বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
১৪ কার্তিক ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে শুকুরুজ্জামানের সাফল্য

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় কৃষি জমিতে জৈব সারের ব্যবহার বেড়েছে কয়েকগুণ। তরমুজ ও সবজি চাষসহ মাটির উর্বরতা শক্তি বাড়াতে চাষীরা ব্যবহার করছেন জৈব সার।

তাই জৈব সার উৎপাদনকে ঘিরেও তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন উদ্যোক্তা। উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মৃত গাজী আবুল কাশেমের ছেলে জিএম শুকুরুজ্জামান এমনই একজন উদ্যোক্তা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনের খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। তার খামারেই বছরে উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় ২০ মেট্রিক টন জৈব সার। এ থেকে বাড়তি আয়ও করছেন তিনি। তাকে অনুসরণ করে অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠেছেন ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে।

এদিকে, চাহিদার সাথে জৈব সারের উৎপাদন বাড়লে কৃষি জমিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার তুলনামূলক কমে আসবে বলে মনে করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

পূর্বে ফসল উৎপাদনে অধিক পরিমানে জৈব সার ব্যবহার হলেও গত দুই থেকে তিন দশক কৃষি কাজে জৈব সারের ব্যবহার একেবারেই কমে যায়। ব্যবহার বাড়ে রাসায়নিক সারের। বছরের পর বছর অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহার করার ফলে মাটিতে জৈব উপাদান নেমে আসে শূন্যের কোটায়। মাটির উর্বরতা শক্তি বাড়াতে এবং জৈব উপাদান ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এরই প্রেক্ষিতে চাষীদের জৈব সার উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করতে থাকে তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ২০২৪ সালে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন শুরু করেন শুকুরুজ্জামান। নিজের বসতবাড়িতেই ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করে এলাকায় সাড়া ফেলে দেন তিনি। এখন স্থানীয় কৃষকরা তার উৎপাদিত ভার্মি কম্পোস্ট কিনে ব্যবহার করছেন কৃষি কাজে।

জিএম শুকুরুজ্জামান বলেন, এলাকায় প্রচুর চাহিদা থাকায় পর্যায়ক্রমে জৈব সারের উৎপাদন বাড়াতে থাকি। বর্তমানে আশেপাশের কৃষক ছাড়াও দূরদূরান্তের কৃষকরা আমার এখানে সার নিতে আসেন। এলাকার অনেক নারী পুরুষ আমার খামারে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। এর মাধ্যমে আমার বাড়তি আয় হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন বলেন, ভার্মি কম্পোস্ট একটি উপকারী সার। এটাকে মাটির প্রাণ বলা হয়ে থাকে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই এলাকার কোথাও কারোর মাটিতে এক ভাগও জৈব উপাদান নাই। এ অবস্থায় কৃষি কাজে জৈব সার ব্যবহারের বিকল্প নাই। এ ক্ষেত্রে জিএম শুকুরুজ্জামান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করে ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করছেন। সাধারণ কেনা সারের চেয়ে উৎপাদিত ভার্মি কম্পোস্ট অনেক ভালো। কৃষকরা এখন কৃষি কাজে বিশেষ করে তরমুজ, সবজি, নার্সারি ও ছাদ বাগানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে জৈব সার ব্যবহার করছে। যার সিংহভাগ যোগান আসছে ভার্মি কম্পোস্ট থেকে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কালিগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত

১

দেবহাটায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

২

প্রাইভেট হসপিটাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের বিভাগীয় কমিটি ঘোষণা

৩

পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি, ২৪ ঘণ্টায় আটক ৩

৪

তালায় জেলা পরিষদের বাইসাইকেল উপহার পেল ৮০ মেধাবী শিক্ষার্থী

৫

শ্যামনগরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

৬

শ্যামনগরে স্থানীয় অভিযোজন কৌশলবিষয়ক প্রশিক্ষণ

৭

খেজুরবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, আতংকে থাকে শিক্ষার্থীরা

৮

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু

৯

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪

১০

এবার গ্যাসের দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব অপারেটরদের

১১

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাতে ৫ জনের মৃত্যু

১২

সাতক্ষীরায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত

১৩

সুন্দরবনকে বনদস্যু মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন

১৪

ভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব

১৫

ঘূর্ণিঝ‌ড়ের সতর্কবার্তার ম‌ধ্যে আশাশুনিতে খোল‌পেটুয়া নদীর বাঁ‌ধে ভয়াবহ ভাঙন, এলাকায় আতংক

১৬

ডিবি গার্লস হাইস্কুলে লালন সাঁইজির তিরোধান দিবস পালিত

১৭

‎সবুজের সান্নিধ্যে মন ও প্রাণের নিরাময় || ‎তারিক ইসলাম

১৮

এবি পার্টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শাখার আহবায়ক কমিটির অনুমোদন

১৯

কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের নিন্দা

২০