
উপকূলীয় প্রতিনিধি: উপকূলীয় অঞ্চলের অচাষকৃত উদ্ভিদ বৈচিত্র্য ব্যবহার, সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কুড়িয়ে পাওয়া শাকের মেলা’।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) উপজেলার ফুলতলা গ্রামে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের সহায়তায় ফুলতলা কৃষি নারী ও কিশোরী সংগঠনের উদ্যোগে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
মেলায় ফুলতলা ও উত্তর কদমতলা গ্রামের ১৭জন নারী এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা ১৩২ ধরনের অচাষকৃত উদ্ভিদ প্রদর্শন করেন।
এসব উদ্ভিদ বৈচিত্র্যের মধ্যে ছিল- থানকুনি, হেলাঞ্চ, কলমি, গাদোমনি, সেঞ্চি, ভুইকুমড়া, আদাবরুন, পেপুল, হেন্না, জার্মানীলতা, শিষাকন্দ, হাতিশুড় প্রভৃতি।
মেলায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধান শিক্ষক হরসিত কুমার মন্ডল, শিক্ষক কমলেশ মন্ডল ও সুন্দরবন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ। এছাড়াও বারসিক কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ মন্ডল, মারুফ হোসেন, হাবিবুর রহমান, আল-মামুন, ওমর ফারুক রাজন ও চন্দনা রানীসহ স্থানীয় কৃষক-কৃষাণী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ দেড় শতাধিক মানুষ এই আয়োজনে অংশ নেন।
মেলায় অংশগ্রহণকারী নারীরা অচাষকৃত উদ্ভিদের স্থানীয় নাম, প্রাপ্তি স্থান, খাদ্যগুন, ঔষধি হিসাবে ব্যবহার, পরিবেশগত গুরুত্ব ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তারা বলেন, উপকূলীয় মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির পাশাপশি এসব অচাষকৃত উদ্ভিদ স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও নিজস্ব জ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মেলায় এককভাবে ১৩২ জাতের অচাষকৃত উদ্ভিদ সংগ্রহ ও প্রদর্শন করে প্রথম স্থান অধিকার করেন শিক্ষার্থী দ্বীপান্বিতা মন্ডল। ১১২ জাতের অচাষকৃত উদ্ভিদ সংগ্রহ ও প্রদর্শন করে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন চম্পা মন্ডল এবং ১০৭ জাতের অচাষকৃত উদ্ভিদ সংগ্রহ ও প্রদর্শন করে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন স্বপ্না জোয়ারদার।
মন্তব্য করুন