
সমাজের অবক্ষয় রোধে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা। বিশেষ করে মাদক, অনলাইন জুয়া (ক্যাসিনো), বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদসহ নানা সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে মানুষের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে মসজিদ হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর গণসচেতনতার কেন্দ্র। যশোরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চলমান কার্যক্রম সেই সম্ভাবনাকেই বাস্তবে রূপ দিচ্ছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন, যশোর জেলা কার্যালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন উপজেলার মসজিদে জু’মার খুতবার মাধ্যমে সামাজিক সমস্যা ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জেলার সর্বশেষ তথ্য অনলাইন জুয়া (ক্যাসিনো) খেলার কুফল সম্পর্কে ৫ হাজার ৬৩০টি মসজিদে খুতবায় জনসচেতনতামূলক বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।
অনলাইন জুয়া (ক্যাসিনো) এখন কেবল একটি বিনোদনের বিষয় নয়। এটি অনেক পরিবারে আর্থিক সংকট, ঋণগ্রস্ততা, পারিবারিক অশান্তি এবং তরুণদের নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে অল্প বয়সী তরুণদের একটি অংশ খুব সহজেই বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হচ্ছে। তাই শুক্রবারের জু’মার খুতবাকে কাজে লাগিয়ে এ বিষয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা সময়োপযোগী উদ্যোগ।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন, যশোরের উপ-পরিচালক মো. আবুল কাশেম বলেন, মানুষকে ধর্মীয় মূল্যবোধের আলোকে সচেতন করার পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও যথাসময়ে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। সকল উপজেলায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ইফা. ফিল্ড সুপাইভাইজারসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হয় এবং মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে প্রতি শুক্রবার জু’মার খুতবায় তা মুসল্লিদের সামনে তুলে ধরা হয়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিবেদনে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠেছে এ কারণে যে, শুধু অনলাইন জুয়া (ক্যাসিনো) নয় মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার, নারী ও শিশু নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, দুর্নীতি প্রতিরোধ, মৎস্য ও কৃষিসহ বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়েও মসজিদভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অর্থাৎ মসজিদের ধর্মীয় পরিবেশকে ব্যবহার করে সমাজের প্রয়োজনীয় বার্তা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।
যশোরের এই উদ্যোগকে শুধু একটি প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, বরং ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক সচেতনতা এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধকে একই সুতোয় গেঁথে জনকল্যাণে কাজে লাগানোর একটি উদাহরণ। বিশেষ করে অনলাইন জুয়ার (ক্যাসিনো) মতো নীরব সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে মসজিদভিত্তিক সচেতনতা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।
বাংলাদেশে ধর্মীয় বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে কাজ করা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাউন্ডেশন। তাই তাদের এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন। শুধু তথ্য প্রচার নয়, কোন এলাকায় অনলাইন জুয়া বা মাদকপ্রবণতা বেশি তা চিহ্নিত করে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, ইমাম ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ করা যেতে পারে।
জু’মার খুতবার কয়েক মিনিটের একটি সচেতনতামূলক বার্তা হয়তো একজন তরুণকে অনলাইন জুয়া (ক্যাসিনো) থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে, একটি পরিবারকে সর্বনাশ থেকে রক্ষা করতে পারে।
মন্তব্য করুন