বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
২১ জুন ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

মিরপুরে আর্জেন্টিনার ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের জার্সিতে গিনেস রেকর্ডের স্বপ্ন

ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীর মিরপুরের ইব্রাহিমপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তাটি এখন আর কেবল একটি সাধারণ সড়ক নেই; এটি যেন পরিণত হয়েছে ল্যাটিন আমেরিকান ফুটবলের এক অঘোষিত গ্যালারিতে। রাস্তার একপাশে ঝুলছে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে বানানো ব্রাজিলের একটি জার্সি, আর তার ঠিক পাশেই সগর্বে উড়ছে প্রায় ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০ ফুট প্রস্থের এক বিশাল আর্জেন্টাইন জার্সি, যা আকারে প্রতিপক্ষের জার্সির প্রায় দ্বিগুণ!

মেসিদের প্রতি ভালোবাসা থেকে তৈরি এই জার্সিটি নিছক কোনো কাপড়ের টুকরো নয়; এটি ঢাকার বুকে সমর্থকদের এক অবিশ্বাস্য কারিগরি সাফল্যের গল্প।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞের নেপথ্যের গল্প তুলে ধরে উদ্যোক্তাদের অন্যতম মোহাম্মদ মাসুম বলেন, ‘মেসির শেষ বিশ্বকাপকে উৎসর্গ করেই আমাদের এই আয়োজন। প্রায় ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০ ফুট প্রস্থের এই জার্সিটি বানাতে আমাদের এক মাসের পরিকল্পনা আর ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লেগেছে।

পুরো জার্সিটির ওজন প্রায় ৫০ কেজি। এর মধ্যে কাপড়ের ওজন ২০ কেজি আর ভেতরে দেওয়া লোহার হ্যাঙ্গারের ওজন ৩০ কেজি।

এই কাপড় দিয়ে অনায়াসে ১৫০টি সাধারণ জার্সি বানানো যেত।’

ঢাকার আবহাওয়া, ঝড়-বৃষ্টি বা বাতাসের তোড় থেকে শূন্যে ঝুলন্ত এই বিশাল কাপড়কে রক্ষা করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে জার্সিটির ভেতরে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৩০ কেজি ওজনের একটি বিশেষ লোহার হ্যাঙ্গার। সব মিলিয়ে ৫০ কেজির এই বিশাল কাঠামোটিকে দুটো ভবনের মাঝখানে শূন্যে ঝুলিয়ে রাখা মোটেও সহজ কাজ ছিল না। মজার ব্যাপার হলো, ৩ ফুট বহরের কাপড় জোড়া দিয়ে এত বিশাল ক্যানভাস তৈরির কাজটি এতটাই নিখুঁতভাবে করা হয়েছে যে, খালি চোখে এর কোনো সেলাইয়ের দাগ বোঝার উপায় নেই।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞের কোনো আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করতে নারাজ উদ্যোক্তারা; তাদের মতে, এটি পুরোটাই ‘প্রাইসলেস’ বা অমূল্য এক ভালোবাসার নিদর্শন। টুর্নামেন্ট শেষে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফ্যান-মেড জার্সি হিসেবে নাম ওঠানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন করার স্বপ্ন দেখছেন তারা। এ বিষয়ে মাসুম বলেন, ‘বিশ্বকাপের পর আমরা গিনেস কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করার পরিকল্পনা করছি। আর খরচের কথা যদি বলেন, এটি সম্পূর্ণ আমাদের ভালোবাসা থেকে তৈরি। তাই এর কোনো আর্থিক মূল্য আমরা নির্ধারণ করতে চাই না; এটি আমাদের কাছে একেবারেই প্রাইসলেস।’

মাঠের অভাব আর ইট-পাথরের এই শহরে ফুটবল উন্মাদনার এই রূপ দেখে মুগ্ধ সবাই। প্রতিপক্ষ হলেও ব্রাজিলের সমর্থকরাও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন। তবে নিজেদের জার্সিটি ছোট হওয়ায় কিছুটা আক্ষেপও ঝরেছে তাদের কণ্ঠে। স্থানীয় ব্রাজিল সমর্থক আরাফাত হোসেন এই উদ্যোগের প্রশংসা করে নিজেদের সীমাবদ্ধতা ও আগামী দিনের স্বপ্নের কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের জার্সিটি ২০১৮ সালের, তাই ওদেরটার তুলনায় ছোট। ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ জায়গায় এত বড় জার্সি টানানোর জন্য যে স্পেস বা জায়গা দরকার, তা পাওয়া খুব কঠিন। তবে সুযোগ আর ফান্ডিং পেলে ভবিষ্যতে আমরাও এর চেয়ে বড় কিছু করার চেষ্টা করব।’

আরেক খুদে ব্রাজিল ভক্ত, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আমিনের কণ্ঠেও প্রিয় দলের প্রতি তীব্র ভালোবাসা ফুটে ওঠে। তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনার জার্সিটা অনেক সুন্দর হয়েছে, তবে আমাদের জার্সিটা একটু ছোট হয়ে গেছে। বড় হলে আরও ভালো লাগতো। তবে আমরা বিশ্বকাপ জিতে আনন্দ করতে চাই। এবার বিশ্বকাপটা নেইমারের হাতেই দেখতে চাই।’

ফুটবলকে ঘিরে এই দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে যেমন রয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, তেমনি রয়েছে একে অপরের প্রতি সম্মান।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ম্যাচ চলাকালে বজ্রপাতে ফুটবলারের মৃত্যু, আহত আরও ১২ খেলোয়াড়

ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়ে ১৫ বলে ফিফটি ব্রুকের

সাতক্ষীরায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল

শ্যামনগরে জামায়াতের গণমিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ

পাইকগাছায় বিএনপির আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ

কয়রায় জামায়াতের গণমিছিল

দেবহাটায় বিএনপির উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন

দেবহাটায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে জামায়াতের সমাবেশ

দেবহাটায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা

জুলাইয়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা!

১০

আর্জেন্টিনা ম্যাচের নতুন সূচি

১১

কয়রায় ১৪২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮৩টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক

১২

রাতে ওনারা পাশাপাশি বসেন, মাঝখানে চোখ হারায় কর্মীরা: তাসনিম জারা

১৩

২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে পাঁচজনের মৃত্যু

১৪

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস: ভোমরা ও বেনাপোল বন্দরে বৈদেশিক বাণিজ্য বন্ধ

১৫

বন্যায় পানিবন্দি মা ও পরিবার, কান্নায় ভেঙে পড়লেন অভিনেত্রী

১৬

অবশেষে নতুন ঠিকানায় সালাহ

১৭

কয়রায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

১৮

জুলাই গণঅভ্যু্ত্থান দিবস উপলক্ষে সিলভার জুবিলি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আলোচনা

১৯

আমার কমনসেন্স বলে, তিনি নিশ্চয়ই দেশে ফিরে আসবেন: রুমিন ফারহানা

২০
error: Content is protected !!