
ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ৮৬নং চাম্পাফুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান। এতে ভবন ধসে পড়ে প্রাণহানির শংকা দেখা দিয়েছে। বিরাজ করছে চরম নিরাপত্তাহীনতা।
বিদ্যালয়টি ভবনের ছাদ থেকে খসে পড়ছে প্লাস্টার, কোথাও কোথাও বেরিয়ে গেছে রড, বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। দেয়াল, ছাদ, পিলার ও বীমে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। শুধু তাই নয়, ঝুঁকির কারণে ভবনের কয়েকটি কক্ষে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ১৯৯৬ সালে নির্মিত তিন কক্ষের পুরোনো ভবনের একটি কক্ষ ব্যবহার করা হচ্ছে অফিস হিসেবে; অন্য দুই কক্ষে দুই শিফটে চলছে পাঠদান। ছাদের আস্তরণ খসে পড়ে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, বৃষ্টি হলে পানি পড়ে ভেসে যায় শ্রেণিকক্ষ। ভবনের ভেতর-বাইরের দেয়াল ও পিলারেও ফাটল দেখা দিয়েছে। এসব কারণে শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত আতংকের মধ্যদিয়ে পাঠ গ্রণ করছে।
বিদ্যালয়সূত্র জানায়, স্থানীয়দের উদ্যোগে ১৯১০ সালে ৪৮ শতক জমির ওপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন ভবনটি ছিল তিন কক্ষের টিনশেড। এরপর ১৯৯৬ সালে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত তিন কক্ষবিশিষ্ট ভবনটি বর্তমানে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।
এছাড়া ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে পিইডিপি-২ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত দুই কক্ষবিশিষ্ট আলাদা ভবনটিতেও রয়েছে জায়গার সংকট। মাত্র দুইটি কক্ষে ৮ জন শিক্ষককে ৩১১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে।
পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, ভাঙ্গা কক্ষে পড়তে খুব ভয় লাগে। প্রায়ই ছাদ থেকে প্লাস্টার পড়ে কারো না কারো গায়ে লাগে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাহানা খাতুন বলেন, ২০১১ সালে যোগদানের পর থেকেই তিনি দেখছেন, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ। ভবন সংস্কার করে কোনোরকমে পাঠদান চালানো হচ্ছে। নতুন ভবন অনুমোদনের জন্য বার বার চিঠি দেওয়া হলেও এখনও কোন কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি হওয়ায় নতুন ভবন অত্যন্ত জরুরি। ইতোমধ্যে নতুন ভবনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করছি প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) এর আওতায় অনুমোদন পাওয়া যেতে পারে।

মন্তব্য করুন