

শ্যামনগর প্রতিনিধি: ‘প্রাণ প্রকৃতি সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখেই কৃষি ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে হবে। এজন্য রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে হবে। এতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলা সহজ হবে।’
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের শ্রীফলকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক আয়োজিত স্থানীয় অভিযোজন বিষয়ক বক্তৃতামালায় বক্তারা এ কথা বলেন।
বক্তৃতামালায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাজমুল হোসেনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বারসিক এর সহযোগী আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রামকৃষ্ণ জোয়ারদার, সহকারী শিক্ষক জাকির হোসেন, সুব্রত কুমার মন্ডল, মো. নুরুল হক, এম.এম মজনু এলাহী, বারসিক কর্মকর্তা বরষা গাইন, স.ম ওসমান গনী প্রমুখ।
বক্তব্য রাখেন ধুমঘাট এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক ও জাতীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষাণী অল্পনা রানী মিস্ত্রি, কৃষক নিমাই মন্ডল , পানখালী এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক কনিকা রানী, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন গ্রীন কোয়ালিশনের সদস্য নিমাই মন্ডল প্রমুখ।
রামকৃষ্ণ জোয়ারদার বলেন, আমাদের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করে টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এগ্রোইকোলজি একটি বিজ্ঞান, যা একই সাথে প্রাণ প্রকৃতি সুরক্ষায় আন্দোলন গড়ে তোলে। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর লোকায়ত জ্ঞান ও কৌশলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা পালন করে।
কৃষাণী অল্পনা রানী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দিন দিন কৃষি কাজে আমরা নতুন নতুন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। এসব সমস্যা মোকাবেলা করতে আমাদেরকে পদ্ধতিগতভাবে চাষাবাদ করতে হচ্ছে। প্রতিকূল এই পরিবেশে কৃষিকাজকে এগিয়ে নিতে ও জীবিকা নির্বাহ করতে টিকে থাকার কৌশল হল অভিযোজন। সমস্যা থেকে বাঁচতে অভিবাসিত না হয়ে বরং নিজের এলাকায় কৃষিকে বাঁচিয়ে টিকে থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে নানাবিধ অচাষকৃত উদ্ভিদ ও স্থানীয় বীজ প্রদর্শন এবং ফেস্টুনের মাধ্যমে উপকূলীয় কৃষি ও স্থানীয় অভিযোজন কৌশলের নানা তথ্য তুলে ধরে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে আগামী প্রজন্মের প্রতি সক্রিয় অংশগ্রহণের আহবান জানানো হয়।

মন্তব্য করুন