বাংলাদেশ, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
১০ মে ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

কেশবপুরে পাকা ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

জি.এম.মিন্টু কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় পাকা বোরো ধান নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষীরা। বিলজুড়ে পানিতে দাঁড়িয়ে কৃষককে ধান কাটতে দেখা যাচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সময়মতো ধান ঘরে তুলতে না পারায় অনেক কৃষক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কেশবপুর উপজেলায় ১৩ হাজার ৫৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। গত বছর বোরো মৌসুমে চাষ হয়েছিল ১২ হাজার ৯৯০ হেক্টর জমিতে। সে হিসেবে এবার প্রায় ৬০৫ হেক্টর বেশি জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। ভালো ফলনের আশায় কৃষকরা অধিক জমিতে চাষাবাদ করলেও মৌসুমের শেষ সময়ে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা তাদের সেই স্বপ্নে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

উপজেলার সাগরদাঁড়ি, সুফলাকাটি, মঙ্গলকোট, পাঁজিয়া, গৌরীঘোনা ও হাসানপুরসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ ধানক্ষেতে পানি জমে রয়েছে। অনেক স্থানে ধান কেটে শুকানোর সুযোগ না থাকায় কৃষকরা পানির মধ্যেই ধান মাড়াই করছেন। কোথাও আবার পানিতে পড়ে ধানের শীষ কালো হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

কৃষকরা জানান, কয়েক মাসের পরিশ্রম আর ঋণ করে চাষ করা ধান এখন ঘরে তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। বর্তমানে ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। যেসব শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে, তারা জনপ্রতি দৈনিক দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি দাবি করছেন। এছাড়া প্রতি বিঘা ধান কেটে বাড়িতে তুলে দিতে আট হাজার থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। একই সময়ে উপজেলার প্রায় সব এলাকাতেই ধান কাটা শুরু হওয়ায় শ্রমিক সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে নিজেরাই মাঠে নেমে ধান কাটছেন।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এমনিতেই উৎপাদন খরচ বেড়েছে। তার ওপর অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক সংকট মিলিয়ে এবার ধান ঘরে তোলা কৃষকের জন্য এক দুর্বিষহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

অনেক কৃষক বলছেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ধানের মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেন, এবার উপজেলায় বোরো ধানের আবাদ গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। অধিকাংশ জমিতে ভালো ফলনও হয়েছে। তবে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও পানি নিষ্কাশনের ধীরগতির কারণে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনে স্থানীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা দ্রুত ধান ঘরে তুলতে পারবেন। কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কেশবপুর অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই জলাবদ্ধতা একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাল ও জলাশয় ভরাট, মাছের ঘের, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় প্রতি বছর কৃষকদের এমন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সুন্দরবনকে বনদস্যু মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন

১

ভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব

২

ঘূর্ণিঝ‌ড়ের সতর্কবার্তার ম‌ধ্যে আশাশুনিতে খোল‌পেটুয়া নদীর বাঁ‌ধে ভয়াবহ ভাঙন, এলাকায় আতংক

৩

ডিবি গার্লস হাইস্কুলে লালন সাঁইজির তিরোধান দিবস পালিত

৪

‎সবুজের সান্নিধ্যে মন ও প্রাণের নিরাময় || ‎তারিক ইসলাম

৫

এবি পার্টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শাখার আহবায়ক কমিটির অনুমোদন

৬

কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের নিন্দা

৭

আশাশুনিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ প্রস্তুতি মেলা

৮

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠ্যপুস্তকে ‘খেলাধুলা’ বই বাধ্যতামূলক হচ্ছে

৯

কয়রায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণতান্ত্রিক সংলাপ

১০

পাইকগাছার চাঁদখালীতে পল্লী বিদ্যুতের সাবস্টেশন নির্মাণে স্থান নির্ধারণ

১১

সাতক্ষীরা সীমান্তে মাদকসহ সাড়ে ৭ লাখ টাকার পণ্য জব্দ

১২

বাংলাদেশিদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠিয়েছে রাশিয়া, প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

১৩

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির নতুন সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা

১৪

মারা গেলেন ‘সিআইডি’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা

১৫

ব্যালন ডি’অরে কে কোন পুরস্কার জিতলেন

১৬

দেবহাটায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল ইসলামকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

১৭

পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় অভিযোগ

১৮

তারেক রহমানকে নিয়ে স্ট্যাটাসে যা বললেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

১৯

আমন ক্ষেত ফেটে চৌচির, ফলন বিপর্যয়ের শংকা

২০