বাংলাদেশ, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২১ ভাদ্র ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
২৪ জুলাই ২০২৫, ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের ঐতিহাসিক রায়, স্বাগত জানালো ইয়ুথনেট গ্লোবাল

ডেস্ক রিপোর্ট: আন্তর্জাতিক আদালতের একটি ঐতিহাসিক রায়ে জলবায়ু পরিবর্তনকে ‘মানবতার জন্য জরুরি ও অস্তিত্বের হুমকি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের হেগে বুধবার (২৩ জুলাই) ঘোষিত এই রায়ে বলা হয়েছে, সব রাষ্ট্রের আইনি দায়িত্ব রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের, আর যারা এ বিষয়ে অবহেলা করবে তারা পরিবেশ ও মানবজীবনের ক্ষতির জন্য দায়ী হবেন। এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে যুব সংগঠন ইয়ুথনেট গ্লোবাল এক বিবৃতিতে বলেছে, এটি শুধু আইনি বিজয়ই নয়, বরং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকার পুনর্ব্যক্ত। সংগঠনটি প্রজন্মগত ন্যায়বিচারের ওপর জোর দিয়ে বলেছে, আজকের জলবায়ু পদক্ষেপগুলো আগামী প্রজন্মের অধিকার রক্ষা করবে।

২০২৩ সালের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবনার ভিত্তিতে, প্যাসিফিক দ্বীপ রাষ্ট্র ভানুয়াতুর নেতৃত্বে এবং বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে যুব সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণে এই মামলাটি আন্তর্জাতিক আদালতে গৃহীত হয়। প্রায় ৫০০ পাতার এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক জলবায়ু আইন ও নীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে। বাংলাদেশে বন্যা, নদী ভাঙন ও সমুদ্রস্তরের ঊর্ধ্বগতি ক্রমবর্ধমান সমস্যা হওয়ায় এই রায়কে জলবায়ু ন্যায়বিচারের এক বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে এটি জাতিসংঘ, জলবায়ু বিষয়ক কপ সম্মেলন ও জি২০’র মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের দাবিকে শক্তিশালী করবে। ইয়ুথনেট গ্লোবাল স্মরণ করিয়েছে, এই মামলাটি বিশ্বের সর্বোচ্চ আদালতে পৌঁছানোর পেছনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তরুণ নেতৃত্বের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি, যারা বিশ্বব্যাপী সমর্থন সংগ্রহ, সরকার ও নীতিনির্ধারকদের সাথে সংলাপ এবং অবিরাম প্রচারণা চালিয়েছে।

বাংলাদেশভিত্তিক সংস্থা ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়ক সোহানুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক আদালত অবশেষে আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নিয়েছে। জলবায়ু অবহেলা এখন শুধু আর নৈতিক দোষ নয়, আইনগত অপরাধও। দূষণকারী রাষ্ট্র ও কোম্পানিগুলো আর নিজেদের দায় এড়াতে পারবে না। তাদেরকে এখন জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা থেকে নবায়নযোগ্য শক্তিতে ন্যায্য রূপান্তর করতে হবে, না হলে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।

তরুম জলবায়ু কর্মী সোহানুর রহমান আরও বলেন, ক্ষতিপূরণ দান নয়, এটি আমাদের সুবিচারের বিষয়। বাংলাদেশসহ যেসব দেশ কম কার্বন নিঃসরণ করে, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই রায় বাস্তব দায়বদ্ধতা, যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও টেকসই উন্নয়নের পথ খুলে দেবে।

আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমনকে আন্তঃসীমান্ত ক্ষতির হিসেব করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রগুলোকে তাদের শিল্পক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন ও প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি দায়িত্বশীল থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো যথাযথ ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হতে পারে, যদিও ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ও ধরণ আলাদা বিচারাধীন।

আইনি বিশ্লেষকরা বলছেন, যদিও আইসিজের এই মতামত বাধ্যতামূলক নয়, তবুও এর নৈতিক ও আইনি গুরুত্ব অনেক বেশি। এটি জাতীয় আদালত, আন্তর্জাতিক আইন ও জলবায়ু মামলাগুলোর ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে।

ইয়ুথনেট গ্লোবাল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে পাঁচটি জরুরি দাবি উপস্থাপন করেছে- কার্যকর জলবায়ু দায়বদ্ধতার কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে যাতে দূষণকারীরা আইনিগতভাবে জবাবদিহি করতে বাধ্য হয়; ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ঋণমুক্তি এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে; বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্যে তেল, কয়লা ও গ্যাসের দ্রুত ও সমন্বিত বিদায় ঘোষণা করতে হবে; জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্থানচ্যুত ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি; এবং জলবায়ু নীতিনির্ধারণে শিশু, যুব, নারী ও আদিবাসী নেতাদের অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ন্যায়সঙ্গত ও বহুমাত্রিক সমাধান গড়ে ওঠে।

আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের দুটি মূল প্রশ্ন ছিল—প্রথম, আন্তর্জাতিক আইনে দেশগুলোর জলবায়ু রক্ষার দায়বদ্ধতা রয়েছে কি না, এবং দ্বিতীয়, যারা জলবায়ু ব্যবস্থার ক্ষতি করে তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ হওয়া উচিত কি না।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরের দুই সপ্তাহব্যাপী শুনানিতে উন্নত দেশগুলো বলেছিল, বিদ্যমান চুক্তি বিশেষ করে ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি ইতিমধ্যে এই দায়িত্ব নির্ধারণ করে রেখেছে। তবে উন্নয়নশীল দেশ ও ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো আরও কঠোর, বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা ও ধনী দেশগুলোর থেকে আর্থিক সহায়তা দাবি করেছে।

প্যারিস চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে আটকে রাখা, কিন্তু বাস্তবে তা এখনও সম্ভব হয়নি। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক ‘অ্যামিশন গ্যাপ রিপোর্ট’ অনুযায়ী, বর্তমান নীতিমালা অনুসরণ করলে ২১০০ সালের মধ্যে তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে মামলার সংখ্যা বাড়ছে। লন্ডনের গ্রান্থাম ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ৬০টি দেশে প্রায় ৩০০০টি জলবায়ু-বিষয়ক মামলা চলমান রয়েছে। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ২০টি দেশের ওপর কর্তৃত্ব রাখা ইন্টার-আমেরিকান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটসও জলবায়ু বিষয়ে সহযোগিতার পরামর্শ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক আদালতের রায় উপেক্ষা করা সম্ভব হলেও অধিকাংশ দেশ তা করতে চায় না।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সাতক্ষীরায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন

শ্যামনগরে যাত্রা করলো হেতালখালি মানবসেবা ফাউন্ডেশন

কয়রায় ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারী আটক

পরীক্ষার্থীর দুধের শিশুকে কোলে তুলে নিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন কনস্টেবল শিল্পী

দেবহাটায় দৃষ্টিপাত সম্পাদক জি.এম ন‍ূর ইসলামের স্মরণ সভা

বিদ্যুৎ বিল বেশি আসায় প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি, সেই যুবক কারাগারে

দেবহাটায় দ্য এডিটরস’র ৭ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনা

গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জবাবদিহিতা: হোসেন জিল্লুর রহমান

বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা বাতিল করল মালয়েশিয়া

কালিগঞ্জে ক্ষেতের ফসলে চোরের হানা, নিয়ে গেল ২৮টি ওল

১০

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত বৃদ্ধার মৃত্যু

১১

হজ পালনে পায়ে হেঁটে মক্কার পথে নাটোরের দুলাল এখন বেনাপোলে

১২

জন্মাষ্টমীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

১৩

শ্যামনগরে কৃতি শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

১৪

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতায় ২য় স্থান অর্জন করেছে পাতাখালির নাভিদ

১৫

হাঁটু পানিতে ডুবে আছে গ্রাম!

১৬

রাজ্যেশ্বরের জামিন নামঞ্জুর

১৭

হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর প্রাণহানি

১৮

ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃ-ত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১২৫২

১৯

কালিগঞ্জের গোবিন্দকাটিতে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা

২০
error: Content is protected !!