
রিয়াজ ইসলাম, জবি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইতিহাস বিভাগের ২১তম ব্যাচের নবীন বরণ ও ১৬তম ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠান রোববার (৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আউটকাম বেজড এডুকেশন কারিকুলাম বাধ্যতামূলক করার পর ইতিহাস বিভাগই সর্বপ্রথম এ কারিকুলাম প্রণয়ন করেছে।
তিনি আরও বলেন, আমি উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ২১তম ব্যাচের ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। অতীতে কোনো ব্যাচের ভর্তি কার্যক্রম দীর্ঘ তিন-চার মাস পর্যন্ত চলমান থাকত। এর ফলে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মাইগ্রেশনের সুযোগ সৃষ্টি হতো এবং বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের পরীক্ষাসহ একাডেমিক কার্যক্রমে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিত। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে একই দিনে ও একই সময়ে ক্লাস শুরু করা হয়েছে এবং একটি সমন্বিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা হয়েছে। এর আলোকে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, নতুন পথচলায় প্রত্যেককে নিজের মেধা, যোগ্যতা ও সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে ক্যারিয়ার গঠনে মনোযোগী হতে হবে। ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে মানুষের জীবনের একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, প্রত্যেককে এমন কিছু করে যেতে হবে, যার মাধ্যমে সমাজ ও দেশের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখা সম্ভব হয়। তা না হলে জীবনের প্রকৃত সার্থকতা অর্জিত হয় না।
ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে উপাচার্য আরও বলেন, আমাদের অতীতের অভিজ্ঞতা ও ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে। কিন্তু আমরা অনেক সময় ইতিহাস থেকে যথাযথ শিক্ষা গ্রহণ করি না বলেই জাতিগতভাবে পিছিয়ে পড়ছি। ইতিহাসের শিক্ষা ধারণ করে অন্যের অর্জনকে সম্মান করতে হবে। ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস বিনির্মাণে নির্মোহভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ বছরের পথচলার কথা উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও আমরা এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারিনি। তাই মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধানে এগিয়ে আসার। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে শুধু নিজস্ব বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করাই যথেষ্ট নয়। ইতিহাস শিক্ষার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন, তৃতীয় কোনো ভাষা শিক্ষা এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। দেশ ও সমাজ বিনির্মাণে এসব দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের নতুনভাবে পথচলা শুরু করে নিজেদের ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎ জীবন গঠনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শহীদ কাদের চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সচিব ডক্টর মোহাম্মদ জকরিয়া।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ডক্টর মোহাম্মদ জকরিয়া শিক্ষার্থীদের গবেষণার প্রতি অধিকতর মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কেবল পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; বরং নতুন প্রশ্ন উত্থাপন এবং সেই প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানের মানসিকতা তৈরি করতে হবে। ইতিহাসের শিক্ষার্থীদের পৃথিবীর সামগ্রিক বিষয়, সমাজের পরিবর্তন, মানুষের জীবন ও সভ্যতার বিকাশ সম্পর্কে গভীরভাবে জানার পাশাপাশি গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য প্রদান করেন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম, অধ্যাপক ড. নাছির আহ্মাদ এবং অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন। অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক ড. মোছাঃ খোদেজা খাতুন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ হাসান মফিজুর রহমান।
অনুষ্ঠানে ইতিহাস বিভাগের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো কৃতি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ‘রোল অব অনার’ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন।
মন্তব্য করুন