বাংলাদেশ, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
৮ কার্তিক ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
১৬ অক্টোবর ২০২৫, ৮:২৭ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

শ্যামনগরে আজাবা শাকের মেলা ও রান্না প্রতিযোগিতা

বিলাল হোসেন, উপকূলীয় প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলের স্থানীয় খাদ্য ভাণ্ডার ও অচাষকৃত উদ্ভিদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আজাবা শাকের মেলা ও রান্না প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের সহযোগিতায় সবুজ সংহতি ও স্থানীয় জনসংগঠন এই মেলার আয়োজন করে।

সিক্সটিন ডেজ অব গ্লোবাল অ্যাকশন অন এগ্রোইকোলজি ২০২৫ ও বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই মেলায় শীলতলা গ্রামের স্থানীয় পাঁচটি জনসংগঠনের ১০ জন সদস্য অচাষকৃত উদ্ভিদের প্রদর্শনী এবং ১০ জন রান্না প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

প্রদর্শনীতে থানকুনি, হেলাঞ্চ, শাপলা, গাদোমনি, আদাবরুন, পেপুল, ইপিলইপিল, দুর্বা, তুলশি, সেঞ্চি, বামনআটি, বিলকুমারী, কলমি, কচুশাক, নাটা, অশ^গন্ধ্যা, শিষাকন্দা, ঘুমশাক, ডুমুর, আকম্দ, মাটিফোড়া, তিতবেগুন, নিমুখা, বৌনুটি, ধুতরাসহ ৯০ প্রজাতির অচাষকৃত উদ্ভিদ স্থান পায়।

এসময় অংশগ্রহণকারীরা এসব অচাষকৃত উদ্ভিদের গুণাগুণ, প্রাপ্তিস্থান, কোন মৌসুমে পাওয়া যায়, কোনটি মানুষ ও প্রাণীর খাবার এবং কিভাবে খাওয়া যায় তা তুলে ধরেন।

এছাড়া রান্না প্রতিযোগিতায় স্থানীয় নারীরা বিভিন্ন শাক, মূল ও কন্দজাত উপাদান দিয়ে ঐতিহ্যবাহী খাবার প্রস্তুত করেন। পাঁচ সদস্যের বিচারকমণ্ডলী স্বাদ, পুষ্টিগুণ ও উপস্থাপনার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতার বিচার করেন।

আজাবা শাকের মেলায় সর্বোচ্চ সংখ্যক অচাষকৃত উদ্ভিদ প্রদর্শন করে ১ম স্থান অধিকার করেন মালতি রানী, ২য় শিখা রানী ও ৩য় পৃথা রানী।

এছাড়া রান্নায় প্রতিযোগিতায় ১ম হন ইতি রাণী, ২য় রিংকু রাণী ও ৩য় অঞ্জলী রাণী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সবুজ সংহতির সভাপতি জিল্লুর রহমান। বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলিম, স্থানীয় ইউপি সদস্য কমলা রানী মৃধা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজীব বাছাড়, কৃষাণী অল্পনা রানী, কৃষাণী মিতা রানী, কৃষক চিত্তরঞ্জন, বারসিক কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ জোয়ারদার, বিশ্বজিৎ মন্ডল, মফিজুর রহমান, মিলন হোসেন, বরষা রানী প্রমুখ।

এতে জাতীয় কৃষিপদক প্রাপ্ত কৃষাণী অল্পনা রানী মিস্ত্রি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চল ছিলো চাষ করা অচাষকরা নানান শস্য ফসলে ভরা ছিলো। বর্তমানে আধুনিক কৃষি ও বাজর নির্ভর খাদ্যাভ্যাস, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, অচাষকৃত উদ্ভিদের প্রাপ্তিস্থান বিলুপ্ত, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে এসকল প্রাণবৈচিত্র্য বিলুপ্তির পথে। কিন্তু এগুলোই গ্রামীণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির প্রধান উৎস। এসব উদ্ভিদবৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ব্যবহারে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জন নিহত

১

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন || ফিচার || শেখ মাহির ফয়সাল নাঈম

২

কয়রায় সংঘর্ষে পল্লী চিকিৎসক রব্বানীর মৃত্যু: বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

৩

আশাশুনিতে মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপীড়ন, প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

৪

ভাটায় কাজে যাওয়ার শর্তে দাদন নিয়ে পালিয়েছে ছেলে, সর্দার তুলে নিয়ে গেল মাকে

৫

খুলনায় নারীকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা

৬

সুন্দরবনে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিলের দাবি

৭

১১৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরি, ওয়ানডেতে বিশ্ব রেকর্ড ব্রুকের

৮

বঙ্গোপসাগরে ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আশঙ্কা, দেশজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা

৯

প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে ঢাকায় ফেরানো হলো জাপানের রাষ্ট্রদূতকে

১০

তালা থানার নতুন ওসি আব্দুল আলিম

১১

মুন্সীগঞ্জ বাজারে জামায়াত নেতার গণসংযোগ

১২

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সংগঠন দরদির নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি নয়ন পাল, সম্পাদক রাকিব

১৩

মোংলা বন্দর পরিদর্শন করে যেসব নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

১৪

সুন্দরবনের গোলখালী থেকে হরিণের পা মাথা চামড়া ও মাংস উদ্ধার

১৫

হরিনগর অনির্বান ক্লাবের উদ্যোগে ১৬ দলীয় কেরাম প্রতিযোগিতা উদ্বোধন

১৬

তালা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মন্তব্যের প্রতিবাদে সভা

১৭

কয়রা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না থাকার অভিযোগ, শিশুর মৃত্যু

১৮

পাটকেলঘাটায় ৮শ লিটার নারকেল তেল জব্দ, যাচাই হচ্ছে ভেজাল কি না

১৯

কয়রায় সরকারি জমি নিয়ে সংঘর্ষ, চিকিৎসাধীন পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু

২০