
আশরাফুল ইসলাম সবুজ, পাইকগাছা: বর্ষায় ব্যস্ততা বেড়েছে ছাতা কারিগরদের।
বছরের অন্য সময়ে ছাতা মেরামতের কাজ তেমন না থাকলেও বর্ষা মৌসুমে পুরোদমে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারা।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার পৌরবাজার, নতুন বাজার, গদাইপুর, চাঁদখালী, আগড়ঘাটা, কপিলমুনি, গড়ইখালী, বাকা বাজারসহ বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার পাশে ফুটপাতে বসে মৌসুমী কারিগররা ছাতা মেরামত করছেন। এসব স্থানে নষ্ট ছাতা মেরামত করতে লোকজনের ভীড় জমেছে। কারিগররা নাওয়া-খাওয়া ভুলে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত একটানা কাজ করছেন।
এ বিষয়ে কথা হয় পাইকগাছা পৌরসভা বাজার পোস্ট অফিসের সামনে ফুটপাতে ছাতা মেরামতে ব্যস্ত কামাল শেখের সাথে। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে তিনি ছাতা মেরামতের কাজের সঙ্গে যুক্ত।
কামাল শেখ বলেন, বৃষ্টির দিনে ছাতা মেরামতের কাজ একটু বেশি হয়। দিনে তিন থেকে পাঁচশ টাকা রোজগার হয়। কোনো কোনো সময় আরো বেশি টাকা আয় হয়। ছাতা মেরামতের সামগ্রীর দাম বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সে অনুযায়ী মুজুরি বাড়েনি।
উপজেলার সরল গ্রামের আব্দুর রহিম বলেন, ছেলে-মেয়েরা বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। এখন বৃষ্টির সময়। বাতাসে ছাতার শিক ভেঙ্গে গেছে, তাই স্কুল ও প্রাইভেট পড়তে গেলে বৃষ্টিতে ভিজতে হয়। ছেলেমেয়েদের জন্য ছাতা দুইটা মেরামত করতে এসেছি।
নতুন বাজারের ছাতার কারিগর গনেশ দাশ বলেন, ছাতার কারিগরদের দুর্দিন চলছে। তাই অনেকেই এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশাই গেছে। আবার অনেকে পূর্বপুরুষের এ পেশা ছাড়তেও পারেনি। পরিবারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয়। এ পেশায় কেউ আসতে চায় না। তাই দিন দিন এই পেশার কারিগররা হারিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলার চাঁদখালী এলাকার ছাতা মেরামতকারী তমিজ ও ফইজুল ইসলাম জানান, বৃষ্টির কারণে কাজের চাপ একটু বেড়েছে। আয় মোটামুটি ভালো হলেও অন্য সময় বেকার হয়ে বসে থাকতে হয়। যেদিন বৃষ্টি হয় সেদিন ছাতা মেরামতের কাজ থাকে। বাকি দিনগুলোতে অন্য কাজকর্ম করতে হয়। ছেলে-মেয়েরা স্কুল-কলেজে লেখাপড়া করে। তাদের খরচসহ পরিবারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তবে এ পেশায় আমাদের পরে পরিবারের আর কেউ আসবে না। এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
মন্তব্য করুন