
এম জুবায়ের মাহমুদ: সাতক্ষীরা জেলা রেকর্ড রুমের দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির করে প্রায় ৭ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি আত্মাসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শ্যামনগর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মৃত মেঘনাথ গাইনের ছেলে মলয় কুমার ও কুমারেন্দ্র নাথ এবং ভোলানাথ গাইনের ছেলে অরবিন্দু নাথ এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে।
ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে রেকর্ডরুম শাখা কর্তৃক তদন্তে জালিয়াতির ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।
শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এসএম ফজলুল রহমান বাদী হয়ে গত ১১ ফেব্রুয়ারি শ্যামনগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তবে মামলা দায়ের পর প্রায় ১০ দিন অতিবাহিত হলেও অদ্যাবধি আসামিরা গ্রেপ্তার হননি। বরং অর্থ সম্পদের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা গ্রেপ্তার এড়ানোসহ বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, শ্যামনগরের গোপালপুর মৌজার এসএ ২১, ২৪, ২৫ ও ২৬ খতিয়ানের চার একর ৩২ শতক জায়গা ১৯৮১ সালে জাল দলিল তৈরী করে মলয় কুমার ও তার দুই ভাই দখল করে নেন। এসময় তারা প্রায় তিন দশক (১৯৫২) আগে ভারতে চলে যাওয়া জনৈক ক্ষেত্র দাস দিং দের দাতা সাঁজিয়ে প্রায় ৭ কোটি টাকা মূল্যের উক্ত সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে নেন। পরবর্তীতে জাল খতিয়ান তৈরীসহ সৃজনকৃত সেসব কাগজমূলে উক্ত জমির নামপত্তনসহ যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করেন তারা।
অভিযোগ উঠেছে, অর্পিত ঐ সম্পত্তির মালিকানার দাবিতে মলয় ও তার দুই ভাই বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ আদালতে (সাতক্ষীরা) ১৮/২০০৫ নং মামলা করেন। এসময় তারা দাবির সমর্থনে জেলা রেকর্ডরুমের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সিল স্বাক্ষর সম্বলিত এসএ ২১, ২৪, ২৫, ২৬ নং খতিয়ানের কপি দাখিল করেন। পরবর্তীতে তদন্তে যা ‘ভুয়া বা জাল’ হিসেবে প্রমাণিত হয়।
জানা যায়, তাদের জালিয়াতির বিষয়টি সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে। যার প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর ব্রহ্মশাসন গ্রামের মোঃ মুজিবুল হক ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত আবেদন জানান। একপর্যায়ে রেকর্ড রুমের তদন্তে প্রমাণিত হয় যে মলয় কুমার দিং দের সরবরাহকৃত যাবতীয় কাগজ সৃজিত। যার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বাদী হয়ে মলয়সহ তিন জনের বিরুদ্ধে পেনাল কোড ১৮৬০ অনুযায়ী ৪১৯, ৪২০, ৪৬৮, ও ৪৭১ ধারায় উক্ত মামলা করেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে মলয় কুমার জানান, তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, তিনি জালিয়াতি করেননি, অপর একটি চক্র তাকে ভুল পথে পরিচালত করায় তিনি ফেঁসে গেছেন।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান জানান, মামলার তদন্তদভার উপ-পরিদর্শক মোরছালিনের উপর দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন