বাংলাদেশ, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
১৬ মে ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

লিটনের সেঞ্চুরিতে স্বস্তিতে প্রথম দিন শেষ করলো বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট: সিলেট টেস্টের প্রথম দিন ঘিরে সবচেয়ে বড় শঙ্কার নাম ছিল বৃষ্টি। গত কয়েকদিন ধরেই আকাশে ছিল মেঘের আনাগোনা, আবহাওয়ার পূর্বাভাসও খুব একটা স্বস্তি দিচ্ছিল না।

তাই দিনের খেলা আদৌ পুরোটা হবে কি না, তা নিয়ে ছিল সংশয়। তবে শেষ পর্যন্ত সেই শঙ্কা কাটিয়ে পুরো দিনই মাঠে গড়িয়েছে খেলা।

আর বৃষ্টি বাধা না হওয়ায় দর্শকরাও পেয়েছেন নাটকীয়তায় ভরা একটি দিন।
সকালের স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া, নতুন বলের মুভমেন্ট আর পাকিস্তানি পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং মিলিয়ে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম দিনটা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের জন্য দুঃস্বপ্নের মতো।

টপ অর্ডার ব্যর্থতার পর মিডল অর্ডারও ভেঙে পড়ে দ্রুত। ১১৬ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল স্বাগতিকরা।

তখন মনে হচ্ছিল, প্রথম ইনিংসে দেড়শ পার করাটাও কঠিন হয়ে যাবে।
কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের মাঝেই ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে গেলেন লিটন দাস। এক প্রান্ত আগলে রেখে খেললেন দায়িত্বশীল, পরিণত এবং একই সঙ্গে আক্রমণাত্মক এক ইনিংস। তার দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ভর করে প্রথম দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশ গড়ে তুলেছে ২৭৮ রানের লড়াকু সংগ্রহ।

দিনের শুরুটা অবশ্য ছিল পুরোপুরি পাকিস্তানের। নতুন বলে ধারাবাহিকভাবে উইকেট তুলে নিয়ে চাপে ফেলে দেয় সফরকারীরা। ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় আবারও ব্যর্থ হন। তানজিদ হাসান তামিম আক্রমণাত্মক শুরু করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। মিডল অর্ডারেও কেউ থিতু হতে পারেননি।

প্রত্যাশা করা হচ্ছিল, অভিষিক্ত তানজিদ হাসান তামিম দারুণ কিছু করবেন। শুরুটা অবশ্য সেভাবেই করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২৬ রানের মাথায় তানজিদকেও ফিরতে হয়। এর পরের ব্যাটাররা ভালো শুরুর পরও নিজেদের ইনিংসটাকে লম্বা করতে পারেননি।

শুরুর ধাক্কা সামলে ইনিংস গড়ার দায়িত্ব ছিল অধিনায়ক শান্তর কাঁধে। কিন্তু সেট হতে না হতেই উইকেট ছুঁড়ে দেন তিনি। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খেলবেন কি খেলবেন না এমন কনফিউশনের মধ্যেই শান্তর ব্যাটে বল লেগে চলে যান উইকেটকিপার রিজওয়ানের গ্লাভসে। মুশফিকুর রহিমের উইকেটটাও ছিল বেশ অপ্রত্যাশিত।

পাকিস্তানি পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের বিপক্ষে খুব একটা স্বস্তিতে ছিলেন না তিনি। জায়গায় দাঁড়িয়ে বল খেলার চেষ্টায় সফল হননি মুশফিক। ব্যাটের কানা এড়িয়ে আঘাত হানে প্যাডে। জোরাল আবেদনে আম্পায়ার সাড়া দিলে রিভিউ নেন অভিজ্ঞ মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি মুশফিক। ৬৪ বলে ২ চারে ২৩ রান করেন তিনি।

মুশফিকের বিদায়ের পর লিটন দাস তখনও ইনিংস গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। মিরাজ কিছুটা সময় নিয়ে খেললেও বড় জুটি গড়তে পারেননি। অপ্রয়োজনীয় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিলে ১১৬ রানেই ষষ্ঠ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তখন মনে হচ্ছিল, খুব দ্রুতই গুটিয়ে যেতে পারে স্বাগতিকরা।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন বিপদে, তখন ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন লিটন। শুরুর দিকে ধৈর্য ধরেই খেলেছেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। তবে সেট হয়ে যাওয়ার পর বদলে যায় দৃশ্যপট। পাকিস্তানি বোলারদের বিপক্ষে পাল্টা আক্রমণে যান তিনি। কভার ড্রাইভ, পুল, ফ্লিক -সব ধরনের শটেই ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। ফিল্ড ছড়িয়ে দিয়েও তাকে থামানো যাচ্ছিল না। পাকিস্তানের ৮ জন ফিল্ডার বাউন্ডারি লাইনে ফিল্ডিং করেছেন কেবল লিটনকে আটকাতে।

লিটনের ইনিংসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল লেজের ব্যাটারদের নিয়ে গড়ে তোলা জুটিগুলো। সপ্তম উইকেটে তাইজুল ইসলামের সঙ্গে তিনি যোগ করেন ৬০ রান। এরপর তাসকিন আহমেদের সঙ্গে দ্রুত রান তোলেন। শরিফুল ইসলামকে নিয়েও দারুণভাবে ইনিংস এগিয়ে নেন। নিজের সেঞ্চুরিটাও পূর্ণ করেন দারুণ স্টাইলে। খুররম শাহজাদের করা ওভারে কভার দিয়ে চার মেরে শতক ছোঁয়ার পরের বলেই ফাইন লেগের ওপর দিয়ে হাঁকান বিশাল ছক্কা। পুরো ইনিংসজুড়েই তার ব্যাটিংয়ে ছিল আত্মবিশ্বাস আর নিয়ন্ত্রণের মিশেল।

অবশেষে ১০০ পেরিয়ে আরও দ্রুত খেলতে গিয়ে হাসান আলীর বলে আউট হন লিটন। ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেওয়ার আগে খেলেন দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসটি (১২৬ রান)। তার ব্যাটের ছোঁয়াতেই বিপর্যয়ের দিনে বাংলাদেশের ২৭৮ রানের সংগ্রহ আসে।

এরপর শেষ বিকালে পাকিস্তান ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ ওভার ব্যাটিং করে। প্রবল চাপ নিয়ে আধ ঘণ্টা সময় কাটিয়ে দেয় সফরকারীরা। বিনা উইকেটে ২১ রানে দিন শেষ করেছে পাকিস্তান। ১৬ বলে এক চারে ৮ রান করেছেন আব্দুল্লাহ ফজল। তিন চারে ২০ বলে ১৩ রান করেছেন আজান আওয়াইজ। শনিবার ২৫৭ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিন শুরু করবে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন তাদের পেসাররা। নতুন বলে দারুণ নিয়ন্ত্রণ দেখিয়ে শুরু থেকেই চাপে রেখেছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটারদের। খুররম শাহজাদের সর্বোচ্চ চারটি উইকেট শিকার করেন। মোহাম্মদ আব্বাস নেন তিনটি উইকেট। এছাড়া হাসান আলী নেন দুটি উইকেট।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব

১

ঘূর্ণিঝ‌ড়ের সতর্কবার্তার ম‌ধ্যে আশাশুনিতে খোল‌পেটুয়া নদীর বাঁ‌ধে ভয়াবহ ভাঙন, এলাকায় আতংক

২

ডিবি গার্লস হাইস্কুলে লালন সাঁইজির তিরোধান দিবস পালিত

৩

‎সবুজের সান্নিধ্যে মন ও প্রাণের নিরাময় || ‎তারিক ইসলাম

৪

এবি পার্টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শাখার আহবায়ক কমিটির অনুমোদন

৫

কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের নিন্দা

৬

আশাশুনিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ প্রস্তুতি মেলা

৭

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠ্যপুস্তকে ‘খেলাধুলা’ বই বাধ্যতামূলক হচ্ছে

৮

কয়রায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণতান্ত্রিক সংলাপ

৯

পাইকগাছার চাঁদখালীতে পল্লী বিদ্যুতের সাবস্টেশন নির্মাণে স্থান নির্ধারণ

১০

সাতক্ষীরা সীমান্তে মাদকসহ সাড়ে ৭ লাখ টাকার পণ্য জব্দ

১১

বাংলাদেশিদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠিয়েছে রাশিয়া, প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

১২

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির নতুন সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা

১৩

মারা গেলেন ‘সিআইডি’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা

১৪

ব্যালন ডি’অরে কে কোন পুরস্কার জিতলেন

১৫

দেবহাটায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল ইসলামকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

১৬

পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় অভিযোগ

১৭

তারেক রহমানকে নিয়ে স্ট্যাটাসে যা বললেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

১৮

আমন ক্ষেত ফেটে চৌচির, ফলন বিপর্যয়ের শংকা

১৯

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ শিক্ষার্থী কল্যাণ পরিষদের কমিটি গঠন

২০