেম্বর উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

৯

হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু

১০

ব্যালন ডি’অর জিতলে কত টাকা পান ফুটবলাররা?

১১

কয়রা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি

১২

একযোগে ৮৫ সাব-রেজিস্ট্রার বদলি

১৩

বাংলাদেশে উন্নয়নে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

১৪

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল এশিয়ার দুই দেশ

১৫

দেবহাটায় এলএফও সদস্যদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ

১৬

সুন্দরবনের পথে পথে জীবনের নানা গল্প || সুলতান শাহাজান

১৭

মানবেতর জীবন কাটছে বৃদ্ধ সাকাত-আনোয়ারা দম্পতির

১৮

ভারতীয় গোয়েন্দার সাথে গোলাম পরওয়ারের গোপন বৈঠক, দাবি রাশেদ খাঁনের

১৯

সাতক্ষীরায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড

২০