
রিজাউল করিম, স্টাফ রিপোটার: উপকূল বলতেই নোনা জলের জীবন আর এই নোনা জলকে সঙ্গী করে বেচে থাকে উপকূলের মানুষেরা। লবণ জলে জীবন জ¦লে এটা যেন তাদের নৃত্য প্রয়োজনীয় সঙ্গী। ছোট থেকে খেলা করা, জামাÑকাপড় কাঁচা, গোসল করা থেকে শুরু করে নৃত্য প্রয়োজনীয় সকল কাজ এই নোনা জলের সাথে হয়ে থাকে। এভাবেই চলে উপকূল মানুষের জীবনজীবিকা। জলবায়ু পরির্বতনের প্রভাবে উপকূলে লবণাক্তর হার বেড়ে যাওয়ায় উপকূলের নারীদের মাঝে সৃষ্টি হচ্ছে বর্ণবাদ। লবণাক্তর প্রভাবে উপকূলের নারীরা ফর্সা থেকে দিন দিন হয়ে যাচ্ছে কালো। যার কারণে অনেকের বিয়ে বেগাতও ঘঠছে। কালো হওয়ার কারণে উপকূলের নারীদের বিয়ে না হওয়ায় মা বাবা পড়ে যাচ্ছে বিপদে। ফলে মেয়ের গায়ের রং ফর্সা থাকতে থাকতে অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন তারা। এদিকে অল্প বয়সে মেয়ের বিয়ে দেওয়ায় গর্ভধারণের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বেশির ভাগই নারীর। তবে কালো মেয়ে বিয়ে দিতে গিয়ে এদিকে আবার গুনতে হচ্ছে অনেক টাকা যৌতুক। সবকিছু মিলিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে উপকূলের নারীরা।
দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার বউ শিল্পী মজুমদার। তিনি বলেন, আমার যখন বিয়ে হয়েছিল তখন আমার গায়ের রং ফর্সা ছিল তবে বিয়ের পর নোনা পানিতে গোসল করে আমার গায়ের রং কালো হয়ে গেছে। জলবায়ু পরির্বতনের প্রভাবে উপকূলের হাজারো নারীর গায়ের রং এখন কালো। যার কারণে আমাদের অনেক সমস্যার সম¥খীন হতে হচ্ছে। আমাদের এখান থেকে একটা মেয়ে বিয়ে দিতে গেলে অনেক কষ্ট পেতে হয়। মেয়ে কালো দেখে কেউ নিতেতো চাই না আর চাইলে যৌতুকের বিনিময়ে বিয়ে দিতে হয়। তবে বেশির ভাগই মেয়ে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হয় গায়ের রং ফর্সা থাকতে থাকতে।
তেমনি একজন আমেনা। তিনি বলেন, নোনা পানির কারণে গায়ের রং পরিবর্তন হওয়ায় অনেক সম্মন্ধ ফিরে গেছে। ভালো ভালো সম্মন্ধ আসছে তবে তারা পছন্দ করছে না গায়ের রং কালো হওয়ার জন্য। তবে অনেকেই পছন্দ করছে তবে যৌতুকের বিনিময়ে। যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় সে সম্মন্ধ ও ভেঙে গেছে। শুধু আমি নয় আমার মতো এমনই ভোক্তভোগী অনেক নারী পাওয়া যাবে উপকূল অঞ্চলে। ত্বকের রং কালো হওয়ায় অনেক নারীকে স্বামীর ঘর পর্যন্ত ও ছাড়তে হচ্ছে।
তাদের মধ্যে একজন হালিমা বেগম। তিনি বলেন, ত্বকের রং কালো হওয়ায় আর মাথার চুল কমে যাওয়ায় আমাকে স্বামীর ঘর ছাড়তে হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্তর হার বেড়ে যাওয়ায় মাথার চুল পড়া, ত্বকের রং কালো হওয়া, মাসিক এর সময় সমস্যা দেখা দেওয়া, ঘা-পাচড়া দেখা দেওয়া যেন মেয়েদের লেগেই থাকে। এদিকে ত্বকের রং কালো হওয়ায় স্বামীর ঘরে অনেক কথার সম্মখীন হতে হয়েছে। এমন কি সব সময় অশান্তি লেগেই থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপকূলীয় এলাকার নারীদের গায়ের রং কালো হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লবণাক্ত পানি আর তাপমাত্রা বৃদ্ধিই দায়ী। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কম বয়সীই নারীরা ও পার পাচ্ছেন না। নারীই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এখন অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে।
মন্তব্য করুন